খুলনাঞ্চল রিপোর্ট।।
দীর্ঘ ১১ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য অবশেষে ‘নবম জাতীয় পে-স্কেল’ অনুমোদন দিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নতুন কাঠামো অনুযায়ী সর্বনিম্নে ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা (১৪২% বৃদ্ধি) এবং সর্বোচ্চ ১ম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৫৬,০০০ টাকা (১০০% বৃদ্ধি) নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তে প্রায় ২৪ লাখ সক্রিয় সামরিক-অসামরিক কর্মী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত মিলিয়ে প্রায় ৩৩ লাখ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।
তবে সরকারি কর্মচারীদের মুখে হাসি ফুটলেও এই সিদ্ধান্তের সার্বিক প্রভাব নিয়ে সাধারণ মানুষ ও অর্থনীতিবিদদের মনে তৈরি হয়েছে শঙ্কা। ৩ ধাপে বাস্তবায়ন হতে যাওয়া এই নতুন পে-স্কেলে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। এর ফলে বাজারে অতিরিক্ত অর্থপ্রবাহ সৃষ্টি হয়ে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি আরও উসকে যাওয়ার ঝুঁকি দেখছেন বিশ্লেষকরা। তবে বাজার নিয়ন্ত্রণ ও চাপ সামলাতেই পুরো অর্থ একবারে না দিয়ে তিন ধাপে ছাড় করার কৌশল নিয়েছে সরকার।
এক নজরে নতুন বেতন কাঠামোর মূল দিকসমূহ:
বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া: ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে প্রথম ধাপের মূল বেতন কার্যকর হবে। পরবর্তী দুই ধাপে মূল বেতনের বাকি অংশ এবং ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে শতভাগ ভাতা কার্যকর হবে।
পেনশন সংস্কার: ‘ওয়ান র্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন’ (OROP) বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে স্বল্প আয়ের পেনশনারদের সুবিধার্থে নতুন ফর্মুলা চালু করা হয়েছে। ৯ হাজার টাকা বা তার কম পেনশনধারীদের পেনশন ১০০% পর্যন্ত বাড়বে।
সবার জন্য মোবাইল ভাতা: ডিজিটাল দাপ্তরিক কাজের অংশ হিসেবে এবারই প্রথম ১ম থেকে ২০তম—সব গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পাবেন মোবাইল ও ইন্টারনেট ভাতা।
বেসরকারি ও সংবাদমাধ্যম খাতের ওপর চাপ: অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির এ সময়ে বেসরকারি খাত ও সংবাদমাধ্যমেও নতুন বেতন কাঠামো হওয়া দরকার, অন্যথায় বৈষম্য বাড়বে।
সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও কেনাকাটার সক্ষমতা বাড়াতে এই অর্থপ্রবাহ অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি আনবে বলে মন্তব্য করেছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। অন্যদিকে, দুদকের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান মনে করেন, শুধু বেতন বাড়ালেই দুর্নীতি কমবে না, বরং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইন প্রয়োগ ও বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।











































