খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
সরা দেশে একদিনে বজ্রপাতে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৮ এপ্রিল) সকাল থেকে বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাতে খুলনায় দু’জন, কুমিল্লার দুই উপজেলায় চারজন, কিশোরগঞ্জের দুই উপজেলায় তিনজন এবং নেত্রকোণা, সুনামগঞ্জ, চাঁদপুর, শরীয়তপর,হবিগঞ্জ,মৌলভীবাজার ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একজন করে মারা যান।
খুলনার রূপসা ও ডুমুরিয়া উপজেলায় বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে রূপসায় মৃত্যু হয় মো. আরিফুল ইসলাম (২৯) এবং ডুমুরিয়ায় মহিদুল ইসলাম সরদারের (৪৮)।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে রূপসা উপজেলার জাবুসার সাইফুল ইসলামের ছেলে আরিফুল ইসলাম আইচগাতি এলাকার একটি বাড়িতে কাজ করছিলেন। বৃষ্টির সময় তিনি একটি গাছের উপরে ছিলেন। হঠাৎ বজ্রপাতের কারণে গাছ থেকে পড়ে গেলে এলাকাবাসী তাকে নিয়ে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যান। বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটের দিকে খুমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎক ডা. সত্যজিৎ মন্ডল তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তার মরদেহ গ্রামের বাড়ি নেওয়া হয়।
অপরদিকে, সোমবার বিকেলে ঝড়ের সময় ডুমুরিয়া উপজেলার খর্ণিয়া ইউনিয়নের পাঁচুড়িয়া গ্রামের আব্বাস সরদারের ছেলে মহিদুল ইসলাম সরদার (৪৮) তার আত্মীয় আবদুল হাকিমের ধান কেঁটে দিতে সিংগার বিলে অবস্থান করছিলেন। এসময় বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়।
খর্ণিয়া ইউপির মেম্বর মোল্লা আবুল কাশেম বলেন, ভায়রা ভাইয়ের ধান কেটে দিতে এসে দুই সন্তানের জনক মহিদুল বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছেন।
কুমিল্লা: কুমিল্লার দুই উপজেলায় বজ্রপাতে দুই স্কুলছাত্রসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত আরও একজনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টা থেকে দুপুরের মধ্যে বরুড়া ও মুরাদনগর উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতে তাদের মৃত্যু হয়। বরুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক ও বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত দুই স্কুলছাত্র হলো- বরুড়া উপজেলার পয়ালগচ্ছ গ্রামের মৃত খোকন মিয়ার ছেলে মো. ফাহাদ হোসেন (১৩) ও একই এলাকার বিলাল হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ জিহাদ (১৪)। তারা বড়হরিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। বাকি দুজন হলেন, মুরাদনগর উপজেলার দেওরা গ্রামের জসিম উদ্দিন ভূঁইয়ার ছেলে জুয়েল ভূঁইয়া (৩৫) ও কোরবানপুর পশ্চিম পাড়া (কালীবাড়ি) গ্রামের মৃত বীরচরণ দেবনাথের ছেলে নিখিল দেবনাথ (৬০)।
কিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে তিনজন নিহত হয়েছেন। সোমবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে মিঠামইন উপজেলার শান্তিগঞ্জ হাওরে ও সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অষ্টগ্রাম উপজেলার হালালপুর এবং কলমা হাওরে এসব বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- অষ্টগ্রাম উপজেলার কলমা ইউনিয়নের হালালপুর গ্রামের মৃত যতিন্দ্র দাসের ছেলে ইন্দ্রজিত দাস (৩৬), খয়েরপুর-আব্দুল্লাপুর ইউনিয়নের আনেয়ারপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. ইদ্রিস মিয়ার ছেলে স্বাধীন মিয়া (১৪) ও মিঠামইন উপজেলার কেওয়ারজোড় ইউনিয়নের রানিগঞ্জ গ্রামের আশরব আলীর স্ত্রী ফুলেছা বেগম (৬০)।
সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় বজ্রপাতে রিমন তালুকদার (২২) নামে এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকালে উপজেলার আটগাঁও গ্রামের বুড়িগাঙ্গাল হাওরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রিমন তালুকদার শাল্লা কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতোই সকালে গরুকে ঘাস খাওয়াতে বাড়ির পাশের বুড়িগাঙ্গাল হাওরে যান রিমন। এ সময় হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে তিনি নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এর মধ্যেই বজ্রপাতের শিকার হয়ে ঘটনাস্থলেই রিমন ও তার সঙ্গে থাকা গবাদিপশুর মৃত্যু হয়।
চাঁদপুর: কালবৈশাখী ঝড়ে চাঁদপুরের কচুয়ায় বজ্রপাতের বিকট শব্দে হার্ট অ্যাটাক করে বিশকা রানী সরকার (৪৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দুপুরে উপজেলার উত্তর কচুয়া ইউনিয়ন পরিষদের নাহারে গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত বিশকা রানী সরকার চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ৩নং ইউনিয়নের নাহারা গ্রামের পূর্বপাড়া মন্দির ওয়ালা বাড়ির হরিপদ সরকারের স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বেলা সাড়ে ১১টায় তারা স্বামী-স্ত্রী দুজন ধানের জমিতে কাজ করছিলেন। ওই সময় আকাশে মেঘ করে বজ্রপাত হয়। বজ্রপাতের শুনে স্ত্রী বিশকা রানী সরকার মাটিতে পড়ে যান। পরে তার স্বামী হরিদাস সরকার তাকে উদ্ধার করে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বিশকা রানী সরকারকে মৃত ঘোষণা করেন।
নেত্রকোণা: নেত্রকোণার মদনে বজ্রপাতে আরাফাত মিয়া (১০) নামে এক মাদরাসাছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার ভোর ৬টার দিকে উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়নের তিয়শ্রী গ্রামে নিজ বাড়ির সামনেই তার মৃত্যু হয়। আরাফাত উপজেলার তিয়শ্রী গ্রামের আব্দুস ছালামের ছেলে।
শরীয়তপুর: শরীয়তপুরে গরুর জন্য খোলা মাঠ জমি থেকে ঘাস আনতে গিয়ে বজ্রপাতে শেফালী বেগম (৩৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দুপুরে ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর ইউনিয়নের বেপারী কান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শেফালী বেগম বেপারী কান্দি গ্রামের সোহরাব হোসেন বেপারীর স্ত্রী।
হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার হাওরে বজ্রপাতে দুর্বাসা দাস (৩৫) নামে এক ধান কাটা শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ছাড়াও এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩ জন। সোমবার সকালে এই ঘটনা ঘটে। আহতরা উপজেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন।
মৌলভীবাজার: বড়লেখা উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের শ্রীধরপুর গ্রামে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে মাখন রবি দাস (৪৮) নামে এক চা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। নিহত মাখন ওই ইউনিয়নের অহিদাবাদ চা বাগানের মৃত শংকুরা রবি দাসের ছেলে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে জমিতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে মানিক মিয়া (৬৫) নামে এক কৃষক নিহত হয়েছেন। তার সঙ্গে থাকা হানিফ মিয়া (৬০) গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত হানিফ মিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সোমবার দুপুরে উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়নের চর-মরিচাকান্দি বিলপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মানিক মিয়া চর-মরিচাকান্দি বিলপাড়ার বাসিন্দা মৃত কালাগাজীর ছেলে ও আহত হানিফ মিয়া আহসান উল্লার ছেলে। তারা দুজনই একই পাড়ার বাসিন্দা। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মানিক মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।











































