Home Lead ঘুম থেকে উঠে দেখলেন বাড়ির বাগানে আছড়ে পড়েছে বিশাল কন্টেইনার বোঝাই জাহাজ

ঘুম থেকে উঠে দেখলেন বাড়ির বাগানে আছড়ে পড়েছে বিশাল কন্টেইনার বোঝাই জাহাজ

12

অনলাইন ডেস্ক।।

নরওয়ের এক ব্যক্তি ঘুম থেকে উঠে হতবাক হয়ে পড়েন। যখন তিনি তার বাড়ির বাগানে এক বিশাল কন্টেইনার বোঝাই জাহাজ আছড়ে পড়তে দেখেন। খবর বিবিসি


১৩৫ মিটার (৪৪৩ ফুট) লম্বা জাহাজটি বৃহস্পতিবার (২২ মে) স্থানীয় সময় ভোর ৫টা নাগাদ জোহান হেলবার্গের বাড়ি থেকে কয়েক মিটার দূরে আছড়ে পড়ে।

জাহাজ আছড়ে পড়ার ঘটনায় শুরুতে কিছুই বুঝে উঠতে পারেননি হেলবার্গ। পাশের আতঙ্কিত প্রতিবেশী যখন দরজায় এসে জানালেন যে জাহাজটি তীরের দিকে সোজা চলে আসছিল, তখনই তিনি পুরো ব্যাপারটি বুঝতে পারেন।

টেলিভিশন চ্যানেল টিভি২ কে হেলবার্গ বলেন, ‘প্রতিবেশী যখন দরজার সামনে এসে বেল বাজালেন সেই সময়ে আমি সাধারণত দরজা খুলি না।’

দ্য গার্ডিয়ানকে দেয়া সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, ‘আমি জানালার কাছে গিয়ে যখন এক বিশাল জাহাজ দেখলাম। তখন রীতিমতো হতবাক হয়ে গেলাম। জাহাজটির চূড়া দেখতে আমাকে গলা উঁচিয়ে তাকাতে হয়েছে। পুরো দৃশ্যটা যেন অবিশ্বাস্য ছিল।’

নরওয়েজিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন (এআরকে) কে তিনি আরও বলেন, ‘আর মাত্র পাঁচ মিটার দক্ষিণে গেলে জাহাজটি সরাসরি শোবার ঘরে ঢুকে পড়ত। তবে আমি কিছুই শুনতে পাইনি।’

প্রতিবেশী জোস্টেইন ইয়র্গেনসেন জানান, জাহাজটি যখন পূর্ণ গতিতে উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছিল, তখন তার শব্দে তিনি ঘুম থেকে জেগে ওঠেন এবং সঙ্গে সঙ্গে হেলবার্গের বাড়ির দিকে ছুটে যান।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিশ্চিত ছিলাম যে সে (হেলবার্গ) ইতিমধ্যেই বাইরে বেরিয়ে এসেছেন, কারণ ঘরের মধ্যে কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না।’


টিভি২ কে তিনি বলেন, ‘আমি বহুবার কলিং বেল চাপলাম, কিন্তু কোনো সাড়া পেলাম না। শেষ পর্যন্ত যখন আমি তাকে ফোন করি, তখনই তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারি।’

সাইপ্রাস পতাকাবাহী মালবাহী জাহাজ ‘এনসিএল সালটেন’ এ মোট ১৬ জন ক্রু ছিলেন। এটি ট্রনহেইম ফিয়র্ড পেরিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে অর্কাঙ্গার বন্দরের দিকে যাচ্ছিল, তখনই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তীরে আছড়ে পড়ে। তবে এতে কেউ আহত হননি।

আরও পড়ুন:


দুর্ঘটনার কারণ এখনো জানা যায়নি এবং নরওয়েজিয়ান পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।

হেলবার্গ বলেন, ‘জাহাজটি খুবই বিশাল ও অদ্ভুত নতুন প্রতিবেশী, তবে এটি শিগগিরই চলে যাবে।’ জাহাজটি ভাড়া নেওয়া সংস্থা এনসিএল’র প্রধান বলেন, ‘এটি একটি গুরুতর ঘটনা এবং আমরা কৃতজ্ঞ যে কেউ আহত হননি।’

ব্যবস্থাপনা পরিচালক বেন্তে হেটল্যান্ড বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা জানি না কী কারণে এই ঘটনা ঘটেছে এবং আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই জাহাজটি ২০২৩ সালেও একবার তীরে আটকে গিয়েছিল, তবে তখন নিজস্ব শক্তিতেই সেটি মুক্ত হতে সক্ষম হয়।