Home আঞ্চলিক ফজরের পরই প্রাণ ফিরে পায় মাগুরার ‘ডায়াবেটিস বাজার’

ফজরের পরই প্রাণ ফিরে পায় মাগুরার ‘ডায়াবেটিস বাজার’

3

মাগুরা প্রতিনিধি:

ভোরের আলো ফোটার আগেই মাগুরা সদর উপজেলার নতুন বাজার মিল সংলগ্ন এলাকায় বসে এক ব্যতিক্রমী হাট, যা স্থানীয়দের কাছে ‘ডায়াবেটিস বাজার’ নামে পরিচিত। ফজরের নামাজের পর থেকেই কৃষকদের আনা টাটকা শাক-সবজি ও বিভিন্ন কৃষিপণ্য কিনতে সেখানে ভিড় করেন শত শত ক্রেতা। সকাল ৮টার মধ্যেই শেষ হয়ে যায় এ বাজারের বেচাকেনা।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সরেজমিনে দেখা যায়, আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের কৃষকরা নিজেদের ক্ষেতের উৎপাদিত শাক-সবজি নিয়ে সরাসরি বাজারে হাজির হন। মধ্যস্বত্বভোগীর হাত ছাড়াই কৃষকদের কাছ থেকে পণ্য কিনতে পারায় ক্রেতারা যেমন কম দামে তাজা সবজি পান, তেমনি উৎপাদকরাও পান ন্যায্য মূল্য।

স্থানীয় কৃষক মো. মাজেদ শেখ জানান, তিনি নিজের জমিতে উৎপাদিত সবজি বাজারে নিয়ে আসেন এবং সরাসরি ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করেন। এতে লাভের পরিমাণ বাড়ার পাশাপাশি ক্রেতারাও মানসম্মত পণ্য পাচ্ছেন।

ক্রেতা আলমগীর হোসেন বলেন, প্রতিদিন সকালে হাঁটতে বের হয়ে তিনি এই বাজার থেকে সবজি কিনে বাড়ি ফেরেন। তার মতে, এখানকার সবজি টাটকা এবং দামও তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী।

আরেক ক্রেতা মাহমুদুল হাসান জানান, শাক-সবজি বেশি খাওয়ার পরামর্শ বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের দেওয়া হয়। এ কারণেই সম্ভবত বাজারটির নাম ‘ডায়াবেটিস বাজার’ হয়েছে। তবে বর্তমানে শুধু রোগী নয়, স্বাস্থ্যসচেতন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এখানে কেনাকাটা করতে আসেন।

নিজনান্দুয়ালী ডিউ স্কুলের প্রধান শিক্ষক এটিএম আনিসুর রহমান বলেন, ভোরের এই বাজার এখন শুধু কেনাবেচার স্থান নয়, বরং স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের এক মিলনস্থলে পরিণত হয়েছে। অনেকেই নিয়মিত হাঁটাহাঁটি শেষে এখান থেকে তাজা সবজি কিনে বাড়ি ফেরেন।

তার মতে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা এবং কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মাগুরার ‘ডায়াবেটিস বাজার’ একটি ইতিবাচক ও অনুকরণীয় উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।