ঢাকা অফিস
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সরকারি দল সংস্কারের শপথ না নিয়ে জুলাইকে উপেক্ষা এবং অবজ্ঞা করেছে। এতে জনআকাঙ্খার বিপরীতে তাদের অবস্থান বলে আমরা মনে করি। সংস্কারের বিপরীতে তাদের এই অবস্থান স্পষ্ট।’
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় ঐক্যের সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, ‘তারা (সরকারি দল) কেন একটি শপথ নিয়েছেন, তার ব্যাখ্যা তারা দিয়েছেন। আমাদের ব্যাখ্যা হলো-ছাব্বিশে কোনো নির্বাচন হওয়ার কথাই ছিল না। নির্বাচনটা হয়েছে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের কারণে। যাদের কারণে এই নির্বাচন ও এই সংসদ, আমি তাদেরকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। আর গোটা দেশবাসী সেদিন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল-আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা আজকে হয়তো শপথ নিতে ভিন্ন চিন্তা কতে পারতাম। কারণ জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ও গণভোটের রায়ের প্রতি সম্মান দেখানো রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে গণ্য করেছি। আমরা জুলাই আকাঙ্ক্ষা, গণভোট এবং যারা আমাদেরকে ভোট দিয়েছেন, তাদেরকে সম্মান করেছি এবং আমরা একমত হয়েছি যে, এই শপথ নেওয়া আমাদের কর্তব্য। ’
জামায়াত আমির বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে জাতি আশা করেছিল, দেশের মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের ভোটের আমানত প্রয়োগ করবে। দুঃখের বিষয়-এটা পুরোপুরি পূরণ হয়নি। বেশ কিছু জায়গায় সমস্যা হয়েছে। সেদিকে আজ যাচ্ছি না। ’
তিনি বলেন, ‘আজ (মঙ্গলবার) নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের শপথের দিন ছিল। আমাদেরকে সোমবার গভীর রাতে চিঠি দেওয়া হয়েছে, যেটা আমাদের জন্য কিছুটা অস্বস্তিদায়কও ছিল। তারপরও আমাদের নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে দেশবাসীর প্রতি সম্মান রেখে আমরা শপথ নিতে এসেছিলাম। ইতিপূর্বে আমরা লক্ষ্য করেছি, একই দিনে একইসঙ্গে শপথ অনুষ্ঠিত হতো। এবারই বোধহয় তার ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা গেছে।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘আজকে আমরা যারা শপথ নিয়েছি-আমরা নির্বাচনি প্রক্রিয়ার সময় দলের পক্ষ থেকে বলেছিলাম, আমাদের কেউ যদি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং আমরা যদি সরকার গঠন করি, কেউ মন্ত্রী হন তাহলে আমরা সরকারি প্লট সুবিধা নেব না এবং ট্যাক্সবিহীন গাড়িতে চড়বো না। আমাদের সেই সিদ্ধান্তে আমরা অবিচল এবং অটল। এছাড়া বাকি কতটুকু না নিয়ে পারা যায়, সেটাও আমরা দেখব।’
এ সময় জামায়াতের নায়েবে আমির ও বিরোধী দলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সহ অন্যান্য সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।











































