Home আঞ্চলিক বিজয় দিবসকে সামনে রেখে অর্ধকোটি টাকার ফুল বিক্রির টার্গেট

বিজয় দিবসকে সামনে রেখে অর্ধকোটি টাকার ফুল বিক্রির টার্গেট

147

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি।।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ত্রিলোচনপুর গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু হয়েছে জারবেরা ফুলের। কালীগঞ্জে নতুন অতিথি এখন জাবেরা ফুল। শুধু জারবেরাই নয় পাশাপাশি গ্লালোডিয়াস, চন্দ্রমল্লিকা, গোলাপ, ভূট্টা ফুল, লিলিয়াম স্ট্রবেরি ফল চাষে নজর কেড়েছে টিপু সুলতানের বাগান। নিজের প্রায় ১৭ বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছেন এই ফুলের বাগান। এই অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানেও পাঠানো হচ্ছে এই ফুল। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস, ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, ২১শে ফেব্রুয়ারি পহেলা ফাল্গুন এই তিন দিবসকে সামনে রেখে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ফুল বিক্রি করবেন বলে তিনি আশাবাদী। শুধু ফুল বিক্রিই নয় দূর দুরান্ত থেকে অনেকে এই বাগান আসেন দেখতে। প্রায়ই বিকেলে দর্শনার্থীরা ভিড় জমান ছবি তুলতে আর ফুল কিনতে। জানা গেছে, সর্বপ্রথম ২০১৮ সালের জুন মাসে প্রায় তিন বিঘা জমিতে প্রথম জারবেরা ফুলের বীজ রোপন করেন ফুলচাষী টিপু সুলতান। বীজ আনা হয় পাশ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে। আর ফুল খেতের ওপর ছাউনি দিতে একই দেশ থেকে আমদানি করা হয় বিশেষ ধরনের পলিথিন। যা তৈরি হয় ইউরোপের দেশগুলোতে। রোপনের তিন মাস পর গাছে ফুল আসতে শুরু করে। একটি গাছ একাধারে দুই থেকে তিন বছর ফুল দেয়। চলতি বছর এই উপজেলার ৩৫০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের ফুলের চাষ করা হয়েছে। যে কারণে এলাকাটি মানুষের কাছে ফুল নগরী বলে পরিচিত। বিদেশি জাতের এই জারবেরা ফুল লাল, সাদা, হলুদ গোলাপিসহ ৮টি বাহারি রঙের হয়ে থাকে। তবে এই ফুলের কোনো গন্ধ নেই। বিদেশি জাতের এই ফুলটি খেত থেকে তোলার পরও ১০ থেকে ১৫ দিন তাজা থাকে। যে কারণে বাজারে এই ফুলের চাহিদা বেশ। ফুলচাষি টিপু সুলতান জানিয়েছেন, ২০১৮ সালের জুন মাসে পাশ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে বীজ সংগ্রহ করে প্রথম ৯৬ শতক জমিতে রোপন করি। এরপর তিন মাস পর গাছে ফুল আসতে শুরু করে। বীজ রোপন, খেতের চারপাশে বাশেঁর বেড়া স্থাপন, উপরের ছাউনি, সার ওষুধ শ্রমিক খরচসহ পর্যন্ত ৩৩ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এই ফুল পরিচর্যা করার জন্য চারজন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করে। বর্তমানে ১৭ বিঘা জমিতে বিভিন্ন ফুল ফলের চাষ করছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, গত ছয় মাসে ২০ লাখ টাকার ফুল বিক্রি করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন দেড় হাজার থেকে হাজার ফুল সংগ্রহ করা যাচ্ছে বাগান থেকে। ফুলচাষি টিপু সুলতান আক্ষেপ করে বলেন, শত চেষ্টা করেও তিনি ফুল বাগানে বিদ্যুতের সংযোগ নিতে পারেননি। যে কারণে তার ফুল চাষ ব্যাহত হচ্ছেন। ফুলগাছে সেচ দিতেও তাকে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। কৃষিবিদ কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, জারবেরা ফুল চাষের জন্য অঞ্চলের মাটি আবহাওয়া বেশ উপযোগী। বছরের যেকোনো সময় চাষ করা যায়। শীত মৌসুমে উৎপাদন বেশি হয়। ছাড়া দেশের বাজারে এই ফুলে দাম চাহিদা বেশি। তবে এই ফুল লাভজনক হলেও খরচ বেশি হওয়ায় চাষ করতে পারছে না সাধারণ কৃষকরা। ঝিনাইদহ কৃষি বিপনন মাঠকর্মকর্তা মনোরঞ্জন চন্দ্র রায় জার্মান পরিবেশবিদ ডাক্তার ট্রগোট জারবেরের নামানুসারে ফুলটির নামকরণ করা হয়। জারবেরা ফুল চাষের জন্য অঞ্চলের মাটি আবহাওয়া বেশ উপযোগী। বিভিন্ন সময়ে উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সহায়তা দেওয়া হয়। এবার কালীগঞ্জে ৩৫০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ফুলের চাষ করা হয়েছে।