Home আঞ্চলিক প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে সাশ্রয়ী কম্বাইন হার্ভেস্টার

প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে সাশ্রয়ী কম্বাইন হার্ভেস্টার

9
ছবি: কম্বাইন হার্ভেস্টার যন্ত্র দিয়ে চলছে ধান সংগ্রহ। গতকাল চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার হিজলগাড়ি এলাকায়

>>খেত থেকে ধান সংগ্রহ

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি ।।

৪০ শতক জমিতে ধান চাষ করেছেন কৃষক সাব্বির আহমেদ। গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁর জমির ধান কাটা উপলক্ষে যেন উৎসব হয়ে গেল। একদিকে প্রচলিত পদ্ধতিতে ধান সংগ্রহের কাজে লেগে পড়েন আটজন কৃষিশ্রমিক। আরেক দিকে চলে কম্বাইন হার্ভেস্টারে ধান সংগ্রহ।

দেখা গেল, কম্বাইন হার্ভেস্টারে মাত্র ১৭ মিনিটে ২০ শতক জমির ধান কেটে মাড়াই বস্তাবন্দী করা হয়ে গেছে। অপর দিকে আটজন কৃষিশ্রমিকের ধানকাটা মাড়াইয়ে সময় লেগে যায় ঘণ্টা ৩২ মিনিট।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার হিজলগাড়ি গ্রামের কেরুজ মাঠের ধানখেতে প্রচলিত যান্ত্রিক উপায়ে ধান সংগ্রহের পরীক্ষামূলক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এসিআই মটরস তাদের ইয়ানমার ব্র্যান্ডের কম্বাইন হার্ভেস্টারের গুণাগুণ কৃষক পর্যায়ে দেখাতে আয়োজন করে।

ধান সংগ্রহ উপলক্ষে গতকাল সকালে কেরুজ মাঠে কৃষক সাব্বির আহমেদের ধানখেতের পাশেই বিশালাকার লাল রঙের তাঁবু টাঙানো হয়। সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে একযোগে প্রচলিত যান্ত্রিক উপায়ে ধান কেটে সংগ্রহের কাজ শুরু হয়। সেখানে স্থানীয় কৃষক, এসিআই মটরসের কর্মকর্তা, কম্বাইন হার্ভেস্টারের মালিক গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ধান সংগ্রহ শেষে কৃষক সাব্বির আহমেদ জানান, প্রচলিত উপায়ে ২০ শতক জমিতে পাওয়া গেছে ৪৬৮ দশমিক ২৩ কেজি ধান। সেখানে কম্বাইন হার্ভেস্টারে সমপরিমাণ জমিতে পাওয়া গেছে ৪৯২ দশমিক ৭৯ কেজি।

স্থানীয় কৃষক আলমগীর হোসেন বলেন, প্রচলিত উপায়ে এক বিঘা জমির ধান কাটা, মাড়াই বস্তাবন্দী করতে আটজন কৃষিশ্রমিক লাগে। বর্তমান শ্রমমূল্য অনুযায়ী প্রতিটি শ্রমিক ৫০০ টাকা হিসাবে আটজন শ্রমিকের পেছনে খরচ হয় হাজার টাকা। সেখানে হাজার ৮০০ থেকে ২০০০ টাকায় একই কাজ সুন্দরভাবে করা যাচ্ছে।

পরীক্ষামূলক এই অনুষ্ঠানে এসিআই মটরসের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোডাক্ট ম্যানেজার কে এম রাইসুল আলম খান বলেন, কম্বাইন হার্ভেস্টার ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষক কম খরচে খেতের ধান বাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে আসতে পারেন। এতে সরাসরি কৃষকেরা তুলনামূলক অর্ধেকের কম খরচে এবং স্বল্প সময়ে খেত থেকে ধান সংগ্রহ করতে পারেন।

পরীক্ষামূলক এই অনুষ্ঠান দেখতে আসা কৃষক তসলিম উদ্দিন, আবদুল কুদ্দুস শামসুল ইসলাম জানান, তাঁরাও এখন থেকে ধান সংগ্রহে কম্বাইন হার্ভেস্টার ব্যবহার করবেন।

ডিহি গ্রামের তোফাজ্জেল হোসেন জানান, তিনি নিজে একটি এবং নিকটজনেরা আরও চারটি কম্বাইন হার্ভেস্টার ভর্তুকি মূল্যে কিনেছেন। সব কটিই তত্ত্বাবধান করেন তিনি। মাত্র দুই বছরেই দুটি যন্ত্রের দাম পরিশোধ করেছেন। শিগগিরই বাকি দুটি যন্ত্রের দামও পরিশোধ করবেন। তোফাজ্জেল দাবি করেন, একটি যন্ত্রে তিনি এক দিনে সর্বোচ্চ ৩২ বিঘা জমির ধানকাটা, মাড়াই বস্তাবন্দী করেছেন। পরিকল্পিত উপায়ে কাজে লাগালে কম্বাইন হার্ভেস্টার কিনে অনেকেই বেকারত্বের হাত থেকে রক্ষা পাবেন।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তালহা জুবাইর মাসরুর জানান, কৃষি যত আধুনিক হচ্ছে, কৃষিতে যন্ত্রের ব্যবহার তত বাড়ছে। সরকার কৃষিযন্ত্রের ওপর ভর্তুকি দিচ্ছে। আগে ধান সংগ্রহে কৃষকেরা শুধু শ্রমিকের ওপর নির্ভর ছিল। এখন শ্রমিকের পাশাপাশি বড় বড় কম্বাইন হার্ভেস্টার মাঠে লক্ষ করা যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, কেবল সদর উপজেলাতেই এই আউশ মৌসুমে ৫০টির বেশি কম্বাইন হার্ভেস্টার দিয়ে ধান কাটা হচ্ছে। এতে সময় অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে কৃষকের।