স্টাফ রিপোর্টার
খুলনা জেলা পরিষদের সাবেক প্রধান সহকারী মো. মিজানুর রহমানকে ৪৯ লাখ ৩৪হাজার ৬০৮টাকা আত্মসাতের মামলায় গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে মামলা দায়েরের পর দুপুরে খুলনা জেলা পরিষদের সামনে থেকে তাকে গ্র্রেফতার করা হয়। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. শহীদুল ইসলাম জেল হাজতে প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন। মিজানুর রহমান নগরীর টুটপাড়া মহিরবাড়ি খালপাড় এলাকার বাসিন্দা এবং মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানার লুন্দী গ্রামের মৃত. দলিল উদ্দিন তালুকদারের ছেলে। বর্তমানে সে মাগুরা জেলা পরিষদে কর্মরত আছেন।
দুদক খুলনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক তরুন কান্তি ঘোষ বাদী হয়ে দ-বিধির ৪০৯, ৪২০ ধারাসহ ১৯৭৪সনের ২নং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় ৪৯ লাখ ৩৪হাজার ৬০৮টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মিজানের নামে মামলাটি করেন। তিনি বলেন, মিজানের বিরুদ্ধে সিডিউল বিক্রি বাবদ ২৬ লাখ ১৮ হাজার ৯৮০ টাকা, ভ্রমণ ভাতা বাবদ ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০৮ টাকা, খেয়াঘাটের খাস আদায় বাবদ ২১ লাখ ৩২ হাজার ১২০ টাকাসহ সর্বমোট তিনি ৪৯ লাখ ৩৪ হাজার ৬০৮ টাকা আত্মসাৎ করেন। ১৮ নভেম্বর পে-অর্ডারের মাধ্যমে খুলনা জেলা পরিষদ কোষাগারে মিজান ১৩ লাখ টাকা জমা দিয়েছেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, গত বছরের ৯ জুলাই খুলনা বিভাগের পরিচালক হোসেন আলী খোন্দকার (যুগ্মসচিব) জেলা পরিষদ পরিদর্শনে এলে তার কাছে মিজানুরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলা হয়। অভিযোগ তদন্তের পর ১৯ আগস্ট স্থানীয় সরকার সচিব বরাবর প্রতিবেদন দেয়া হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১২-১৩ সাল থেকে ২০১৫-১৬ সাল পর্যন্ত উন্নয়ন কাজের জন্য ৯০ লাখ ২১ হাজার ৭৩০ টাকার সিডিউল বিক্রি করে ৬৬ লাখ ৬২ হাজার ৯৫০ টাকা কোষাগারে জমা দেয়া হয়। কিন্তু ৯৫টি সিডিউল বিক্রির হিসাব পাওয়া যায়নি। মিজানুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ এগুলো বিক্রির ২৩ লাখ ৫৮ হাজার ৭৮০ টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া ২০১৭ সালের জুন থেকে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঢাকা-খুলনা এবং খুলনা-ঢাকা ভ্রমণ দেখিয়ে তিনি এক লাখ ৮৩ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ সময় তিনি দফতরে উপস্থিত ছিলেন। দৌলতপুর মহেশ্বরপাশা খেয়াঘাটের ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের ইজারার ২০ লাখ ৮০ হাজার টাকা, ভ্যাট বাবদ পাঁচ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং ট্যাক্স বাবদ এক লাখ ৯০ হাজার টাকা তার আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। গত ৩ ফেব্রুয়ারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে খুলনা জেলা পরিষদে অভিযান চালায় দুদক। সে সময় তদন্তে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। বিভিন্ন কাজের দরপত্র বিক্রির ২৩ লাখ টাকা, খেয়াঘাট ইজারার ২০ লাখ টাকা ও টিএ বিল বাবদ ১ লাখ ৮৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে দুদক খুলনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক তরুন কান্তি ঘোষ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।










































