Home আঞ্চলিক রাতভর বৃষ্টিতে খুলনায় জলাবদ্ধতা, আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা

রাতভর বৃষ্টিতে খুলনায় জলাবদ্ধতা, আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা

2


স্টাফ রিপোর্টার।।


রাতভর টানা বৃষ্টিতে কয়েক দিনের তীব্র গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়া থেকে স্বস্তি ফিরেছে খুলনাবাসীর জনজীবনে। তবে এই বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় অফিসগামী মানুষ ও যানবাহনচালকদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। খুলনা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নগরীতে ৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামী ৪৮ ঘণ্টায় আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত নগরীর শিববাড়ি, সোনাডাঙ্গা, নিরালা, রয়্যাল মোড়, দৌলতপুর, খালিশপুর ও টুটপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার সড়কে বৃষ্টির পানি জমে থাকতে দেখা যায়। এতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, রিকশা ও ইজিবাইকচালকদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। তবে কৃষকদের জন্য এই বৃষ্টি আশীর্বাদ হয়ে এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

খুলনার ইজিবাইকচালক আজিজুর রহমান বলেন, পেটের দায়ে সারারাত বৃষ্টির পরও রাস্তায় নামতে হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন সড়কে পানি জমে থাকায় ইজিবাইক চালাতে ঝুঁকি থাকে। ব্যাটারিতে পানি ঢুকলে গাড়িটি নষ্ট হয়ে যেতে পারে, তখন বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। বৃষ্টি হওয়া অবশ্যই ভালো, এতে গরম কমে এবং কৃষিও উপকৃত হয়। তবে রাস্তায় দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় আমাদের মতো চালকদের দুর্ভোগ অনেক বেড়ে যায়।

সকালে মোটরসাইকেলে করে ব্যাংকে যাওয়ার পথে পথচারী হোসাইন বলেন, সারারাতের বৃষ্টিতে গরম থেকে স্বস্তি মিলেছে। কৃষির জন্যও এই বৃষ্টি খুবই উপকারী, বিশেষ করে আমন চাষে এর সুফল মিলবে। তবে খুলনার রয়্যাল মোড়ে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়। আজও সেখানে জলাবদ্ধতার কারণে অফিসে যেতে বেশ ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। প্রতি বর্ষায় একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হয়।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের খুলনা আঞ্চলিক পরিদর্শন কেন্দ্রের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. মিজানুর রহমান বলেন, খুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসুমি বায়ু বর্তমানে সক্রিয় থাকায় আগামী ৪৮ ঘণ্টায় খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে আরও বৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে নিম্নাঞ্চলে সাময়িক জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খুলনার উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক এই বৃষ্টিপাত কৃষির জন্য অত্যন্ত উপকারী। বিশেষ করে আমন মৌসুমের বীজতলা তৈরিতে কৃষকদের অনেক সুবিধা হবে। বৃষ্টি না হলে সেচের ওপর নির্ভর করতে হতো, এতে সময় ও খরচ দুটোই বেড়ে যায়। তবে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে কিছু পেঁপে গাছের গোড়া নরম হয়ে হেলে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া এই বৃষ্টিতে ফসলের তেমন কোনো ক্ষতির আশঙ্কা নেই।

তিনি আরও বলেন, কৃষকদের উচিত এই অনুকূল আবহাওয়া কাজে লাগিয়ে দ্রুত আমনের বীজতলা প্রস্তুত করা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরও প্রয়োজনীয় বীজ, সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণসহ সরকারি সহায়তা দ্রুত কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করছে, যাতে তারা সময়মতো চাষাবাদ শুরু করতে পারেন।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দীন বলেন, খুলনা নগরীতে জলাবদ্ধতার অন্যতম প্রধান কারণ হলো জোয়ারের সময় বৃষ্টির পানি দ্রুত রূপসা নদীতে নিষ্কাশিত হতে না পারা। এর সঙ্গে ড্রেনেজ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, খাল-নালা দখল ও ভরাট এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে স্বল্প সময়ে অতিবৃষ্টির প্রবণতাও বেড়েছে। তাই শুধু ড্রেন পরিষ্কার করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। সমন্বিত জলাবদ্ধতা ব্যবস্থাপনা, খাল-নালা পুনরুদ্ধার এবং প্রাকৃতিক পানি প্রবাহের পথ সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ ও কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি।