Home আঞ্চলিক মাতৃগর্ভে গুলিবিদ্ধ সেই সুরাইয়াকে সিআরপিতে ভর্তি

মাতৃগর্ভে গুলিবিদ্ধ সেই সুরাইয়াকে সিআরপিতে ভর্তি

8

মাগুরা প্রতিনিধি।।

মাগুরায় মাতৃগর্ভে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর জন্ম নেওয়া আলোচিত শিশু সুরাইয়াকে সোমবার দুপুরে ঢাকা (সভার) সিআরপিতে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে ১৫দিন ভর্তি রেখে তাকে ফিজিওথেরাপিসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হবে। সুরাইয়াকে সিআরপিতে ভর্তির খবরটি নিশ্চিত করেছেন তার বাবা বাচ্চু ভূঁইয়া।

বাচ্চু ভূইয়া জানান, মাগুরা হাসপাতালে মাতৃগর্ভে গুলিবিদ্ধ হয়ে জন্ম নেওয়া তার কন্য শিশু সুরাইয়া ধীরে ধীরে প্রতিবন্ধী হয়ে যাচ্ছে। ২০১৫ সালে জন্মের পর ঢাকার চিকিৎসকরা তাকে নিয়মিত সাভারে সিআরপিতে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার পারামর্শ দিয়েছিলেন। প্রথম প্রথম দু’একবার সেখানে নিয়ে তাকে চিকিকিৎসা করিয়েছেন। কিন্তু  তিনি সামান্য চা দোকানি, অর্থাভাবে তার চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যায়। যে কারণে সুরাইয়ার কোমর থেকে দুটি পায়ের নিচের অংশ অকেজো হয়ে যাওয়ায় সে হাঁটতে পারে না। ডান হাতটিতেও শক্তি নেই। ডান চোখটিও নষ্ট হয়ে গেছে। নানা শরীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে এরই মধ্যে সুরাইয়া বয়স বছর পেরিয়েছে। এবছর জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে পারিবারিক উদ্যোগে সুরায়াকে মাগুরা পুলিশ লাইন্স সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়েছে। কিন্তু শরীরিক অক্ষমতার কারণে সে ঠিকমত স্কুলে যেতে পারছে না। এই অবস্থায় তার স্কুলের শিক্ষিকা ফেরদৌসি জয়া মাধ্যমে সিআরপিতে ভর্তি করা হয়েছে। কতৃপক্ষ বলেছে, ১৫ দিন পর পর তাকে সিআরপিতে নিয়ে থেরাপি দিতে হবে।

বাচ্চু ভূইয়া বলেন, সুরাইয়াকে সিআরপিতে ভর্তির খবর জানতে পেরে মাগুরা আসনের সংসদ সদস্য সোমবার বিকেলে কিছু নগদ অর্থ সহায়তা করেছেন। এছাড়া তিনি আরও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

পুলিশ লাইন্স সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ফেরদৌসি জয়া বলেন, স্কুলে অন্য শিক্ষার্থীদের মতো সুরাইয়ার প্রতি তাদের দায়িত্ববোধ রয়েছে। তাছাড়া তার পরিবার শিশুটির সুচিকিৎসার জন্য উদগ্রীব। যে কারণে তিনি বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে লেখালেখি করেন। যা নিয়ে মিডিয়াতে সংবাদ প্রকাশ হয়। বিষয়টি নজরে আসে মাগুরার আইনজীবী ওহিদুর রহমান টিপুর। তিনি তার পূর্ব পরিচিত মাগুরার সন্তান সিআরপিতে কর্মরত কাজী বিল্লাল হোসেন নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। পরে সোমবার কাজী বিল্লাল হোসেনের মাধ্যমে সুরাইয়াকে সেখানে ভর্তি করা হয়।

মাগুরার জেলা প্রশাসক ড. আশরাফুল আলম বলেন, সুরাইয়ার পরিবার চাইলে শিশুটির চিকিৎসা, লেখাপড়াসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে জেলা প্রশাসন।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ২৩ জুলাই মাগুরা শহরের দোয়ার পাড় এলাকায় আধিপত্য নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে চলাকালে মাসের গর্ভবতী নাজমা বেগম পেটে গুলিবিদ্ধ হন। সময় মোমিন ভূইয়া নামে এক ব্যক্তি গুলিতে নিহত হন। ওই দিন রাতে মাগুরা সদর হাসপাতালের সার্জারি চিকিৎসক শফিউর রহমানের সফল অপারেশনের মাধ্যমে শিশু সুরাইয়কে পৃথিবীর আলো দেখান। পরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলির ক্ষত থাকায় সুইরায়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।