Home Uncategorized কাউকে বিশ্বাস করতেন না হাসিনা, বেরিয়ে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য!

কাউকে বিশ্বাস করতেন না হাসিনা, বেরিয়ে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য!

184


ঢাকা অফিস
গণতন্ত্রবাদী নেত্রী থেকে কেন স্বৈরাচার হয়ে উঠলেন শেখ হাসিনা? তার রাজনীতির কোথায় ছিলো গলদ? এবার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এলো জাপানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনটিতে উঠে আসে কিভাবে ১৯৯৬ সালে তিনি নিজেকে মেলে ধরেছিলেন গণতন্ত্রবাদী শাসক হিসেবে এবং কিভাবে নিজ হাতেই ২০০৯ সালের পর থেকে সেই গণতন্ত্রেরই গলা চেপে ধরেন তিনি।
ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালান শেখ হাসিনা। আর সেই সাথে পতন হয় দীর্ঘ ১৫ বছরের স্বৈরশাসনের। শেখ হাসিনা কিভাবে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করেছেন, কিভাবে দেশের মানুষের মতামত একেবারেই অগ্রাহ্য করে কায়েম করেছেন এক স্বৈরশাসন, এমনকি শেষের দিকে এসে কাউকেই বিশ্বাস করতে পারেননি তিনি। আর এসব নিয়ে এক লম্বা প্রতিবেদন করেছে জাপানি সংবাদ বাধ্যম নিক্কেই এশিয়া। প্রতিবেদনে উঠে এসেছে রাজনীতিবিদ হিসেবে শেখ হাসিনার কি ভুল ছিলো।
প্রতিবেদনটিতে কোটা আন্দোলনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়। বলা হয়, বেকারত্বে ভোগা সাধারণ শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করেন। কিন্তু তাদের এই আন্দোলনকে বিএনপির ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করে প্রবল বল প্রয়োগ করেন হাসিনা। কিন্তু তাতে হিতে বিপরীত হয়। হাসিনা শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ বলার পর অবস্থা পৌঁছে যায় ভয়াবহ পর্যায়ে। প্রতিবেদনটিতে বলা হয় হাসিনা শিক্ষার্থীদের উপর বল প্রয়োগের কারণেই চরম মূল্য দিয়েছেন।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে ৪৩ বছর আগে অর্থাৎ ১৯৮১ সালে যখন হাসিনা দেশে ফিরে আসেন, তখন স্বাধীনতা সংগ্রামের নায়কের কন্যা হিসেবে দেশের মানুষ তাকে স্বতস্ফুর্তভাবেই গ্রহণ করে নেয়। কিন্তু তার বিরুদ্ধেই সাধারণ মানুষের যে আন্দোলন ছিলো তা হাসিনার জন্যই ছিলো অবাককর বিষয়।

শেখ হাসিনা কিভাবে এবং কেন স্বৈরাচার ও বেপরোয়া হয়ে উঠলেন এ বিষয়ে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনস ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপিং ইকোনমিকস এর নির্বাহী সহ সভাপতি মায়ুমি মুরায়ামা বলেন, ১৯৯৬ সালে যখন শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন, তখন তাকে স্বৈরাচার বলে মনে হয়নি। বরং ২০০৯ সালে তিনি ক্ষমতায় আসার পর তার স্বৈরাচারি মনভাব প্রকাশ পেতে থাকে। হাসিনা ক্ষমতায় এসে সংবিধান পরিবর্তন করেন। বিরোধী দলে থাকার সময় তারই দাবি ছিলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার, কিন্তু তিনি নিজেই সেই ব্যবস্থা বাতিল করেন। ফলে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের সব পথ বন্ধ হয়ে যায়। যার কারণে তার একনায়কতন্ত্রকে চ্যালেঞ্জ করার মতো আর কিছুই অবশিষ্ট থাকেনি।
হাসিনা নিশ্চিত করেন যেন বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত হন। এতে তার প্রধান বিরোধী দল পুরোপুরি দুর্বল হয়ে যাবে। কিন্তু তার দমন নিপীড়ন শুধুমাত্র বিরোধী দলগুলোর উপরই ছিলো না, তিনি নিজের বাবাকে এক ঐশ্বরিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে চান এবং এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করেন যেখানে কোন রকমের সমালোচনা বা বিরোধী মত সহ্য করা হতো না।

এই বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবনে আরও একটি মারাত্মক ভুল ছিলো তিনি তার এক সময়ের শুভাকাঙ্ক্ষীদের দূরে সরিয়ে দিয়েছিলেন। কারও উপরই তিনি ভরসা করতেন না। শেষ পর্যন্ত তিনি শুধুমাত্র তার বোন শেখ রেহানার উপরই ভরসা করতেন। শুধু তাই না, তার চারপাশে শুধুই ছিলো ‘ইয়েস ম্যান’ বা ‘জ্বি হুজুর’ করা লোকজন। এ জন্যই তিনি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। ফলশ্রুতিতে তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি বা চাওয়া পাওয়া বুঝতে পারেননি। আর তাই আন্দোলন শুরু হওয়ার ৩৬ দিনের মাথায় পতন হয় তার।