বিনোদন ডেস্ক।।
ব্লেক লাইভলি ও জাস্টিন বালদোনি আইনি লড়াই হলিউডের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা। তাদের দ্বন্দ্ব শুধু আদালত পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকেনি, লালগালিচা থেকে শুরু করে বন্ধুত্বের গোপন বার্তা পর্যন্ত সবকিছু টেনে এনেছে জনসমক্ষে। এমনকি এতে জড়িয়ে পড়েছেন বিশ্বসংগীতের সুপারস্টার টেলর সুইফটও। গত দেড় বছর এ মামলা নিয়ে বহু খবর হয়েছে। সবশেষ লাইভলির সঙ্গে তার বন্ধু ও সংগীতশিল্পী টেলর সুইফটের ব্যক্তিগত বার্তা ফাঁস হওয়ার পর নতুন করে তৈরি হয়েছে আলোচনা।
‘ইট এন্ডস উইথ আস’-এর প্রচারণা শুরু হয় ২০২৪ সালের আগস্টে। তখনই দর্শক ও অনুরাগীদের চোখে পড়ে কিছু অস্বাভাবিক বিষয়। ছবির প্রধান দুই তারকা ব্লেক লাইভলি ও জাস্টিন বালদোনিকে একসঙ্গে খুব একটা দেখা যাচ্ছিল না। লাইভলি হাজির হচ্ছিলেন সহশিল্পী ব্র্যান্ডন স্কলেনার ও লেখিকা কলিন হুভারের সঙ্গেÑ ফুলেল পোশাক, হাসিখুশি উপস্থিতি আর হালকা মুহূর্তে ভরা প্রচারণায়। অন্যদিকে ছবির পরিচালক ও সহ-অভিনেতা বালদোনি দিচ্ছিলেন একক সাক্ষাৎকার, যেখানে তিনি বারবার ছবির পারিবারিক নির্যাতনের দিকটি তুলে ধরছিলেন। অনলাইনে আলোচনা দ্রুতই তীব্র হয়ে ওঠে।
২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পরিস্থিতি হঠাৎ নাটকীয় মোড় নেয়। জাস্টিন বালদোনি ও তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ওয়েফেয়ারার স্টুডিওসের বিরুদ্ধে ব্লেক লাইভলি মামলা করেন। মামলায় লাইভলি অভিযোগ করেন, শুটিং চলাকালে বালদোনি তার সঙ্গে যৌন হয়রানি করেছেন এবং কাজের পরিবেশকে শত্রুতাপূর্ণ করে তুলেছেন। অভিযোগের মধ্যে ছিলÑ তার শরীর নিয়ে অশালীন মন্তব্য, সেটে অশ্লীল ভিডিও বা ছবি দেখানো, তার উপস্থিতিতে পর্নোগ্রাফি আসক্তি নিয়ে আলোচনা। এ মামলা দাখিলের পরপরই হলিউডে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়। জনমত রাতারাতি পাল্টে যেতে শুরু করে।
লাইভলির অভিযোগের জবাব দিতে দেরি করেননি জাস্টিন বালদোনি। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি ও তার আইনজীবীরা ৪০০ মিলিয়ন ডলারের পাল্টা মামলা করেন, যেখানে অভিযুক্ত করা হয় ব্লেক লাইভলি ও তার স্বামী অভিনেতা রায়ান রেনল্ডসকেও। বালদোনির অভিযোগ, লাইভলি ছবির ওপর নিজের প্রভাব খাটিয়ে ‘ক্রিয়েটিভ হাইজ্যাকিং’ করেছেন। তার দাবি, ছবি থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকি দিয়ে লাইভলি ছবির চূড়ান্ত সম্পাদনার নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেন। ফলে বালদোনি কার্যত নিজের ছবিতেই কোণঠাসা হয়ে পড়েন।
২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে মামলাটি আরও জটিল হয়ে ওঠে। জুন মাসে এক ফেডারেল বিচারক বালদোনির মানহানির অভিযোগ খারিজ করে দেন, যা তিনি ব্লেক লাইভলি ও দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের বিরুদ্ধে করেছিলেন।
২০২৫ সালের মে মাসে চমকজাগানো খবর আসেÑ টেলর সুইফটকে সাক্ষী হিসেবে সমন পাঠানো হয়েছে বালদোনির মানহানি মামলায়। বিষয়টি নিয়ে সুইফটের মুখপাত্র কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, এটি সত্য উদ্ঘাটনের চেয়ে বেশি ট্যাবলয়েড শিরোনাম তৈরির চেষ্টা।
আইনি লড়াই যত দীর্ঘ হতে থাকে, ব্যক্তিগত সম্পর্কেও তত গভীর ফাটল দেখা দেয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসে, ব্লেক লাইভলি ও টেলর সুইফটের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বে শীতলতা নেমেছে।
চলতি বছরে এই কাহিনি নতুন মাত্রা পায়। আদালতের কিছু নথি প্রকাশ্যে আসে, যেখানে লাইভলি ও সুইফটের মধ্যে আদান-প্রদান হওয়া বার্তাগুলো জনসমক্ষে আসে। এ সময় অভিনেত্রী জেনি স্লেট ও ইসাবেলা ফেরার সাক্ষ্য লাইভলির অভিযোগকে সমর্থন করে। ফলে মামলাটি বিচারের আরও কাছাকাছি পৌঁছে যায়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, লাইভলির যৌন হয়রানির মামলা ২০২৬ সালের মে মাসে শুনানির জন্য নির্ধারিত।










































