Home আন্তর্জাতিক তাইওয়ান কখনোই চীনের হবে না : প্রেসিডেন্ট লাই

তাইওয়ান কখনোই চীনের হবে না : প্রেসিডেন্ট লাই

3

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।

গণতন্ত্র রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দ্বীপদেশটি কখনোই চীনের অংশ হবে না।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, রবিবার নিজের দল ডেমোক্রেটিক প্রোগ্রেসিভ পার্টির (ডিপিপি) বার্ষিক সম্মেলনে বেইজিংয়ের দিক থেকে আসা ‘লাল সন্ত্রাস’ রুখে দিতে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই বছর আগে নির্বাচিত হওয়া লাই এবং তার ক্ষমতাসীন দল ডিপিপি তাইওয়ানের স্বতন্ত্র পরিচয়ের পক্ষে সোচ্চার। বেইজিং এই অবস্থানকে বিচ্ছিন্নতাবাদ হিসেবে দেখে এবং তাইওয়ানকে তাদের নিজস্ব ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে আসছে।

সম্প্রতি বেইজিং একটি নতুন ‘জাতিগত সংহতি আইন’ করেছে, যার ভিত্তিতে চীনের সীমানার বাইরে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে পারবে বেইজিং। এই আইন তাইওয়ানকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে, কারণ এর মাধ্যমে বেইজিং তথাকথিত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের গ্রেপ্তার বা বিচার করার আইনি অজুহাত পাবে। এ অবস্থায় চীনের ‘আইনি যুদ্ধ’ বা ‘লিগ্যাল ওয়ারফেয়ার’-এর দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, শান্তির সময়েও তাইওয়ানকে সতর্ক থাকতে হবে। যদিও চীন এই আইনের সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং তাইওয়ানের ওপর চীনা বিচারব্যবস্থার কোনো এখতিয়ার নেই।

প্রেসিডেন্ট লাই তার বক্তব্যে মান্দারিনের পরিবর্তে স্থানীয় তাইওয়ানিজ ভাষা (হোক্কিয়েন) ব্যবহার করে বলেন, ‘আমি আশা করি দলের কর্মীরা সামনের সারিতে থেকে ঐক্যবদ্ধ হবেন এবং তাইওয়ানের সমাজের ওপর চীনের লাল সন্ত্রাসের হুমকি মোকাবেলা করবেন। ’

তিনি আরো বলেন, আমাদের গণতান্ত্রিক ও মুক্ত জীবনধারা রক্ষায় একযোগে কাজ করতে হবে। আমরা কিছুতেই ‘গণতান্ত্রিক তাইওয়ান’কে পুনরায় ‘চীনের তাইওয়ান’-এ পরিণত হতে দেব না।

চীনের তাইওয়ানবিষয়ক দপ্তর লাইয়ের এই বক্তব্যের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে বেইজিং তাকে বরাবরই ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ হিসেবে অভিহিত করে আলোচনার প্রস্তাব বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে।

ডিপিপির চেয়ারম্যান লাই পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, তাইওয়ান ইতিমধ্যে একটি স্বাধীন দেশ, যার সাংবিধানিক নাম ‘রিপাবলিক অব চায়না’। এটি কোনোভাবেই ‘পিপলস রিপাবলিক অব চায়না’র অধীন নয়।

তিনি বলেন, ‘যেকোনো জাতিগোষ্ঠী বা যারা আগে বা পরে এখানে এসেছেন যারা তাইওয়ানের সঙ্গে একাত্মতা বোধ করেন, তারাই এই দেশের মালিক। তাইওয়ানের ভবিষ্যৎ অবশ্যই এখানকার ২৩ মিলিয়ন মানুষ মিলে নির্ধারণ করবে।’

প্রসঙ্গত, ১৯৪৯ সালে মাও সে তুংয়ের কমিউনিস্টদের কাছে গৃহযুদ্ধে হেরে ‘রিপাবলিক অব চায়না’ সরকার তাইওয়ানে পালিয়ে আসে। এর পর থেকে কোনো সরকারই অপরকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি এবং গৃহযুদ্ধ শেষ করার জন্য কোনো শান্তি চুক্তি বা যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরিত হয়নি।