স্পোর্টস ডেস্ক।।
ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের ১৩তম মিনিটে জোস্কো গাভার্দিওলের শট জালে জড়াতেই টরন্টোর গ্যালারিতে শুরু হয় উল্লাস। মনে হচ্ছিল, অবিশ্বাস্যভাবে সমতা ফিরিয়ে ম্যাচকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে গেছে ক্রোয়েশিয়া।
কিন্তু বিধি বাম। সেই আনন্দ স্থায়ী হয় মাত্র কয়েক সেকেন্ড। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) নির্দেশে মনিটরে রিপ্লে দেখে অফসাইডের কারণে গোল বাতিল করেন রেফারি। মুহূর্তেই উৎসব পরিণত হয় হতাশায়। শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে পর্তুগাল, আর বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় লুকা মদরিচের ক্রোয়েশিয়া।
ম্যাচে শুরুতে ইভান পেরিসিচের গোলে পিছিয়ে পড়েছিল পর্তুগাল। তবে অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পেনাল্টি এবং যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে গনসালো রামোসের দুর্দান্ত হেডে ঘুরে দাঁড়ায় ইউরোপের দলটি। শেষ দিকে গাভার্দিওলের গোলটি বৈধ হলে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়াত। কিন্তু প্রযুক্তির সিদ্ধান্তই বদলে দেয় ম্যাচের পরিণতি।
শেষ বাঁশি বাজার আগে সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে ক্রোয়েশিয়া। পেরিসিচের বাড়ানো ক্রস থেকে গাভার্দিওল বল জালে পাঠানোর পর খেলোয়াড়, সমর্থক সবাই অতিরিক্ত সময়ের অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু ভিএআর কক্ষে তখন শুরু হয় গোলের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ।
প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে দেখা যায়, পেরিসিচের ক্রসটি গাভার্দিওলের কাছে পৌঁছানোর আগে স্ট্রাইকার ইগর মাতানোভিচের শরীরে সামান্য স্পর্শ লাগে। ফুটবলের অফসাইড আইনে এই স্পর্শকেই নতুন আক্রমণের সূচনা হিসেবে ধরা হয়।
ঠিক সেই মুহূর্তে মারিও পাসালিচ পর্তুগালের শেষ ডিফেন্ডারের সামনে অবস্থান করছিলেন। পরে পাসালিচই বলটি গাভার্দিওলের দিকে বাড়িয়ে দেন, যেখান থেকে আসে গোল। ফলে পুরো আক্রমণটি অফসাইড হিসেবে গণ্য হয় এবং ভিএআরের সুপারিশে রেফারি গোল বাতিল করেন। সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে মাঠেই তীব্র প্রতিবাদ জানান ক্রোয়েশিয়ার খেলোয়াড়রা।
অনেক দর্শকের মনে প্রশ্ন জেগেছে, টেলিভিশনের রিপ্লেতে যেখানে মাতানোভিচের সেই সামান্য স্পর্শ প্রায় চোখেই পড়ছিল না, সেখানে ভিএআর কর্মকর্তারা এতটা নিশ্চিত হলেন কীভাবে?
এর উত্তর রয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্যবহৃত নতুন প্রযুক্তিতে। এবারের আসরের অফিসিয়াল ম্যাচ বলে সংযোজন করা হয়েছে বিশেষ মোশন সেন্সর। ক্ষুদ্র এই সেন্সর প্রতি সেকেন্ডে শত শতবার বলের গতি ও স্পর্শের তথ্য সংগ্রহ করে ভিএআর সিস্টেমে পাঠায়। ফলে কোনো খেলোয়াড়ের শরীরে বলের সামান্যতম স্পর্শও অত্যন্ত নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
ক্রিকেটে ব্যবহৃত স্নিকো বা আল্ট্রা-এজ প্রযুক্তি যেমন ব্যাটে বলের সূক্ষ্ম স্পর্শ শনাক্ত করে, তেমনি ফুটবলেও এই সেন্সর একই ধরনের ভূমিকা পালন করছে। এরপর সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তি সেই নির্দিষ্ট মুহূর্তে খেলোয়াড়দের অবস্থান বিশ্লেষণ করে অফসাইডের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করে।
অর্থাৎ, টেলিভিশনের ক্যামেরায় যা স্পষ্টভাবে ধরা পড়েনি, ম্যাচ বলের ভেতরে থাকা ক্ষুদ্র সেন্সর সেটিই শনাক্ত করেছে। আর কয়েক মিলিসেকেন্ডের সেই স্পর্শই বদলে দিয়েছে ম্যাচের ভাগ্য। প্রযুক্তির নিখুঁত বিশ্লেষণে শেষ হয়েছে লুকা মডরিচদের বিশ্বকাপ অভিযান, আর কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল।










































