মিলি রহমান।।
বর্ষার বৃষ্টিতে ভিজতে কার না মন চায়? কিন্তু এর ঝক্কিও কম নয়। কারও কারও বৃষ্টিতে ভেজার কারণে সহজেই সর্দি-কাশি লেগে যায়। কারও আবার ধারনা বৃষ্টির পানিতে ভিজলেই চুল পড়ে যায়। অনেকেরই প্রশ্ন আসলেই কি এটা ঠিক? বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃষ্টির পানি নিজে থেকে চুল পড়ার কারণ নয়। তবে বৃষ্টিতে ভিজে চুলের সঠিক যত্ন না নিলে মাথার ত্বক ও চুলের ক্ষতি হতে পারে, যার ফলে চুল ভাঙা বা ঝরে পড়ার সমস্যা বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃষ্টির পানি বিশেষ করে শহরাঞ্চলে পুরোপুরি বিশুদ্ধ থাকে না। শিল্পকারখানার ধোঁয়া, যানবাহনের দূষণ এবং বাতাসে থাকা বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে সেটিকে কিছুটা অম্লীয় করে তুলতে পারে। এই পানি দীর্ঘক্ষণ মাথার ত্বকে লেগে থাকলে মাথার ত্বকের স্বাভাবিক পিএইচের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এর ফলে চুলকানি, খুশকি, জ্বালাভাব বা চুল ভেঙে যাওয়ার মতো বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। বৃষ্টিতে ভেজার পর যদি চুল দীর্ঘ সময় ভেজা অবস্থায় থাকে, তাহলে মাথার ত্বকে অতিরিক্ত স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ তৈরি হয়। এই পরিবেশে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া সহজে বংশবিস্তার করতে পারে। এর ফলে মাথার ত্বকে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। এর ফলে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
বৃষ্টিতে ভেজার পর চুল সুস্থ রাখতে কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চলা জরুরি। যেমন-
>>বাড়িতে ফিরে যত দ্রুত সম্ভব পরিষ্কার পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। তাহলে বৃষ্টির পানিতে থাকা ধুলো, দূষণ ও রাসায়নিক উপাদান দূর হয়ে যাবে।
>>চুল পরিষ্কার করতে মৃদু, সালফেট-মুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করুন।
>>চুল দীর্ঘক্ষণ ভেজা রাখবেন না। যতটা দ্রুত সম্ভব ভালোভাবে শুকিয়ে নিন।
>>ভেজা চুলে জোরে আঁচড়াবেন না। শক্ত করে বেঁধে রাখাও ঠিক নয়।
>>বাইরে বের হলে ছাতা, রেইনকোটের হুড বা টুপি ব্যবহার করুন। চুল যতটা সম্ভব বৃষ্টির পানি থেকে রক্ষা করুন।
>>বাইরে যাওয়ার আগে হালকা লিভ-ইন কন্ডিশনার বা হেয়ার সিরাম ব্যবহার করুন। তাহলে চুলের ওপর একটি সুরক্ষামূলক স্তর তৈরি হবে। এটি আর্দ্রতা ও দূষণের প্রভাব কিছুটা কমাতে সাহায্য করে। সূত্র: আজকাল









































