Home আঞ্চলিক মাঝে মাঝে গর্জন দিচ্ছে : সুস্থ হয়ে উঠছে হরিণের ফাঁদে আটকে সুন্দরবনের...

মাঝে মাঝে গর্জন দিচ্ছে : সুস্থ হয়ে উঠছে হরিণের ফাঁদে আটকে সুন্দরবনের বাঘিনী

16


স্টাফ রিপোর্টার
প্রায় দেড় মাস আগে চোরা শিকারিদের ফাঁদে আটকে পড়া রয়েল বেঙ্গল টাইগারটি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠেছে। বাঘটির বাম হাতের গভীর ক্ষত পুরোপুরি না শুকালেও পানি শূণ্যতা (ডিহাইড্রেশন) ও পেশী পুনরুদ্ধার (মাসেল রিকভারি) বিষয়টি অনেকটাই উন্নতি হয়েছে। মাঝে মাঝে গর্জন দিচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আরো ৩ সপ্তাহ বা একমাসের মধ্যে পুরো স্স্থু হয়ে উঠতে পারে। খুলনা আঞ্চলিক বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ কালের কন্ঠকে এ তথ্য জানান।
সুন্দরবন বন বিভাগের দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার শরকির খালুলাগোয়া সুন্দরবনে চোরা শিকারিদের পাতা হরিণ শিকারের ফাঁদে একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার আটকে পড়েছে এমন খবর পান। এরপর বাঘটি উদ্ধারের জন্য বনবিভাগ ঢাকায় খবর দেয়। ঢাকা থেকে একটি বিশেষজ্ঞ টিম ৪ জানুয়ারি দুপুরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে। তাঁরা বাঘটিকে অচেতন করে ফাঁদ থেকে মুক্ত করে। এরপর সেটিকে রাতেই খুলনা রেসকিউ সেন্টারে নিয়ে এনে চিকিৎসা শুরু করে। ৬ জানুয়ারি ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ টিমও খুলনায় এসে বাঘটির সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার বিষয়টি মনিটরিং করেন। বন বিভাগের ভেটেরিনারি অফিসার হাতেম সাজ্জাদ জুলকারনাইনের নিবিড় তত্ত্বাবধানে বাঘটির চিকিৎসা শুরু হয়।
সেই সময়ে ঢাকার সেন্ট্রাল ভেটেরিনারি হসপিটালের এডিশনাল ভেটেরিনারি অফিসার ডা: নাজমুল হুদা জানান, ফাঁদে আটকে থাকার কারণে বাঘিনীর সামনের বাম হাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাঘিনীকে শিকার ধরার উপযোগী করতে কমপক্ষে তিনটি চ্যালেঞ্জ করতে হবে।
তিনি বলেন, বাঘনীর বাম হাত (সামনের পা) ফাঁদে আটকে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রথমত: সেটি শিকার ধরার (থাবা) মতো কার্যকর হবে কিনা, দ্বিতীয় ডিহাইড্রেশনের দুর্বলতা ও তৃতীয়ত: মাসেল ড্যামেজ বা দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারবে কী না। ৪৪দিন চিকিৎসাধীন বাঘিনী তিনটি চ্যালেঞ্জ অর্জনে অনেটাই সফল হয়েছে।
খুলনা আঞ্চলিক বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ রবিবার দুপরে বলেন, সুন্দরবন থেকে উদ্ধার করা বাঘটি বন বিভাগের বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্র খুলনায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। ধীরে ধীরে তার অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। মাঝে মাঝে গর্জন দিচ্ছে। তবে হাতের ক্ষত পুরোপুরি শুকাতে আরো কিছু সময় লাগতে পারে।
আঞ্চলিক বন সংরক্ষক জানান, বাঘিনীটিকে সিসি ক্যামেরায় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। শুধুমাত্র খাবার সরবরাহ ও ওষুধ প্রদানের জন্য চিকিৎসকরা দেখভাল করছেন। আশা করা যাচ্ছে, আগামী তিন সপ্তাহ বা একমাসের মধ্যে বাঘিনী পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারে। বাঘটিকে শিকার ধরে খেতে পারে এমন উপযোগী করা গেলে বনে ছেড়ে দেওয়া হবে।