Home আঞ্চলিক ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ সংসদ সদস্য বাবু

‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ সংসদ সদস্য বাবু

26

“খুলনার অধিকাংশ সংসদ সদস্যরা যখন নিজেকে গুটিয়ে রেখেছিলেন করোনার ভয়ে। গুটিয়ে থাকা সংসদ সদস্যদের নিয়ে জনগণের মুখে মুখে যখন সমালোচনার ঝড়ও উঠছিলো। তখন প্রসংশা কুড়িয়েছেন খুলনা-৬ আসনের এই তরুন সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. আকতারুজ্জামান বাবু।”


মিলি রহমান:


করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সরকারের নির্দেশে সবধরনের মানুষ বাড়িতে অবস্থান করছেন। এমনকি দিন এনে দিন খাওয়া গরিব-অসহায় মানুষগুলো যখন বাধ্য হয়েই ঘরে থাকছেন, তখন ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ হয়ে গ্রামের পর গ্রাম ছুটে চলেছেন তিনি। খুলনার অধিকাংশ সংসদ সদস্যরা যখন নিজেকে গুটিয়ে রেখেছিলেন করোনার ভয়ে। গুটিয়ে থাকা সংসদ সদস্যদের নিয়ে জনগণের মুখে মুখে যখন সমালোচনার ঝড়ও উঠছিলো। তখন প্রসংশা কুড়িয়েছে খুলনা-৬ আসনের এই তরুন সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. আকতারুজ্জামান বাবু। সংসদীয় এলাকা কয়রা-পাইকগাছার জনগণের খোঁজ-খবর নেয়া এবং খাদ্যসামগ্রীর যোগান দেয়াই যেন তাঁর প্রতিদিনে কাজ।
করোনার প্রাদুর্ভবের ফলে দরিদ্র মানুষগুলো যখন আকাশপানে তাকিয়ে আছে তখন তাদের সাহায্যার্থে এগিয়ে এসে বরাবরের মতোই নজর কেঁড়েছেন খুলনা-৬ আসনের সরকার দলীয় এমপি মো. আকতারুজ্জামান বাবু। খাদ্যসামগ্রীর ব্যাগ বহন করে অভুক্ত, অসহায়, দরিদ্র, হতদরিদ্র মানুষগুলোর বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি। সরকারি অনুদান ছাড়া ৬ হাজার পরিবারকে সম্পূর্ণ নিজের অর্থে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করছেন।


এমপি আকতারুজ্জামান বাবু বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমি সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই মানুষের বাড়ি বাড়ি খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছি। আমি চাইলে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে পারতাম। কিন্তু এই অভুক্ত মানুষগুলোকে রেখে আমি ঘরে থাকতে পারি না। জনগণকে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সচেতন করতে ও করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরঞ্জাম ও খাদ্য সামগ্রী নিয়ে নিম্নবিত্ত দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষের পাশে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। দলীয় নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে কয়রা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিম্নবিত্ত, দিনমজুর, জেলে, অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সাবান ও মাস্ক বিতরণ করেছেন। তিনি করোনা ভাইরাসে আতঙ্কিত না হয়ে এটি প্রতিরোধে জনগণের সচেতনতা বাড়াতে লিফলেট বিতরণ করেছেন। এমপি বাবু বলেন, যে কোনো দুর্যোগ ও বিপদে আমি আমার সাধ্যমতো এলাকার সাধারণ দরিদ্র মানুষের পাশে সবসময় ছিলাম, বর্তমানেও আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব ইনশাআল্লাহ। তারই ধারবাহিকতায় আমার এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। নির্বাচনী এলাকায় কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবক টিমের মাধ্যমে এ খাবার সামগ্রী প্যাকেটিং ও বিতরণের কাজ চলমান রয়েছে। ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ও দেশের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে না আসা পর্যন্ত এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। দুই উপজেলার অসহায় পরিবার যাদের প্রতিদিনের কর্মে চলে সংসারের চাকা, তাদের প্রতিটি পরিবারের বাড়ি বাড়ি ঘুরে বিতরণ করা হবে এই খাবার সামগ্রী। তিনি চিকিৎসক, নার্সদের মনোবল বাড়াতে এবং সাহস জোগাতে কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, ব্যাপক আলোচনার কারণে করোনা ভাইরাস আতঙ্কে মানসিকভাবে অসহায়ত্ব বোধ করতে পারেন চিকিৎসার সাথে জড়িতরা; তারা যেন সাহস না হারান এ জন্যই কাজ করে যাচ্ছেন।


সরকারি বরাদ্দে তিনি পাইকগাছা উপজেলায় ১৪৫ টন চাল, পাইকগাছা পৌরসভায় ১৩ টন চাল, কয়রা উপজেলায় ১৩৫ টন চাল দিয়েছেন। নির্বাচনী এলাকার প্রায় ২০ হাজার জেলে পরিবার এবং ২২ হাজার পরিবার সামাজিক সুরক্ষার আওতায় বরাদ্দ পাচ্ছেন। এছাড়া তাঁর অনুপ্রেরনায় কয়রা-পাইকগাছার স্বেচ্ছাসেবি ও সামাজিক সংগঠনগুলো মানুষের সেবায় এগিয়ে এসেছেন। ওইসব সংগঠনগুলো প্রায় ৮/১০ হাজার পরিবারের পাশে দাড়িয়েছেন। অপর এক প্রশ্নের জবাবে এমপি বাবু বলেন, তাঁর নির্বাচনী এলাকায় ১৭টি ইউনিয়নে এবং ১টি পৌরসভায় ১২ শত মসজিদ রয়েছে। আসন্ন রমযান মাসে তিনি ওই সকল মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং খাদেমদের পরিবারগুলোকে চাল, ডাল, তেল, আলু, পিয়াজ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ‘যতদিন নভেল করোনার পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হয়, ততদিন ব্যক্তিগত এসব কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।’


তরুন সংসদ সদস্য হওয়ার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা রয়েছে তাঁর। ফলে নিজেই দরিদ্র ও সমস্যাগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করেছেন। সরকারি দলের এই সাংসদ আরো বলেন, বাংলাদেশের সর্বদক্ষিনের সুন্দরবন ঘেষা অঞ্চলের এমপি হওয়ায় প্রত্যেকটি পরিবারের হাঁড়ির খবরই আমাকে রাখতে হয়। সরকারের মাধ্যমে উপজেলাবাসী সহায়তা পাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দুঃখী মানুষের নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার নির্দেশে সরকার ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকতাদের মাধ্যমে এবং অন্যান্য সরকারি মাধ্যমে ব্যাপক খাদ্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে। সরকার করোনা পরিস্থিতি মোকাবলোয় বিজিএফ, বিজিডি, ১০টাকা কেজি চাল ও বিশেষ খাদ্য সহায়তা দিতে যে ব্যাপক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সঠিক বাস্তবায়ন হলে কোনো মানুষই অভুক্ত থাকবে না। নির্বাচনের সময় যেভাবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চেয়েছি ঠিক সেইভাবেই আমার নেতৃত্বে খাদ্য সামগ্রী অসহায়দের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেব।’