আক্রান্ত এক ব্যক্তির মৃত্যু # আরও চারজন আক্রান্ত # বিভাগীয় কমিটি গঠন # কেনাকাটার হিড়িকে পণ্যের দাম বেড়েছে # রাজধানী ছাড়ছেন অনেকে
বিশেষ প্রতিনিধি:
বাংলাদেশে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন আরও চারজন। এনিয়ে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১৪ জনে। এর মধ্যে তিনজন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং বর্তমানে চিকিৎসাধীন ১১। করোনা প্রতিরোধে জাতীয় কমিটির বৈঠকের পর বুধবার বিভাগীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কিডনি, ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ ও হৃদরোগে আক্রান্ত এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে কিছু মানুষ। বিশেষত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণার পর শহরের রাস্তা অনেকটাই ফাঁকা হয়ে গেছে। সাধারণ ভোক্তারা নিত্যপণ্য কেনাকাটা বাড়িয়ে দেয়ায় পণ্যের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। সভা সমাবেশ নিরুৎসাহিত করে ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে একাধিক ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত বিদেশ ফেরতরাই করোনা সংক্রমণের বাহক হিসেবে ভূমিকা রাখছেন। চলতি মাসে প্রবেশ করা বিদেশ ফেরতদের বড় অংশ এখনও কোয়ারেন্টাইনের বাইরে রয়ে গেছে। তবে প্রতিরোধ কমিটি ও এলাকাবাসীদের তৎপরতায় বুধবার কোয়ারেন্টাইনে যাওয়া মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। আত্মগোপনে যাওয়া বিদেশ ফেরতদের খুঁজে বেড়াচ্ছে প্রতিরোধ কমিটি। হাসপাতাল-গুলোতে করোনা উপসর্গের রোগী রাখতে এবং চিকিৎসকদের রোগী দেখতে অস্বীকৃত জানানোর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি সুরাহা করার জন্য আলোচনার চালিয়ে যাচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। বুধবারও নিয়ম না মানার অভিযোগে মাদারীপুর ও টাঙ্গাইলে দুই বিদেশ ফেরতকে অর্থ জরিমানা করে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদফতর, আইইডিসিআর ও জনকন্ঠ এ তথ্য জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের অন্য দেশের মতো বাংলাদেশেও করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি ও রোগী মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে দেশের মানুষ। করোনা প্রতিরোধ কমিটি গঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা, সচেতনতামূলক কার্যক্রম, হাসপাতালগুলোতে করোনা ইউনিট স্থাপন, নমুনা পরীক্ষাসহ দেশব্যাপী করোনা প্রতিরোধে নানা কর্মসূচী গ্রহণেও আশঙ্কামুক্ত থাকতে পারছে না সাধারণ মানুষ। বিদেশ ফেরতরাই এখন পর্যন্ত দেশে করোনা রোগী সংক্রমণের একমাত্র বাহক এবং তাদের বড় অংশ কোয়ারেন্টাইনের বাইরে থাকায় দেশবাসীর উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রধান কারণ।
- আইইডিসিআর’র ব্রিফিং
মহাখালীর আইইডিসিআর ভবনে করোনাভাইরাস নিয়ে নিয়মিত অবহিতকরণ প্রেস ব্রিফিংয়ে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা ফোরা সাংবাদিকদের জানান, মৃত্যু হওয়া করোনা রোগীটির বয়স ৭০ এর বেশি। তিনি বিদেশ ফেরত নন। বিদেশ থেকে আসা একজনের মাধ্যমে তিনি সংক্রমিত হয়েছেন। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আগেই ওই লোকটি বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় বিশেষ করে কিডনি, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস রোগে ভুগছিলেন এবং তার হার্টে রিং বসানো হয়েছিল। পরিচালক আরও বলেন, লোকটি শনাক্ত হয়েছিল মঙ্গলবার। তিনি আইসিইউতে ছিলেন। এছাড়া তিন পুরুষ ও এক নারীসহ নতুন আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা চার। তাদের বয়স ৫০, ৪০, ২০ ও ৩০ বছর। তাদের মধ্যে তিনজন বিদেশ ফেরত। একজন আক্রান্ত পরিবারের সদস্য। এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১৪ জনে। ডাঃ সেব্রিনা ফোরা আরও জানান, বয়স্করা উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন। তাই এ রোগ থেকে রক্ষা পেতে হলে ঘরে থাকতে হবে। একইসঙ্গে বিরত থাকতে হবে হাত মেলানো-কোলাকুলি, জনসমাগমে যাওয়া থেকেও।
