Home Uncategorized খুলনা সদর থানার সাবেক ওসিসহ ৯ পুলিশের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

খুলনা সদর থানার সাবেক ওসিসহ ৯ পুলিশের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

252


স্টাফ রিপোর্টার
খুলনা সদর থানায় দু’ছাত্রদল নেতাকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে নির্মম নির্যাতনের ঘটনায় তৎকালিন অফিসার ইনচার্জ এস এম কামরুজ্জামানসহ ৯ পুলিশের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে ।


রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নালিশী পিটিশনটি দাখিল করেন নির্যাতিত সাবেক ছাত্রদল নেতা মাহমুদুল হক টিটো। আদালতের বিচারক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিছুর রহমান পিটিশনটি আমলে নিয়ে ১৯ নভেম্বরের মধ্যে পুলিশ কমিশনারকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করেছেন। মামলার অপর আসামিরা হলেন তৎকালীন খুলনা সদর থানার তৎকালীন পুলিশ কমিশনার শফিকুর রহমান ও তৎকালীন ডেপুটি পুলিশ কমিশনার, উপ পরিদর্শক (এসআই) মো. জেলহাজ্ব উদ্দিন, সহকারী উপ পরিদর্শক (এএসআই) মো. শাহ আলম, কনস্টেবল কাশেম, জাহিদ, তারক, ইস্রাফিলসহ অজ্ঞাত আরো অনেকে। এস এম কামরুজ্জামান বর্তমানে কেএমপির বোম ডিস্পোজাল ইউনিটের এডিসি হিসেবে কর্মরত রয়েছে।


মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১২ সালের ২২ এপ্রিল আনুমানিক সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার দিকে তৎকালীন পুলিশ কমিশনার শফিকুর রহমান ও ডেপুটি পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে ওসি এস এম কামরুজ্জামানসহ আসামিরা মাথায় হেলমেট, হাতে লাঠি ও সরকারি অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মাহমুদুল হক টিটো ও ফেরদৌস রহমান মুন্নাকে জোরপূর্বক আটক করে। তাদের হ্যাণ্ডকাপ পরিয়ে ও চোখ গামছা দিয়ে বেধে থানায় নিয়ে আসা হয়।

পরে মাহমুদুলকে হ্যাণ্ডকাপ পরা অবস্থায় থানা অভ্যন্তরে ফ্যানের হুকের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেয়। পুলিশের বেধড়ক মারধরে বাদী অজ্ঞান হয়ে পড়েন। কামরুজ্জামান তখন পুলিশ সদস্যদের বলেন, ‘শালার জ্ঞান ফেরা, আমাদের আরো কাজ বাকি আসে।’ তখন আসামি এসআই মো. জেলহাজ্ব উদ্দিন চোখে মুখে পানি দিয়ে তার জ্ঞান ফেরান। তিনি কোনভাবেই বসতে পারছিলেন না। আসামিরা তাকে বার বার লাঠি দিয়ে আঘাত করে। এক পর্যায়ে তৎকালীন ওসি বাদীর পেটে লাথি মেরে মেঝেতে ফেলে দেয়।

বলে-‘ শালাকে ক্রসফায়ারের জন্য গাড়িতে উঠা, সব জানতে পারবো। তখন বাদী মেঝেতে পড়ে থাকলে পুনরায় আসামিরা পিটাতে থাকে। এতে তার হাড় ভেঙে যায় ও জখম হয়ে জ্ঞান হারান। পুলিশ কমিশনার ও ডেপুটি কমিশনারের নির্দেশে পরে তাদের জেলহাজতে রাখা হয়। শুধু তাই নয়, ২০১২ সালের ২২ এপ্রিল পুলিশ মিথ্যা মামলা দায়ের করে। যার প্রধান আসামি বাদী ও ফেরদৌস রহমান মুন্না।


মামলার বাদী বলেন, দীর্ঘদিন অসুস্থ অবস্থায় জেল হাজতে থাকার পর সুপ্রীমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ থেকে জামিনে মুক্তি পেলেও তিনি আসামিদের রোষানল হতে মুক্তি পাননি। পরবর্তীতে বিভিন্ন দলীয় মামলায় তাকে আসামি করা হয়। এতে তাকে কারাভোগ করতে হয়। ওই নির্যাতনে তার মেরুদণ্ডে সমস্যা ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে এ বিষয়ে একাধিক বার থানা ও পুলিশের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দিলেও মামলা গ্রহণ করা হয়নি।