Home জাতীয় আদালতে অঝোরে কাঁদলেন ওসি প্রদীপ, দুষলেন লিয়াকতকে

আদালতে অঝোরে কাঁদলেন ওসি প্রদীপ, দুষলেন লিয়াকতকে

10

খুলনাঞ্চল রিপোর্ট।।

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানকে হত্যার মামলায় যুক্তিতর্ক বুধবার শেষ হয়েছে। কক্সবাজারের জেলা দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ইসমাঈল ৩১ জানুয়ারি রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেছেন। আদালত সূত্র জানিয়েছে, যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে আসামি ওসি প্রদীপ কুমার দাশ আদালতের কাঠগড়ায় কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি কিছু বলার জন্য অনুমতি প্রার্থনা করেন।

বিচারক অনুমতি দিলে প্রদীপ কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলী নিজেই গুলি করে সিনহাকে হত্যা করেছেন। আমি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নই।’ সময় বিচারক জানতে চান, আগে কেন তিনি স্বীকারোক্তি দেননি? জবাবে প্রদীপ বলেন, তিনি স্বীকারোক্তি দিতে রাজি ছিলেন। তবে ম্যাজিস্ট্রেট স্বীকারোক্তি নেননি। বাদীপক্ষের আইনজীবীরা আদালতকে বলেন, যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর্যায়ে আসামির বক্তব্য দেওয়ার বিধান নেই।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফরিদুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, সিনহা হত্যা মামলায় টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ১৫ আসামির সাজা হবে কিনা, তা জানা যাবে ৩১ জানুয়ারি। বিচারক রায়ের এই তারিখ নির্ধারণ করেছেন। এর আগে প্রদীপের পক্ষে অসমাপ্ত যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রানা দাশগুপ্ত। বুধবার আদালতে মামলার কার্যক্রম শুরু হলে ওসি প্রদীপের পক্ষে অসমাপ্ত যুক্তি উপস্থাপন করেন রানা দাশগুপ্ত।

দীর্ঘ সময় নিয়ে তিনি যুক্তি উপস্থাপন করে বলেন, ওসি প্রদীপ এই হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে কিছুই অবহিত নন। ঘটনার অনেক পর তিনি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। ইয়াবা কারবারিদের ষড়যন্ত্রে তাকে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর এপিবিএন চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ। ভ্রমণবিষয়ক একটি প্রামাণ্যচিত্র তৈরির জন্য প্রায় এক মাস ধরে কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকায় ছিলেন তিনি। ওই কাজে তার সঙ্গে ছিলেন স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের শিক্ষার্থী সাহেদুল ইসলাম সিফাত শিপ্রা দেবনাথ।

সিনহা হত্যাকাণ্ডে দেশব্যাপী ব্যাপক প্রতিবাদ হয়। কক্সবাজারের পুলিশ সে সময় বলেছিল, সিনহা তার পরিচয় দিয়ে তল্লাশিতে বাধা দেন। পরে পিস্তল বের করলে দায়িত্বরত পুলিশ তাকে গুলি করে। বিষয়টি উল্লেখ করে এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় একমাত্র আসামি করা হয় সিনহার সঙ্গী সিফাতকে।

কিন্তু সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের তৎকালীন ইনচার্জ লিয়াকত আলীসহ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে র‌্যাবকে তদন্তের দায়িত্ব দেন। তদন্ত শেষে র‌্যাব ১৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়।

আসামিরা হলেন, পরিদর্শক লিয়াকত আলী, ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল-মামুন, মোহাম্মদ মোস্তফা, এপিবিএনের এসআই মোহাম্মদ শাহজাহান, কনস্টেবল মোহাম্মদ রাজীব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, পুলিশের মামলার তিন সাক্ষী নুরুল আমিন, নেজাম উদ্দিন মোহাম্মদ আয়াজ, টেকনাফ থানার সাবেক কনস্টেবল রুবেল শর্মা এবং এএসআই সাগর দেব।

আসামিদের মধ্যে ওসি প্রদীপ কনস্টেবল রুবেল ছাড়া ১৩ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। গত বছরের ২৭ জুন কক্সবাজারের জেলা দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ইসমাইল মামলার অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। মামলায় ৮৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ৬৫ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।