Home আঞ্চলিক দেশের মৎস্য খাতে রফতানি আয়ের রেকর্ড প্রবৃদ্ধি, পাবদার দখল বেশি

দেশের মৎস্য খাতে রফতানি আয়ের রেকর্ড প্রবৃদ্ধি, পাবদার দখল বেশি

0

যশোর অফিস।।


বাংলাদেশের মৎস্য খাতে গত কয়েক বছরে অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রফতানি করে দেশ প্রায় ৫ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা আয় করেছে। বিশেষ করে হিমায়িত মাছ ও চিংড়ি রফতানিতে গত বছরের তুলনায় ১৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। যা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

যশোরে অনুষ্ঠিত ‘রফতানি বৃদ্ধিতে মাছের পোনা উৎপাদনে বৈচিত্র্যকরণ ও চাষ ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক এক কর্মশালায় এই তথ্য তুলে ধরা হয়। রোববার (৩ মে) যশোর জেলা মৎস্য অফিসের সভাকক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল (বিপিসি) ও বাংলাদেশ নন-প্যাকার ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএনপিএফইএ) যৌথভাবে এই কর্মশালার আয়োজন করে।

কর্মশালায় জানানো হয়, বর্তমানে মাছ রফতানির একটি বিশাল অংশ দখল করে আছে পাবদা মাছ। মোট রফতানি হওয়া মাছের ৮৮ দশমিক ৫৫ শতাংশই পাবদা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট ১ কোটি ২১ লাখ ৬৯ হাজার ৫২০ কেজি পাবদা মাছ বিদেশে রফতানি হয়েছে। পাবদা ছাড়াও ইলিশ (৩.৮৭%), টেংরা (২.৭৭%) এবং পারশে, ভেটকি ও কার্প জাতীয় মাছ রফতানি আয়ে বড় অবদান রাখছে।

কর্মশালায় আরও জানানো হয়, রফতানি আয়ের একটি বড় অংশ আসছে যশোরের বেনাপোল স্থল বন্দর দিয়ে। গত অর্থবছর এই বন্দর দিয়ে ১৩ হাজার ৭৪২ মেট্রিক টন মাছ রফতানি হয়েছে। যার বাজারমূল্য প্রায় ৪৭০ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এই বন্দর দিয়ে মূলত পাবদা, পাঙ্গাস, টেংরা ও তেলাপিয়া মাছ ভারতে রফতানি হচ্ছে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, আমদানিকৃত মাছের মূল্যের তুলনায় রফতানি আয়ের পরিমাণ প্রায় ৫ গুণ বেশি। ২০২২-২৩ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মৎস্য রফতানি প্রায় ৯৭ শত বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে সহায়ক হচ্ছে।

এজন্য রফতানি আয় আরও বাড়াতে আধুনিক হিমাগার ও লজিস্টিক সুবিধা বৃদ্ধি করা, স্থানীয় হ্যাচারিগুলোতে বিশেষ করে পাবদা ও উন্নত জাতের পাঙ্গাসের পোনা উৎপাদন নিশ্চিত করা, একটি নির্দিষ্ট প্রজাতির ওপর নির্ভর না করে অন্যান্য মাছের রফতানি বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক নতুন বাজার অনুসন্ধান করার উপর জোর দেয়া হয়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মনিরুল মামুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিলের সহকারী পরিচালক পলাশ ঘোষ। প্রশিক্ষক ছিলেন যশোর সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কুমার দাস।

কর্মশালায় জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মনিরুল মামুন বলেন, যশোরের মণিরামপুর, ঝিকরগাছা ও সদর উপজেলার লক্ষাধিক চাষি রফতানিমুখী মাছ উৎপাদনে জড়িত। তাদের উৎপাদিত মাছই রফতানির বড় অংশ পূরণ করছে। যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই রফতানি আয় আগামীতে ১০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই লক্ষ্যেই মৎস্য অধিদফতর কাজ করছে।