- কোয়ারেন্টাইনে থাকার বিশেষ অনুরোধ
আইইডিসিআর পরিচালক অভিযোগ করেন, এখনও অনেক বিদেশ ফেরত আত্মগোপনে আছেন, কোয়ারেন্টাইনে যাচ্ছেন না। পাসপোর্ট অনুযায়ী ঠিকানায় তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তারা অন্য ঠিকানায় বাস করছেন। আর চিকিৎসকের কাছে গিয়েও তারা তথ্য গোপন করেন। এমন বিদেশ ফেরত মানুষদের খুঁজে পেতে তাদের আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবসহ পরিচিতি লোকদের সহযোগিতা কামনা করেন ডাঃ সেব্রিনা ফোরা। বিদেশ ফেরত এবং তাদের সংস্পর্শে আসা লোকদের অনুরোধ করে তিনি বলেন, বিদেশ ফেরত মানুষদের দ্বারা প্রথমে তাদের পরিবারের সদস্যরাই আক্রান্ত হবেন। তারপর তারা দেশ ও দেশের মানুষকে ঝুঁকিতে ফেলবেন। করোনার ঝুঁকি প্রশমিত করতে বিদেশ ফেরতদের কোয়ারেন্টাইনে থাকতেই হবে।
হাসপাতালগুলোতে করোনা উপসর্গের রোগী রাখতে এবং চিকিৎসকদের রোগী দেখতে অস্বীকৃত জানানোর বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডাঃ সেব্রিনা ফোরা বলেন, আমাদের কাছেও এ ধরনের খবর এসেছে। হাসপাতালগুলোর সঙ্গে একের পর এক আলোচনা চলছে। আশা করি সমাধান হয়ে যাবে। হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের নিরাপত্তা এবং তাদের করণীয় সম্পর্কে আলাপ আলোচনা চলছে। সব ঠিক হয়ে যাবে।
আইসোলেশনে ১৬ জন
অধ্যাপক ডাঃ সেব্রিনা ফোরা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৯টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে সন্দেহজনক রয়েছেন ১৬ জন। তারা হাসপাতালে আইসোলেশনে আছেন। সব মিলিয়ে হাসপাতালে আইসোলেশনে আছেন ১৬ জন। ৪২ জন আছেন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে। সবমিলিয়ে আইইডিসিআর ৩৪১টি নমুনা নিয়েছে। আর হটলাইনে করোনা সংক্রান্ত মোট কল এসেছে ৪ হাজার ৬৪২।
- প্রতি বিভাগে করোনা ইউনিট স্থাপন করা হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, এমপি বলেছেন, ‘খুব দ্রুতই দেশের ৮ বিভাগেই নতুন করোনা ইউনিট স্থাপন করা হবে। ইউনিটগুলো স্থাপনের ফলে প্রতি বিভাগে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের তথ্য, চিকিৎসা সুবিধাসহ সব ধরনের মনিটরিং ব্যবস্থা সহজ ও জোরদার হবে। প্রয়োজনে এজতেমার ময়দানকে প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বুধবার দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় দেশের চিকিৎসকদের প্রোটেকশনের জন্য বেক্সিমকো গ্রুপের চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান, এমপি ৬০০০ বিশেষ গাউন প্রদানের আশ্বাস দেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেনÑ প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারী শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা এবং বেক্সিমকো গ্রুপের চেয়ারম্যান- সালমান ফজলুর রহমান, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মোঃ আসাদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মোঃ আলী নূর, অতিরিক্ত সচিব মোঃ সিরাজুল ইসলাম, আইইডিসিআর এর পরিচালক অধ্যাপক ডাঃ মীরজাদী সাব্রিনা ফোরাসহ মন্ত্রণালয় এবং অধিদফতরের উর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
- করোনা প্রতিরোধ বিভাগীয় কমিটি গঠন
করোনাভাইরাস প্রতিরোধসহ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে জাতীয় ও জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কমিটির পর এবার বিভাগীয় পর্যায়ে কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। বিভাগীয় কমিশনারের সভাপতিত্বে কমিটিতে বিভাগীয় শহরের জেলা প্রশাসকসহ ১২ সদস্য রয়েছেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসককে অন্তর্ভুক্ত করে কমিটির অনুমোদন দিয়ে আদেশ জারি করেছে। করোনাভাইরাস সংক্রান্ত যে কোন তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ জাতীয় কমিটির পরামর্শ গ্রহণ করবে এই কমিটি। বিভাগীয় কমিটি করোনাভাইরাস প্রতিরোধ সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে। এছাড়াও করোনাভাইরাস প্রতিরোধের লক্ষ্যে সচেতনতা সৃষ্টি, প্রয়োজনে কোয়ারেন্টাইনসহ আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তার বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
