বিনোদন ডেস্ক।।
অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ। অভিনয়ের জন্য দর্শকের কাছে পরিচিত মুখ তিনি। তবে এবার তিনি নিজেকে হাজির করছেন এক ভিন্ন পরিচয়ে। অভিনয়ের পাশাপাশি মঞ্চনাটকে নির্দেশনা দিলেও প্রথমবার পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা পরিচালনা করতে যাচ্ছেন তিনি। চলচ্চিত্রটির নাম ‘সোমেশ্বরী’। শুধু ক্যামেরার পেছনে নয়, নতুন এই চলচ্চিত্রে অভিনয়ও করেছেন নওশাবা।
সম্প্রতি শুটিং শেষ হওয়া তাঁর পরিচালিত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে প্রকৃতি, নদী ও মানুষের জীবনকে কেন্দ্র করে। মধ্যনগর ও আশপাশের এলাকায় শুটিং হওয়া চলচ্চিত্রটিতে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। গল্পের প্রধান চরিত্রে উপযুক্ত কাউকে না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত নিজেকেই ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন নওশাবা।
পরিচালনা ও অভিনয় প্রসঙ্গে নওশাবার ভাষায়, ‘সোমেশ্বরী’ প্রকৃতিকে সঙ্গে নিয়ে প্রকৃতির গল্প বলার চেষ্টা। পরিবেশ দূষণ, নদীকেন্দ্রিক জনপদের জীবন ও মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই চলচ্চিত্রে আমি নতুন নির্মাতা হিসেবে নিজের ভাবনাকে তুলে ধরেছি। আর গ্রামীণ জীবন ও মানুষের সঙ্গে ছোটবেলা থেকে পরিচয় থাকায় চরিত্রটি নিয়ে খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি। মধ্যনগরের মানুষের সহযোগিতা কাজটিকে আরও সহজ করেছে।’
নওশাবা বলেন, ‘২০২৮ সাল থেকে মঞ্চে নির্দেশনা দিয়েছি, কিন্তু চলচ্চিত্রে এটিই আমার প্রথম পরিচালনা। এটি নির্মিত হয়েছ গ্রিন ফিল্মসের ব্যানারে, যা ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়ার আওতাধীন একটি প্রকল্প। এ রকম একটি পকল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পেরে ভালো লাগছে।’
আন্তর্জাতিক উৎসবের পাশাপাশি দেশের মানুষ, বিশেষ করে হাওরাঞ্চলের মানুষ যেন সিনেমাটি দেখতে পারে, সেই ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানিয়েছেন নওশাবা।
নতুন চলচ্চিত্রটি ছাড়াও নওশাবার সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে শেষ হয়েছে স্বল্পদৈর্ঘের চলচ্চিত্র ‘ঠান্ডা গোশত ২.০’-এর দৃশ্যধারণ।
চলচ্চিত্রটি পরিচালনা ও প্রযোজনা করছেন শাহ নেওয়াজ খান দিলু ও সুমাইয়া আরজু মুর। বর্তমানে পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ চলছে। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটি পাঠানোর পাশাপাশি পরে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও মুক্তি দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
চলচ্চিত্রটি অনুপ্রাণিত সাদাত হাসান মান্টোর বিখ্যাত ছোটগল্প ঠান্ডা গোশত থেকে। এটি মূল গল্পের রিমেক বা সরাসরি রূপান্তর নয়; বরং মান্টোর সাহিত্যে উঠে আসা সহিংসতা, নৈতিক সংকট, অপরাধবোধ ও মানবিক বিপর্যয়ের বিষয়গুলোকে সমকালীন বাংলাদেশের বাস্তবতায় নতুনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নওশাবা।
গল্পে দেখা যাবে, এক মধ্যবিত্ত দম্পতির সম্পর্কের ভেতরে জমে থাকা অস্বাভাবিকতার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে ধীরে ধীরে প্রকাশ পায় বহুদিনের চাপা পড়ে থাকা এক ভয়াবহ সত্য। ব্যক্তিগত অপরাধ, অপরাধবোধ এবং তাঁর পারিবারিক অভিঘাতই ছবির মূল উপজীব্য।
চলচ্চিত্রটি প্রসঙ্গে নওশবা বলেন, ‘ঠান্ডা গোশত ২.০’ নাটকের গল্পটি অসাধারণ। প্রায় ছয় বছর ধরে এই গল্প নিয়ে ভেবেছেন নির্মাতা। সাম্প্রতিক নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনাগুলো তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। তাই সময়ের অস্বস্তিকর বাস্তবতাকে নির্ভীকভাবে পর্দায় তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন তিনি। অভিনয়শিল্পীরা যে যার জায়গা থেকে সেরাটাই দিয়েছেন। আশা করছি, কাজটি দর্শকের পছন্দ হবে’। এর আগে ২০২২ সালে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র পাপবাজার-এ অভিনয় করে প্রশংসা পেয়েছিলেন নওশাবা।
একদিকে নিজের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘সোমেশ্বরী’ পরিচালনা করছেন, অন্যদিকে অভিনয় করেছেন নতুন স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ঠান্ডা গোশত ২.০’-এ। দুটি কাজের বিষয়বস্তু ভিন্ন হলেও একটি জায়গায় তাদের মিল রয়েছে– সমাজ, মানুষ এবং বাস্তবতার গল্প বলার সাহসী প্রয়াস।
সামাজিক বাস্তবতানির্ভর ‘ঠান্ডা গোশত ২.০’, ও প্রকৃতি ও পরিবেশের গল্প বলা ‘সোমেশ্বরী’– এই দুই ভিন্নধর্মী কাজের মাধ্যমে নওশবা প্রমাণ করছেন, কেবল অভিনেত্রী হিসেবেই নয়, নির্মাতা ও গল্পকার হিসেবেও নিজস্ব একটি স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলতে চান। বাংলাদেশের সমসাময়িক চলচ্চিত্রে তাঁর এই নতুন যাত্রা তাই হয়ে উঠছে সম্ভাবনার আরেকটি নতুন অধ্যায়।









































