Home খেলাধুলা আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের বিতর্কিত রেফারিং নিয়ে ফিফার ব্যাখ্যা

আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের বিতর্কিত রেফারিং নিয়ে ফিফার ব্যাখ্যা

1


স্পোর্টস ডেস্ক

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর আর্জেন্টিনা–মিশর ম্যাচে বিতর্কিত রেফারিংয়ের নানা সিদ্ধান্ত নিয়ে অবশেষে ব্যাখ্যা দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। সংস্থাটির প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়েরলুইজি কলিনা বলেছেন, ম্যাচে নেওয়া সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তই নিয়ম মেনেই হয়েছে এবং ভিডিও সহকারী রেফারির হস্তক্ষেপও ছিল যথাযথ।

সবচেয়ে বেশি বিতর্কের জন্ম দেয় ম্যাচের ৬২তম মিনিটের একটি ঘটনা। সে সময় মিশরের মোস্তফা জিকো গোল করে দলের ব্যবধান ২–০ করেছিলেন। কিন্তু পরে ভিডিও সহকারী রেফারির পর্যালোচনায় দেখা যায়, গোল হওয়ার আগে আক্রমণ গড়ার সময় মিশরের মারওয়ান আতিয়া আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজের ওপর ফাউল করেছিলেন। সেই কারণেই গোলটি বাতিল করা হয়।

কলিনা বলেন, ‘প্রতিটি গোলের পর ভিডিও সহকারী রেফারি আক্রমণ গড়ে ওঠার পুরো প্রক্রিয়া পরীক্ষা করেন। যদি গোলের আগে কোনো ফাউল ধরা পড়ে এবং সেটি গোলে প্রভাব ফেলে, তাহলে মাঠের রেফারিকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দেওয়া হয়। ঘটনাটি গোল থেকে কত দূরে ঘটেছে বা কত সময় আগে ঘটেছে, তার কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফাউল মানেই ফাউল। মাঠের রেফারি যদি সেটি দেখতে না পান, তাহলে ভিডিও সহকারী রেফারি অবশ্যই হস্তক্ষেপ করতে পারেন।’

ম্যাচের শেষদিকে আরও একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মিশর। তাদের দাবি ছিল, আর্জেন্টিনার হুলিয়ান আলভারেসের চ্যালেঞ্জে মোহাম্মদ সালাহকে ফেলে দেওয়া হলেও পেনাল্টি দেওয়া হয়নি। এরপরই পাল্টা আক্রমণে ৯২তম মিনিটে জয়সূচক গোল করে আর্জেন্টিনা।

এ প্রসঙ্গে কলিনা বলেন, ‘রেফারি এবং ভিডিও সহকারী রেফারি দুজনই মনে করেছেন, এটি স্বাভাবিক ফুটবলীয় সংঘর্ষ ছিল। ডিফেন্ডার যদি আগে বল স্পর্শ করেন এবং পরে স্বাভাবিকভাবে প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংস্পর্শে আসেন, তাহলে সেটিকে ফাউল বলা যায় না।’

রেফারিদের সততা নিয়ে ওঠা প্রশ্নেরও জোরালো জবাব দেন কলিনা।

তিনি বলেন, ‘ফুটবলে সিদ্ধান্ত নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা সবসময়ই থাকবে। কিন্তু ভিত্তিহীন অভিযোগের কোনো জায়গা নেই। কেউই বিশ্বকাপের রেফারিদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন না। এমন অভিযোগ তাদের এবং তাদের পরিবারের জন্য হুমকির পরিবেশ তৈরি করতে পারে, যা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফিফার রেফারিং কার্যক্রম কারও প্রভাবে পরিচালিত হয় না, এমনকি ফিফা সভাপতিরও নয়। তিনি সবসময় আমাদের প্রতি আস্থা রেখেছেন এবং স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিয়েছেন। খেলোয়াড় ও কোচদের মতো রেফারিরাও সৎভাবে নিজেদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন।’