অনলাইন ডেস্ক
ক্যান্সার সৃষ্টিকারী জিনে আক্রান্ত এক পুরুষের শুক্রাণু থেকে গোটা ইউরোপে জন্ম নিয়েছে প্রায় ২০০ শিশু। সম্প্রতি ইউরোপীয় ব্রডকাস্টিং ইউনিয়ন ও ১৪টি পাবলিক সার্ভিস ব্রডকাস্টারের এক যৌথ অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এই তথ্য। ফাঁস হওয়া তথ্য থেকে জানা গেছে, ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধিতে কাজ করে এমন জিনগত মিউটেশনে এক আক্রান্ত পুরুষের শুক্রাণু থেকেই শিশুগুলোর জন্ম হয়েছে। গোটা ইউরোপে এর সংখ্যা ১৯৭। কিছু শিশু ইতিমধ্যেই ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। আর যারা ওই বিপজ্জনক জিন টিপি৫৩ পেয়েছে-তারা আজীবনই ক্যান্সারের ঝুঁকিতে থাকবে। কেননা লি-ফ্রমেনি সিন্ড্রম নামে পরিচিত ওই জিনে ক্যান্সারের সম্ভাবনা ৯০ শতাংশ পর্যন্ত। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
এতে বলা হয়, ওই দাতার নাম অজানা। দাতাটি ২০০৫ সাল থেকে শিক্ষার্থী অবস্থায় অর্থের বিনিময়ে শুক্রাণু দান শুরু করেন। তিনি নিজে সুস্থ, নিয়মিত স্ক্রিনিংও পাস করেছিলেন। তবে জন্মের আগেই তার কিছু কোষে মিউটেশন ঘটে টিপি৫৩ জিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তার শরীরের বেশিরভাগ কোষে এ মিউটেশন নেই। কিন্তু শুক্রাণুর প্রায় ২০ শতাংশে এই জিনে আক্রান্ত ছিল। তার শুক্রাণু দিয়ে যেসব শিশু জন্মেছে তাদের প্রত্যেকের কোষে মিউটেশন ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাই বেশি।
ডেনমার্কের ইউরোপিয়ান স্পার্ম ব্যাংক জানায়, বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর দাতাকে সঙ্গে সঙ্গে নিষিদ্ধ করা হয়। তবে কয়েকটি দেশে দাতার শুক্রাণু অনুমোদিত সীমার চেয়ে বেশি ব্যবহার হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটি স্বীকার করেছে। শুক্রাণু বৃটেনে ব্যবহৃত না হলেও বিবিসি নিশ্চিত হয়েছে যে ডেনমার্কে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া কিছু বৃটিশ নারী ওই দাতার শুক্রাণু গ্রহণ করেছেন। ইতিমধ্যেই তাদের এ বিষয়ে অবগত করা হয়েছে।
চিকিৎসকেরা জানান, অন্তত ৬৭টি শিশুর তথ্য পাওয়া গেছে। যাদের ২৩ জনের জিনে মিউটেশন ধরা পড়েছে। আর ইতিমধ্যেই ১০ জন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছে। ফ্রান্সের রোঁ অঞ্চলের জেনেটিক বিশেষজ্ঞ ড. এদুইজ কাসপার বলেন, অনেক শিশু ইতিমধ্যে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছে, কারও একাধিকবার হয়েছে, কেউ খুব অল্প বয়সেই মারা গেছে। ফ্রান্সের এক নারী জানিয়েছেন, তার ১৪ বছর বয়সী মেয়েও ওই জিন বহন করছে। তিনি বলেন, দাতার প্রতি আমার কোনো ক্ষোভ নেই, কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ শুক্রাণু দেওয়া একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। এখন প্রতিনিয়ত ক্যান্সারের হুমকি নিয়ে তাদের জীবন কাটাতে হবে।
ইউরোপের ১৪ দেশের অন্তত ৬৭টি ক্লিনিকে ওই দাতার শুক্রাণু ব্যবহার করা হয়েছে। কয়েকটি দেশে আইনের তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত শিশুর জন্ম হয়েছে। যেমন-বেলজিয়ামে এক দাতার শুক্রাণু সর্বোচ্চ ৬ পরিবারে দেওয়া যায়। সেখানে ওই দাতার শুক্রাণু ব্যবহার করে ৩৮ জন নারী ৫৩ শিশুর জন্ম দিয়েছেন।
সফল স্ক্রিনিং সত্ত্বেও বিরল জিনগত মিউটেশন সবসময় ধরা পড়ে না। এ কথা বলেই ইউরোপিয়ান স্পার্ম ব্যাংক দায় এড়িয়েছে। সফোক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অ্যালান পেসি বলেন, আমরা সবকিছু স্ক্রিন করতে পারি না। তাহলে দাতাই মিলবে না। বিশ্বব্যাপী দাতার শুক্রাণু ব্যবহারে কোনো আন্তর্জাতিক আইন নেই। ইউরোপীয় সোসাইটি অব হিউম্যান রিপ্রোডাকশনের প্রস্তাব-একজন দাতার শুক্রাণু সর্বোচ্চ ৫০ জন নারীর বেশি ব্যবহার না করা উচিৎ নয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত বিরল। তবে দাতার শুক্রাণু ব্যবহারের আগে অবশ্যই সব বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে।











































