Home আঞ্চলিক খুলনাঞ্চলে সংবাদ প্রকাশের পর: হাসানের পরিবারের পাশে প্রশাসন ও বিত্তশালীরা

খুলনাঞ্চলে সংবাদ প্রকাশের পর: হাসানের পরিবারের পাশে প্রশাসন ও বিত্তশালীরা

17

খুলনাঞ্চল রিপোর্ট।।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আদাবাড়ীয়া ইউনিয়নের গরুড়া মিস্ত্রিপাড়া গ্রামে বসবাসরত অসহায় শিশু হাসান আলীর পরিবারের করুণ চিত্র তুলে ধরে দৈনিক খুলনাঞ্চল এ সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এরপর অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে প্রশাসন ও সমাজের বিত্তশালীরা।

ইতোমধ্যে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি সাগর ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী নজরুল সাহেবের বড় ছেলে শাওন বিশ্বাসসহ আরও বেশ কয়েকজন সামর্থ্যবান ব্যক্তি পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছেন।

যে বয়সে শিশুদের বই-খাতা হাতে স্কুলে যাওয়ার কথা, সেই বয়সেই ১০ বছর বয়সী হাসান আলীর হাতে উঠে এসেছে ভ্যানের হ্যান্ডেল। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রতিদিন জীবিকার সন্ধানে রাস্তায় নামতে হয় তাকে। তার এই সংগ্রাম আমাদের সমাজের নির্মম বাস্তবতার এক প্রতিচ্ছবি।

জানা গেছে, পরিবারের কর্তা হাবিবুর রহমান (হাবু) মাত্র ৩৭ বছর বয়সে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে গত পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন মৃত্যুবরণ করেন। তার অকাল মৃত্যুতে তিনটি শিশু সন্তান হয়ে পড়ে সম্পূর্ণ অসহায়। বড় ছেলে জুনায়েদ হোসেন (১৩) মানসিকভাবে দুর্বল হওয়ায় স্বাভাবিক কাজ করতে পারে না। মেজো ছেলে হাসান আলী (১০) এখন পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী। আর ছোট মেয়ে উম্মে হাবিবা (৫) এখনো বুঝে উঠতে পারেনি জীবনের কঠিন বাস্তবতা।

পরিবারটিতে রয়েছেন বৃদ্ধ দাদা মোসলেম উদ্দিন (৬৫) ও দাদি শপাজান (৬০)। এর মধ্যেই আরও একটি নির্মম ঘটনা তাদের জীবনে আঘাত হানে, হাবিবুর রহমানের চিকিৎসার জন্য সঞ্চিত প্রায় তিন লাখ টাকা ও একটি স্বর্ণের হার নিয়ে তার স্ত্রী অন্যত্র চলে গিয়ে পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ফলে শিশুদের জীবনে নেমে আসে চরম অনিশ্চয়তা।

বর্তমানে ছোট্ট হাসান প্রতিদিন ভ্যান চালিয়ে কখনো ৪০-৫০ টাকা, আবার কখনো সর্বোচ্চ ১০০ টাকা আয় করে। এই অল্প আয়ে কোনোভাবে দিন পার করছে পুরো পরিবারটি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এত অল্প বয়সে একটি শিশুকে এভাবে সংগ্রাম করতে দেখা অত্যন্ত কষ্টকর। এটি শুধু একটি পরিবারের গল্প নয়, বরং সমাজের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। তারা মনে করেন, সমাজের সচেতন ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসা জরুরি, নইলে এসব শিশুর ভবিষ্যৎ অন্ধকারে হারিয়ে যাবে।

শাওন বিশ্বাস ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সংবাদটি প্রকাশের মাধ্যমে একটি অসহায় পরিবারের করুণ বাস্তবতা সবার সামনে উঠে এসেছে, যা আমাদের গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। বিশেষ করে ছোট্ট হাসানের সংগ্রামের কথা জানার পর আমরা মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি।

সমাজে এমন অনেক পরিবার নীরবে কষ্ট সহ্য করে যাচ্ছে, যাদের কথা আমরা অনেক সময় জানতে পারি না। গণমাধ্যমের এমন দায়িত্বশীল ভূমিকার কারণেই আজ আমরা তাদের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়েছি। আমি সমাজের সব বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, নিজ নিজ অবস্থান থেকে যদি আমরা একটু এগিয়ে আসি, তাহলে এই শিশুদের ভবিষ্যৎকে আলোকিত করা সম্ভব।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, প্রশাসন ইতোমধ্যে পরিবারটিকে খাদ্য সহায়তা প্রদান শুরু করেছে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে হয় শিশুদের সরকারি শিশু পরিবারে স্থানান্তর করা হবে, অথবা দাদা দায়িত্ব নিতে সক্ষম হলে তাকে সরকারি সহায়তায় একটি ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করে দেওয়া হবে।

এই তিনটি এতিম শিশুর জীবনে নতুন করে আশার আলো জ্বালাতে প্রয়োজন সম্মিলিত মানবিক উদ্যোগ। সমাজের সামান্য সহায়তাই পারে তাদের জীবনের চাকা আবার সচল করতে।