Home বিনোদন ৩২ বছরেও অমীমাংসিত দিব্যা ভারতীর মৃত্যুর রহস্য

৩২ বছরেও অমীমাংসিত দিব্যা ভারতীর মৃত্যুর রহস্য

8


বিনোদন ডেস্ক।।


বলিউড বহু উত্থান–পতনের সাক্ষী হলেও দিব্যা ভারতীর গল্পের মতো শিউরে ওঠার ঘটনা খুব কমই আছে। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে, মুম্বাই বিস্ফোরণের ধাক্কা কাটিয়ে যখন হিন্দি চলচ্চিত্রশিল্প ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল, তখন দিব্যা ভারতীর আবির্ভাব যেন এক টুকরা তাজা হাওয়া। তরুণ, নির্ভীক এবং অসম্ভব জনপ্রিয়—রাতারাতি তারকা হয়ে ওঠেন তিনি। কেউ কল্পনাও করেনি, এত ঝলমলে যাত্রা এত দ্রুত ও মর্মান্তিকভাবে থেমে যাবে।


১৯৯২ সালে ‘বিশ্বত্মা’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হলেও ‘সাত সমুন্দর পার’ গানটি তাঁকে ঘরে ঘরে পরিচিত করে তোলে। এরপর ‘শোলা অউর শবনম’, ‘দিওয়ানা’, ‘দিল আশনা হ্যায়’—একটির পর একটি সফল ছবিতে অভিনয় করে তিনি সময়ের সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন নায়িকায় পরিণত হন।

মাত্র ১৮ বছর বয়সেই এক বছরে ১২টির বেশি ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হন দিব্যা ভারতী, যা আজও একটি রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত। প্রযোজক ও পরিচালকদের আস্থার পাশাপাশি দর্শকদের হৃদয় জয় করেছিলেন তাঁর নিষ্পাপ সৌন্দর্য ও প্রাণবন্ত অভিনয়ে।

চকচকে ক্যারিয়ারের আড়ালে দিব্যার ব্যক্তিগত জীবন ছিল জটিল। তিনি গোপনে প্রযোজক সাজিদ নাদিয়াদওয়ালাকে বিয়ে করেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে দাবি করা হয়। বলা হয়, ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তিনি নাম বদলে রাখেন সানা। এই বিয়েটি ইন্ডাস্ট্রির আড়ালেই রাখা হয়েছিল, যা নিয়ে পরে নানা গুঞ্জন ছড়ায়।

প্রতিবেদনগুলোতে আরও বলা হয়, ক্যারিয়ারের চাপ, গোপন দাম্পত্য জীবন ও মানসিক টানাপোড়েনে ভুগছিলেন দিব্যা। এমনকি সাজিদের পরিবার এই সম্পর্ক পুরোপুরি মেনে নেয়নি—এমন কথাও শোনা যায়। তবে এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে এসেছেন সাজিদ নাদিয়াদওয়ালা।

১৯৯৩ সালের ৫ এপ্রিল রাতে মুম্বাইয়ের ভার্সোভায় নিজের ফ্ল্যাটে ছিলেন দিব্যা ভারতী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্বামী সাজিদ নাদিয়াদওয়ালা ও ফ্যাশন ডিজাইনার নীতালুল্লা। জানা যায়, সেদিন তিনি মদ্যপান করেছিলেন এবং স্বাভাবিকভাবেই আড্ডা চলছিল।

একপর্যায়ে তিনি জানালার দিকে যান। ফ্ল্যাটটির জানালায় কোনো সেফটি গ্রিল ছিল না। জানালার কার্নিশে বসতে গিয়ে ভারসাম্য হারিয়ে তিনি পাঁচতলা থেকে নিচের পার্কিং এলাকায় পড়ে যান। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেখানে পৌঁছানোর আগেই তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর।

এই আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে জন্ম নেয় নানা তত্ত্ব। দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা, এমনকি হত্যাকাণ্ড—সব ধরনের সন্দেহই সামনে আসে। আন্ডারওয়ার্ল্ডের সম্পৃক্ততার গুঞ্জনও ছড়ায়। সাজিদ নাদিয়াদওয়ালার বিরুদ্ধেও অভিযোগ ওঠে, তবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

পুলিশি তদন্তে দিব্যার রক্তে উচ্চমাত্রার অ্যালকোহল পাওয়া যায় এবং তদন্ত শেষে একে দুর্ঘটনাজনিত পতন বলে উল্লেখ করা হয়। ১৯৯৮ সালে প্রমাণের অভাবে মুম্বাই পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে মামলাটি বন্ধ করে দেয়।

তবুও রহস্য কাটেনি। সেদিন রাতে উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্যে অসংগতি ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। দিব্যার ঘনিষ্ঠ গৃহপরিচারিকা অমৃতা, যিনি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ছিলেন, পরবর্তী সময়ে রহস্যজনক পরিস্থিতিতে মারা যান—যা প্রশ্নকে আরও ঘনীভূত করে।

দিব্যা ভারতীর অসমাপ্ত একাধিক ছবি পরে অন্য অভিনেত্রীদের দিয়ে শেষ করা হয়, যার মধ্যে শ্রীদেবী অভিনীত ‘লাডলা’ উল্লেখযোগ্য।

আজও দিব্যা ভারতী স্মরণীয় হয়ে আছেন শুধু তাঁর সৌন্দর্য ও প্রতিভার জন্য নয়, বরং তাঁর মৃত্যুর আগের সেই রাত ঘিরে থাকা শীতল করা অমীমাংসিত রহস্যের জন্য।