- মো. ফরিদ আহমেদ
রোগীর মৃত্যুর পর ক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতালে ভাঙচুর করেনখুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে লবণচরা থানায় ওই হাসপাতালের মালিকসহ চার জনের নামে অবহেলাজনিত হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মহানগরীর লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবুল খায়ের এ তথ্য নিশ্চিত করেন। মামলায় অভিযুক্তরা হলেন– আরাফাত হাসপাতালের পল্লী চিকিৎসক ডা. মো. কামরুজ্জামান (৪৫) ও পরিচালক রিয়াজুল হোসেন খান মুরাদ (৩০), অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসক খান ওমর ফারুক (৬০) এবং শেখ আবু নাসের হাসপাতালের চিকিৎসক মো. আবু তাহের (৪৫)।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৭টার দিকে লবণচরা বান্দা বাজার এলাকায় আরাফাত হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর মো. ইলিয়াস হোসেন (৫৮) নামে ওই রোগীর স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওই হাসপাতালে ভাঙচুর করেন। ইলিয়াস খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) ৩১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর অফিসের নিরাপত্তা প্রহরী ছিলেন।
মহাগরীর লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবুল খায়ের বলেন, ‘রোগীর মৃত্যুর পর তার স্বজনরা হাসপাতালে চড়াও হওয়ার পর পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।শুক্রবার নিহতের লাশ দাফনের পর সকালে ইলিয়াসের ছেলে শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে চারজনের নামে অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যুর অভিযোগ এনে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্তের জন্য উপপরিদর্শক (এসআই) কাজী আকরাম হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
কেসিসির ৩১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আরিফ হোসেন মিঠু বলেন, ‘ইলিয়াস টনসিলজনিত সমস্যায় পরামর্শ নিতে আরাফাত হাসপাতালে যান। ওই হাসপাতালের ডাক্তার কামরুজ্জামান তাকে ভর্তি হতে বলেন। বিকাল ৫টায় তার অপারেশন করা হয়। কিন্তু ভুল চিকিৎসার কারণে অপারেশন টেবিলেই তার মৃত্যু হয়। এরপর হাসপাতাল থেকে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে রাত ৭টার দিকে মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। এ অবস্থায় রোগীর স্বজন ও ক্ষুব্ধ জনতা ওই হাসপাতালে ভাঙচুর করে। মৃতের স্বজনদের সঙ্গে পরামর্শ করে শুক্রবার সকালেই এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।’
মিঠু আরও বলেন, ‘ইতোপূর্বে আরাফাত হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার একাধিক ঘটনা ঘটে। তখন হাসপাতাল মালিক কামরুজ্জামানকে জরিমানাও করা হয়।’
হাসপাতালের চিকিৎসক মো. কামরুজ্জামান জানান, বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার দিকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রাক্তন নাক, কান ও গলা রোগ বিশেষঞ্জ ডা. খান ওমর ফারুক এবং তার সহকারী মনিরুল ইসলাম রোগীর অপারেশন করেন। রোগীকে অজ্ঞান করেন শেখ আবু নাসের হাসপাতালের অ্যানেসথেশিয়া বিশেজ্ঞ ডা. আবু তাহের। তাদের চিকিৎসায় কোনও ভুল ছিল না। হার্ট অ্যাটাকে ওই রোগী মারা গেছেন।’











