- করোনা প্রতিরোধ জাতীয় কমিটি
করোনা প্রতিরোধে এর আগে চলতি মাসের ১ তারিখে একটি জাতীয়সহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও কমিটি গঠন করে সরকার। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের নেতৃত্বে ৩১ সদস্যের জাতীয় কমিটিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব, ১৮ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব; স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকসহ সরকারী-বেসরকারী হাসপাতালের চিকিৎসক রয়েছেন। এছাড়াও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, ইউনিসেফ এবং ইউএস এইডের প্রতিনিধি রয়েছেন। জাতীয় কমিটি দেশের অভ্যন্তরে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ সংক্রান্ত জাতীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, পর্যালোচনা এবং এ বিষয়ে প্রযোজনীয় দিক-নির্দেশনা দেন। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তার বিষয়ে পরামর্শ দান। স্থানীয় পর্যায়ের কমিটিসমূহকে প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দেয়া হবে।
- ঢাকা মেডিক্যালের চার চিকিৎসক কোয়ারেন্টাইনে
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চার চিকিৎসককে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এক করোনা রোগীর সংস্পর্শে আসায় তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখার সিদ্ধান্ত হয়। বুধবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। অধ্যাপক মুজিবুর রহমান জানান, কিডনি সমস্যা নিয়ে আট থেকে নয় দিন আগে বিদেশ ফেরত এক রোগী ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি হন। তার ডায়ালাইসিস করা হয়। লক্ষণ দেখে ডাক্তারদের সন্দেহ হয় তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন। পরীক্ষার জন্য উত্তরায় কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে পাঠানো হলে জানা যায় তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। বুধবার সকালে ঢামেকে এক জরুরী মিটিং শেষে ওই রোগীর চিকিৎসা করা চার চিকিৎসককে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়।
- রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে মানুষ
করোনা বিস্তারের সংবাদে ভয় আর আতঙ্কের মধ্যে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন ঢাকার মানুষ। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের পর থেকে ঘরমুখে মানুষের ভিড় বাড়ছে টার্মিনালগুলোতে। স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী অনেকে গণপরিবহন এড়িয়ে নিজস্ব গাড়ি বা ভাড়া করা প্রাইভেটকার নিয়ে ছুটছেন গ্রামের পথে। এদিকে ফাঁকা হয়েছে রাজধানী শহর। রাস্তায় কমে গেছে চিরচেনা যানজট। নেই দুর্ভোগ। অনেক গুরুতপূর্ণ পয়েন্টে ট্রাফিকদের কোন তদারকিই করতে হচ্ছে না। গণপরিবহনে যাত্রী সংখ্যা কমে আসছে। কমেছে প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলের সংখ্যা। উবারসহ এ্যাপভিত্তিক যানবাহন সার্ভিস নেমে এসেছে আগের তুলনায় অর্ধেকে। ফুটপাথ দখল করে ভাসমান ব্যবসা বাণিজ্য কমেছে। মার্কেট ও বিপণিবিতানগুলোতে কমেছে ক্রেতার সংখ্যা। অফিস আদালতে উপস্থিতির সংখ্যাও কমছে। জানা গেছে, বন্ধ ঘোষণার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ছাত্রাবাস ইতোমধ্যে ফাঁকা হয়ে গেছে। বন্ধে হয়ে গেছে কোচিং সেন্টার। