Home খেলাধুলা অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশের হাতছানি, ইতিহাসের দুয়ারে বাংলাদেশ

অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশের হাতছানি, ইতিহাসের দুয়ারে বাংলাদেশ

2

স্পোর্টস ডেস্ক।

প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের ইতিহাস ইতোমধ্যেই গড়ে ফেলেছে বাংলাদেশ। এবার আরও বড় লক্ষ্য।

রবিবার (১৪ জুন) মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে জিততে পারলেই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হোয়াইটওয়াশ করবে টাইগাররা। এমন কীর্তি এর আগে করতে পেরেছে মাত্র তিনটি দেশ—ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ড।

এক সময় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ মানেই ছিল বাংলাদেশের জন্য কঠিন পরীক্ষা। এর আগে অজিদের বিপক্ষে যতগুলো দ্বিপক্ষীয় সিরিজই খেলেছে বাংলাদেশ, সবগুলোতেই হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল।

১৫ বছর পর আবার মুখোমুখি হয়ে এবার সেই ইতিহাসই বদলে দিয়েছে স্বাগতিকরা। প্রথম ম্যাচে পেসারদের তোপে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯১ রানে আটকে দিয়ে বড় জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় ম্যাচে তো আরও ভয়ংকর ছিল টাইগারদের বোলিং। তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমানের আগুনঝরা স্পেলে কোনো রান যোগ হওয়ার আগেই ৩ উইকেট হারায় সফরকারীরা। নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসে প্রথমবার শূন্য রানে প্রথম তিন উইকেট হারানোর লজ্জায় পড়ে অস্ট্রেলিয়া। দ্বিতীয় ম্যাচেও অনেকটাই হেসেখেলেই জিতেছে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা।

সিরিজ নিশ্চিত হওয়ার পরও খুব বেশি উচ্ছ্বাস দেখা যায়নি বাংলাদেশ শিবিরে। বিষয়টি নিয়ে আক্ষেপই ঝরেছে সৌম্য সরকারের কণ্ঠে, ‘আমরা যে সিরিজটা জিতেছি, এটা আমাদের সবারই অনেক বড় করে উদযাপন করা উচিত ছিল। কারণ এটা অনেক বড় একটা অর্জন। আমরা কতটুকু করেছি জানি না, কিন্তু করা উচিত ছিল।’

তবে উদযাপনের চেয়েও এখন বড় লক্ষ্য হোয়াইটওয়াশ। ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসে সৌম্যও জানিয়ে দিয়েছেন, সেটিই এখন দলের মূল লক্ষ্য, ‘হোয়াইটওয়াশ অবশ্যই অনেক বড় অর্জন হবে। যখন সিরিজ জিতেছি, এটাই অনেক বড় অর্জন। এটাই অনেক বড়ভাবে উদযাপন করা উচিত ছিল। ৩-০ ব্যবধানে জিততে পারলে আরও বড় অর্জন হবে। আমাদের সবার লক্ষ্যও থাকবে এটা। ইতিবাচক ক্রিকেট খেলব। যারা তিন বিভাগেই ভালো করবে, তারাই জিতবে।’

বাংলাদেশের সামনে যখন ইতিহাস গড়ার সুযোগ, তখন অস্ট্রেলিয়া নামছে হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর মিশনে। সিরিজ হার নিশ্চিত হয়ে গেলেও অন্তত একটি ম্যাচ জিততে মরিয়া তারা। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটার মার্নাস লাবুশেন বলেছেন, ‘এটা আমাদের জন্য আদর্শ সিরিজ হয়নি। তবে প্রতিটি আন্তর্জাতিক ম্যাচই একটি সুযোগ। আমরা যা করছি, এটি বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ। প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই ভালোভাবে শেষ করে সিরিজ ২-১ করতে। তবে প্রতিটি হারই হতাশার। আমরা খেলি জয়ের জন্যই। তাই আমরা চাই কাল ভালো ক্রিকেট খেলতে এবং সিরিজটা ২-১ করতে। শেষ পর্যন্ত ৩-০ হোক বা ২-১—হার হারই।’

তৃতীয় ম্যাচের আগে বাংলাদেশ শিবিরের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় এখন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের শারীরিক অবস্থা। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে নাথান এলিসের বাউন্সারে মাথায় আঘাত পান তিনি। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে দুটি স্ক্যানের রিপোর্টই স্বাভাবিক আসে। ইতোমধ্যে দলের সঙ্গে যোগও দিয়েছেন মিরাজ। তবে ম্যাচের আগে আরেক দফা মূল্যায়নের পরই তার খেলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে টিম ম্যানেজমেন্ট সূত্রে জানা গেছে, মিরাজের খেলার সম্ভাবনা বেশ ক্ষীণ। মিরাজ না খেললে তার বদলে দেখা যেতে পারে লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনকে। যদিও শনিবার বিকেলে তৃতীয় ওয়ানডের স্কোয়াডে যুক্ত করা হয়েছে অফস্পিনার শেখ মেহেদী হাসানকে।

হোয়াইটওয়াশ মিশনে বাংলাদেশের স্বস্তির জায়গা হলো, দলে প্রায় সবাই ছন্দে আছেন। পেসাররা ধারাবাহিকভাবে উইকেট এনে দিচ্ছেন, ব্যাটাররা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দায়িত্ব নিচ্ছেন। মোসাদ্দেক হোসেন ফিরেই অবদান রেখেছেন, সৌম্য সরকারও সুযোগ পেয়ে রান করেছেন। ফলে জয়ী একাদশে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুবই কম। পরিবর্তন এলে সেটি সম্ভবত মিরাজের জায়গাতেই আসবে।

ইতিহাস গড়ার মিশনে মাত্র একটি জয় দূরে বাংলাদেশ। ওয়ানডে ইতিহাসে অস্ট্রেলিয়া তিন বা ততোধিক ম্যাচের সিরিজে মাত্র ছয়বার হোয়াইটওয়াশ হয়েছে। অজিদের বিপক্ষে ইংল্যান্ড তিনবার, দক্ষিণ আফ্রিকা দুবার এবং নিউজিল্যান্ড একবার এই কীর্তি গড়েছে। কাল জিততে পারলে বাংলাদেশ হবে সেই বিরল তালিকায় নাম লেখানো চতুর্থ দেশ।