Home আলোচিত সংবাদ ইতিহাসের নতুন অধ্যায়, প্রত্যাশার কঠিন পরীক্ষা

ইতিহাসের নতুন অধ্যায়, প্রত্যাশার কঠিন পরীক্ষা

6

বিদেশে দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে অল্প সময়ের মধ্যেই সরকার গঠন—বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি নিঃসন্দেহে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়। তারেক রহমানুএর নেতৃত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে আবারও রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। শপথের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক পর্ব—যাকে অনেকে ‘তারেক যুগ’ বলছেন।


নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা গঠনে সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো নতুন মুখের প্রাধান্য। ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভায় ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর পাশাপাশি রয়েছেন ১০ জন উপদেষ্টা। মন্ত্রিসভার অধিকাংশ সদস্যই আগে কখনো মন্ত্রী ছিলেন না—এটি যেমন নবায়নের বার্তা দেয়, তেমনি অভিজ্ঞতার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্নও তোলে। নতুন ও পুরোনোর এই মিশ্রণ কতটা কার্যকর হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।


শপথ অনুষ্ঠানেও ছিল ব্যতিক্রম—বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজন। এতে জনসম্পৃক্ততার একটি প্রতীকী বার্তা ছিল। আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকেও শুভেচ্ছা এসেছে; বিশেষ করে চীনের প্রধানমন্ত্রী অভিনন্দন জানানোয় কূটনৈতিক দিক থেকে একটি ইতিবাচক সূচনা দেখা গেছে। তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কেবল শুভেচ্ছা বার্তায় সীমাবদ্ধ থাকে না—অর্থনীতি, বাণিজ্য, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষায় বাস্তব পদক্ষেপই হবে আসল পরীক্ষা।


নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ অর্থনীতি। মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, বিনিয়োগ পরিস্থিতি—এসব ইস্যুতে দ্রুত ও দৃশ্যমান সাফল্য না এলে জনআকাঙ্ক্ষা হতাশায় পরিণত হতে পারে। দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামের রাজনীতি করা একটি দলের জন্য প্রশাসনিক দক্ষতা ও নীতি বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতা প্রমাণ করাই হবে এখন মুখ্য কাজ।


রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও পরিবর্তনের প্রত্যাশা রয়েছে। বিজয়ের পর ঐক্যের ডাক ইতিবাচক বার্তা দিলেও বিরোধী মতের প্রতি সহনশীলতা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং প্রতিশোধপরায়ণ রাজনীতি পরিহার—এসব ক্ষেত্রেই সরকারকে উদাহরণ স্থাপন করতে হবে। গণতন্ত্রের শক্ত ভিত গড়তে হলে সংসদকে কার্যকর ও প্রাণবন্ত করা জরুরি।


সবশেষে, ইতিহাস গড়া যতটা কঠিন, ইতিহাসের মর্যাদা রক্ষা করা তার চেয়েও কঠিন। তারেক রহমানের জন্য এটি যেমন ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সাফল্যের শিখর, তেমনি কঠিন দায়বদ্ধতার সূচনা। এখন সময় প্রমাণের—স্লোগান ও প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তব রূপ পায়, এবং নতুন সরকার কত দ্রুত মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারে। দেশ তাকিয়ে আছে কার্যকর নেতৃত্ব ও সুশাসনের বাস্তব প্রতিফলনের দিকে।