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীদেরও ছুটি দেয়া হয়েছে। যাদের থাকার প্রয়োজন নেই তারাই কেবলমাত্র ছুটছেন বাড়ির দিকে। লঞ্চ, ট্রেন ও বাস টার্মিনালে দেখা গেছে যাত্রীদের ভিড়। তবে অভ্যন্তরীণ বিমান যোগাযোগ বন্ধের কারণে অনেকে দ্রুত সময়ে বাড়ি ফিরতে চাইলেও তা পারছেন না। অনেকে চারকির প্রয়োজনে ঢাকায় থাকলেও স্ত্রী-সন্তান বাড়ি পাঠিয়ে নিরাপদ বোধ করছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আতঙ্কিত না হয়ে করোনার বিরুদ্ধে সচেতন হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সচেতনতাই প্রাণঘাতী এই ভাইরাস রোধ করতে পারে। তারা বলছেন, যত সম্ভব গণপরিবহন এড়িয়ে চলতে হবে। ব্যবহার করতে হবে মাস্ক। জনসমাগম থেকে দূরে থেকে হাত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে আপনি ঘরের বাইরে যেখানে যাচ্ছেন, আপনার সঙ্গে পরিবারের সদস্যরাও যাচ্ছেন। কারণ আপনি ঘুরে ফিরে বাসায় ফিরছেন। যদি আপনি আক্রান্ত হন তবে পরিবারের সবার আক্রান্তের সম্ভাবনা থাকে। তাই পরিবার ও সকলের নিরাপত্তার স্বার্থে আগে নিজেকে সচেতন হতে হবে। বিশ্বের অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে আক্রান্তের সংখ্যা কম হলেও ঝুঁকিতে পিছিয়ে নেই। চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসটি বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে প্রবাসীদের মাধ্যমেই। বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের থেকে সংক্রমিত হয়েছেন কেউ কেউ। দিন দিন বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা।
গত কয়েকদিনে এই ভাইরাসে রোগী শনাক্ত হওয়ার পর সারাদেশের পাশাপাশি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ঢাকার পথে-ঘাটে। কর্মব্যস্ত দিন হলেও প্রয়োজন ছাড়া পথে নামছেন না নগরবাসী। যাত্রী না পাওয়ায় নগরীতে গণপরিবহনের সংখ্যাও কমে গেছে। গত দুইদিন বায়ুমান সূচকে ঢাকার অবস্থান শীর্ষ ১০-এর নিচে। অথচ করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার আগে বায়ুদূষণের সূচকে শীর্ষ ছিল ঢাকা। করোনা আতঙ্কে ক্রেতা সঙ্কটে পড়েছে ঢাকার বিপণিবিতানগুলো। অতি প্রয়োজন ছাড়া বিপণিবিতানে যাচ্ছেন না ক্রেতা-দর্শনার্থীরা। এতে বেচাকেনা কমেছে প্রায় ৫০ শতাংশ। আটকে গেছে ব্যবসায়ীদের বিপুল বিনিয়োগ। বিনোদন পার্ক, সিনেমাহলসহ জনসমাগমস্থল আপাদত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ইতোমধ্যে সিনেমা হল বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। অপরদিকে, সংক্রমণ রোধে স্থগিত করা হয়েছে দেশের অভ্যন্তরের সব ধরনের ক্রীড়া ইভেন্ট (খেলাধুলা)। আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত ঘরোয়া ও ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সব খেলা স্থগিত করা হয়েছে। ফলে রাজধানী ছেড়েছেন খেলোয়াড়রাও। বিদেশ থেকে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকায় আবাসিক হোটেলগুলোতেও বোডারদের উপস্থিতি কম। যারা রাজধানীতে রয়েছেন তাদের মধ্যে দেখা গেছে অতিরিক্ত সতর্কতা। পথে বাহির হলে মুখে মাস্ক ছাড়া কেউই বের হচ্ছেন না। স্যানিটাইজার ও মাস্ক কেনার রীতিমতো ধুম চলছে।
- কেনাকাটার হিড়িকে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে
করোনাভাইরাসের আতঙ্কে সাধারণ ভোক্তারা নিত্যপণ্যের কেনাকাটা আবার বাড়িয়ে দিয়েছেন। বিশেষ করে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি, আটা ও মাছ-মাংসের নিত্যপণ্য বিক্রি বেড়ে গেছে। ভোগ্যপণ্যের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, প্রথম যেদিন দেশে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছিল সেদিন পাল্লাপাল্লি করে সবাই হুমড়ি খেয়ে বাজার থেকে মেডিক্যাল সামগ্রী মাস্ক, স্যানিটাইজার ও হ্যান্ডওয়াশ কিনেছে। এতে করে ওই সময় এসব পণ্যের দাম কয়েকগুণ বেড়ে যায়। আবার এখন খাদ্যপণ্য কিনছে। এতে করে খাদ্যপণ্যের বিক্রি বাড়ার পাশাপাশি দামও কিছুটা বেড়েছে। তবে বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাড়তি পণ্য কিনে মজুদ করার প্রয়োজন নেই। দেশে খাদ্যপণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক রাখতে কাজ শুরু করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ কমিটি।











































