বাগেরহাট প্রতিনিধি।।
বাগেরহাটের ফকিরহাট বাজারে প্রতি রোববার ও বুধবার সকাল থেকে বসে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহৎ শ্রমিকের হাট। দিন দিন শ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বাজারের মূল সড়ক হয়ে পাশের স্টেশন গলি পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকা হাজার হাজার কিষান-শ্রমিকদের ভিড়ে যানবাহন ও মানুষের চলাচলে ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে।
প্রায় অর্ধশত বছরের পুরোনো এই শ্রমিকের হাটে দেশের দুর-দুরন্তের বিভিন্ন জেলার শ্রমজীবী মানুষ শ্রম বিক্রি করতে আসেন। বর্তমানে ধান কাটা ও ঘেরে মাছ চাষের মৌসুমে কাজের সুযোগ বেশি বলে শ্রমিকের আগমনও বেশি। ফলে বাজারের উপর বাগেরহাট-খুলনা আন্তঃজেলা সড়কের প্রায় ৪০০ মিটার এলাকা জুড়ে এবং পার্শ্ববর্তী পুরোনো রেল স্টেশন গলিতে শ্রমিকেরা অবস্থান নিচ্ছেন। এতে স্থানীয় দোকানদার, যানবাহনের চালক ও বাজার করতে আসা মানুষকে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। হাটের দিন দীর্ঘ যানজটে নাজেহাল হয়ে পড়ছেন যাত্রীরা।
বুধবার (২৯ মে) শ্রমিকের হাটে গিয়ে দেখা যায় পাবনা, নওগাঁ, নীলফামারী, জামালপুর, কুষ্টিয়া, মাগুরা, ঝিনাইদহ, যশোর, নড়াইল, সাতক্ষীরা, খুলনা, পিরোজপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, বরগুনাসহ, বাগেরহাটের বিভিন্ন উপজেলা থেকে খেটে খাওয়া বেশ কয়েক হাজার মানুষ কাজের সন্ধানে এই হাটে এসেছেন। সকাল ৭টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সড়কে ভিড় করে চলে শ্রমিক ঠিক করার কাজ।
ফকিরহাট বাজারের মূল সড়কের ওপর দীর্ঘদিন ধরে দোকান দিচ্ছেন শ্রী বলরাম মিত্র। তিনি জানান, হাটের দিন শ্রমিকের ভিড়ে কেনাবেচা করতে অসুবিধা হয়। রাস্তায় দাড়িয়ে থাকা শ্রমিকের ভিড়ে ক্রেতারা দোকানে ঢুকতে পারেন না। এ ছাড়া দীর্ঘ সময় শ্রমিকেরা দাঁড়িয়ে থেকে পান-বিড়ি খেয়ে রাস্তা নোংরা করে রাখেন।
বাজারের বিসমিল্লাহ টেলিকমের মালিক মো. ইমরান হোসাইন বলেন, শ্রমিক আর মহাজনদের ভিড়ে রাস্তা আটকা থাকে। মানুষের চলাচল করতে অসুবিধা হয়। ফলে সপ্তাহের দুই হাটের দিন তাদের খুব অসুবিধা হয়।
বাজারের বেশ কয়েকজন দোকানদারের সঙ্গে কথা বলে একই রকম মন্তব্য পাওয়া গেছে। তারা সড়ক থেকে শ্রমিকের হাটের স্থান পরিবর্তন করে কোনো ফাঁকা স্থানে নেওয়ার দাবি জানান।
হাটের দিনে বাহিরদিয়া, মানসা ও ঠিকরী পাড়া থেকে কেনাকাটা করতে আসা মানুষেরা বলেন, শ্রমিকদের ভিড় ঠেলে বাজারে ঢুকতে হয়। কিন্তু বাজার নিয়ে ফেরার পথে ভিড়ের মধ্যে ব্যাগ নিয়ে চলাচল করতে এক প্রকার যুদ্ধ করতে হয়।
কাজি আজহার আলি কলেজ, কারামাতিয়া ফাজিল মাদ্রাসা ও শিরিন হক বালিকা বিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্রী বলেন, প্রতি হাটের দিন শ্রমিকদের ভিড়ে তাদের চলাচল করতে অসুবিধা হয়। কখনো আবার অশালীন বাক্য ও ইভটিজিংয়ের শিকার হন তারা। তাদের দাবি, শ্রমিকের হাট সড়কের ওপর থেকে সরিয়ে নেওয়া হোক।
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রোকনুজ্জামান বলেন, ‘আমি নিজেই এর ভুক্তভোগী। হাটের দিন শ্রমিকের ভিড়ে রাস্তায় দীর্ঘ যানজট হয় এবং চলাচলে অসুবিধা হয়। দ্রুত কিষানের হাটটি এ স্থান থেকে সরিয়ে বেসিক ব্যাংক সংলগ্ন ফাঁকা স্থানে নেওয়া হবে।’











































