Home Travel & Leisure, Boating শ্যামনগরের ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষণে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের জরুরি পরিদর্শন

শ্যামনগরের ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষণে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের জরুরি পরিদর্শন

0

মোঃ আছাদুজ্জামান লিটন,শ্যামনগর।।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরের ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক নিদর্শনসমূহ সংস্কার ও সংরক্ষণের লক্ষ্যে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। স্থানীয় জাতীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ‘ডিও লেটার’ (আধা-সরকারি পত্র)-এর প্রেক্ষিতে ঐতিহাসিক বংশীপুর শাহী মসজিদ, হাবসীখানা, জাহাজঘাটা এবং নকিপুরের ঐতিহাসিক জমিদারবাড়ি ও নহবতখানা সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে এগুলোর সংরক্ষণযোগ্যতা নিরূপণ ও মতামত প্রেরণের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বেলা ১টার দিকে রবীন্দ্র স্মৃতি জাদুঘর (দক্ষিণডিহি, খুলনা)-এর সহকারী কাস্টোডিয়ান শাহিন মিয়া শ্যামনগর উপজেলার এই ঐতিহাসিক স্থানসমূহ পরিদর্শন করেন। এ সময় তাকে সার্বিক সহযোগিতা করেন শ্যামনগর উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস এম মোস্তফা কামাল।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ও সংশ্লিষ্ট সচিবের নির্দেশনার আলোকে খুলনা আঞ্চলিক পরিচালকের কার্যালয়ের সহকারী কাস্টোডিয়ান মোঃ মহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই পরিদর্শনের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম তার ডিও লেটারে উল্লেখ করেন, শ্যামনগরের এই ঐতিহাসিক নিদর্শনসমূহ মূলত ১৯৪৭-পূর্ব ব্রিটিশ আমল এবং তারও আগে রাজা প্রতাপাদিত্যের আমলের স্মৃতি বহন করছে। এর মধ্যে রয়েছে বংশীপুর শাহী মসজিদ, যেখানে একজন ওলীর প্রায় ১৮ ফুট লম্বা ঐতিহাসিক কবর রয়েছে। এছাড়া সন্নিকটবর্তী প্রাচীন যশোরেশ্বরী কালিমাতা মন্দিরটি বিশ্বজুড়ে সমাদৃত, যা বিগত ২০২২-২৩ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পরিদর্শন করেছিলেন। পাশাপাশি তৎকালীন রাজা-বাদশাহদের আমলে অপরাধী প্রজাদের শাস্তি প্রদানের জন্য ব্যবহৃত ঐতিহাসিক হাবসীখানা, নকিপুরের ঐতিহাসিক জমিদারবাড়ি ও তৎসংলগ্ন বিশাল দিঘিরপাড়ে রাজকীয় আনন্দ উপভোগের জন্য তৈরি “নহবতখানা” এবং অতীতে রাজাদের সৈন্য-সামন্তদের যাতায়াত ও জাহাজ নোঙর করে রাখার ঐতিহাসিক স্থান ভুরুলিয়ার “জাহাজঘাটা” অন্যতম।

এমপি গাজী নজরুল ইসলাম উল্লেখ করেন, শ্যামনগরের এই ঐতিহাসিক নিদর্শনসমূহ এখন কালের সাক্ষী এবং আমাদের জাতীয় সম্পদ হলেও পর্যাপ্ত সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এগুলো বর্তমানে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে চলেছে, যা অত্যন্ত দৃষ্টিকটু। সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর হাজার হাজার দেশী-বিদেশী পর্যটক শ্যামনগরে আসেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় যদি বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে এই ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো তাদের তৈরিকালীন আদি আদলে সংস্কার ও সৌন্দর্যমণ্ডিত করে তোলে, তবে এ অঞ্চলে পর্যটন শিল্পের এক অভূতপূর্ব বিকাশ ঘটবে। ঐতিহাসিক এই সম্পদগুলোকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে এবং দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করতে দীর্ঘদিন ধরে সোচ্চার দাবি জানিয়ে আসা স্থানীয় সচেতন মহল এই পরিদর্শনের পর দ্রুত সরকারি বরাদ্দ ও কার্যকর পদক্ষেপের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।