Home আন্তর্জাতিক গ্রেসি ম্যানশনে উঠছেন জোহরান মামদানি দম্পতি

গ্রেসি ম্যানশনে উঠছেন জোহরান মামদানি দম্পতি

6


অনলাইন ডেস্ক।।
আর অল্প কিছুদিন বাকি। এরপরই নিউ ইয়র্কের মেয়র হিসেবে শপথ নেবেন জোহরান মামদানি। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি এবং তার স্ত্রী রামা ম্যানহাটানের ঐতিহাসিক গ্রেসি ম্যানশনে উঠবেন। পরিবারের নিরাপত্তা এবং নিউ ইয়র্কবাসীর জন্য তার ‘সহনশীলতা এজেন্ডা’তে পুরোপুরি মনোযোগ দেয়ার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

মামদানি সামাজিক মাধ্যমে জানান, আমার স্ত্রী রামা এবং আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি জানুয়ারিতে গ্রেসি ম্যানশনে উঠব। তিনি লিখেছেন, অ্যাস্টোরিয়ার তাদের বর্তমান বাসাটা তার কাছে কতটা বিশেষ, সেই পাড়া কীভাবে তার কাজ এবং ভাবনায় সবসময় রয়ে যাবে। তার ভাষায়, এই সিদ্ধান্ত মূলত আমাদের পরিবারের নিরাপত্তা এবং নিউইয়র্কবাসী যেটির জন্য ভোট দিয়েছেন- সাশ্রয়ী বসবাসের সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সম্পূর্ণ মনোযোগ দেয়ার প্রয়োজনীয়তা থেকেই এসেছে। আমরা অ্যাস্টোরিয়ার সবকিছুই মিস করব- অবিরাম আডেনি চায়ের গন্ধ, স্প্যানিশ-আরবিসহ নানা ভাষার প্রাণবন্ত কথা, সী-ফুড আর শাওয়ারমার সুগন্ধে ভরা রাস্তাগুলো।


৩৪ বছর বয়সী এই ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট গত মাসে বিপুল ব্যবধানে নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচিত হন। তিনি হচ্ছেন গত শতাব্দীর মধ্যে নিউইয়র্কের সবচেয়ে কমবয়সী মেয়র। তবে নির্বাচনী সাফল্যের পাশাপাশি বিতর্কও তাকে ঘিরেছিল। অ্যাস্টোরিয়ার একটি সাবসিডাইজড, রেন্ট-স্ট্যাবিলাইজড এক বেডরুম ফ্ল্যাটে তিনি থাকেন। এর জন্য তিনি মাসে প্রায় ২,৩০০ ডলার (প্রায় ২ লাখ রুপি) ভাড়া দেন। কিন্তু তার বাৎসরিক আয় ১,৪২,০০০ ডলার হওয়ায় তাকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। সাবেক গভর্নর অ্যানড্রু কুমোও এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা করেন।

মামদানির বর্তমান ৮০০ বর্গফুটের অ্যাপার্টমেন্টে হিটিং আর গরম পানি ভাড়ার মধ্যেই থাকে- যা নিউইয়র্ক আইনে বাধ্যতামূলক। বাসায় ওয়াশার-ড্রায়ার নেই। তবে বিল্ডিংয়ে সবার জন্য একটি লন্ড্রি রুম আছে। ১৯২৯ সালে নির্মিত ভবনটিতে লিফটও রয়েছে, অ্যাস্টোরিয়ায় যা বেশ বিরল। অন্যদিকে, গ্রেসি ম্যানশন নিউইয়র্ক মেয়রদের সরকারি আবাস হিসেবে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য বহন করে। এখানে আছে ইস্ট রিভারের দৃষ্টিনন্দন ভিউ, বড় একটি ফায়ারপ্লেসসহ অতিথি আপ্যায়ন কক্ষ, প্যারিসিয়ান বাগানের নকশা করা ওয়ালপেপারসহ আরামদায়ক ডাইনিং ও সিটিং রুম, পূর্ণকালীন গ্রেসি শেফ- যিনি মেয়র পরিবারের জন্য খাবার প্রস্তুত করেন। এ ছাড়াও নিরাপত্তার দিক থেকে স্থানটি অত্যন্ত সুরক্ষিত। আছে উঁচু বেড়া, নজরদারি ক্যামেরা এবং সার্বক্ষণিক পুলিশ উপস্থিতি।

নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, নিরাপত্তা ও বড় পরিসরের সরকারি অনুষ্ঠান আয়োজনের উপযোগী অবকাঠামোর কারণেই প্রায় সব মেয়র শেষ পর্যন্ত গ্রেসি ম্যানশনেই ওঠেন। অ্যাস্টোরিয়া- তরুণদের ও পরিবারদের জন্য সাশ্রয়ী, প্রাণবন্ত এবং বহুসংস্কৃতির আবাসিক এলাকা। আপার ইস্ট সাইড- বিশ্ববিখ্যাত জাদুঘর, উচ্চমানের বার ও ঐতিহাসিক স্থাপনার অভয়ারণ্য। দুই এলাকার জীবনযাপন সম্পূর্ণ ভিন্ন হলেও দায়িত্ব, নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক চাপ বিবেচনায় মামদানি দম্পতির সিদ্ধান্তকে অনেকেই যৌক্তিক বলে দেখছেন।