Home Uncategorized দ্বিতীয় ধাপে ভোট আরও কমলো

দ্বিতীয় ধাপে ভোট আরও কমলো

19


খুলনাঞ্চল রিপোর্ট।।
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ৩০ শতাংশের বেশি ভোট পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল। গতকাল ভোট শেষে বিকাল ৫টায় নির্বাচন ভবনে তিনি এই তথ্য জানান। এর আগে প্রথম ধাপের নির্বাচনে ৩৬ শতাংশের কিছু বেশি ভোট পড়েছিল। দ্বিতীয় ধাপে ভোটের হার আরও কম হবে বলে মনে করছেন নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা।


মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয় ভোটগ্রহণ। এই দফায় ১৬১টি উপজেলার তফসিল ঘোষণা করা হলেও স্থগিত ও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থী জেতায় ভোট হয়েছে ১৫৬ উপজেলায়। গতকাল সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কম দেখা যায়। সকাল ১০টায় নির্বাচন কমিশনের দেয়া তথ্যেও তার প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রথম দুই ঘণ্টায় ৭ শতাংশ ভোট পড়ার তথ্য দেয় ইসি। পরবর্তীতে দুপুর ১টায় সংবাদ ইসি সচিব জাহাংগীর আলম বলেন, ১২টা পর্যন্ত গড়ে ১৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ ভোট পড়েছে। এরপর দুপুর ২টা পর্যন্ত ভোটের হারের কোনো তথ্য জানায়নি ইসি।


যদিও অন্য নির্বাচনগুলোতে প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর ভোটের হারের তথ্য জানায় নির্বাচন কমিশন। সর্বশেষ বিকাল ৫টায় ভোটের হারের তথ্য জানায় সিইসি। তিনি বলেন, নির্বাচনটা মোটামুটি ভালোই শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে উপস্থিতির হার ৩০ শতাংশের বেশি হতে পারে। তবে একেবারে সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে আগামীকাল।
কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, নির্বাচনে সহিংসতার তেমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। হাতাহাতি হয়েছে দুয়েকটা, কয়েকজন হয়তো হাসপাতালেও ভর্তি হয়েছে। কিন্তু উল্লেখযোগ্য সহিংসতা হয়নি। তিনি বলেন, দুজন সংবাদকর্মী আহত হয়েছে। হাতাহাতিতে আহত হয়েছে ৩৩ জন। দুয়েকজন গুরুতর হতে পারে। যেখানে অনিয়ম, ভোট কারচুপির অপচেষ্টা করা হয়েছে, সেখানে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২৫ জনকে, ১০ জনকে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। ভোটের আগে-পরে অসুস্থ হয়ে দুজন মারা গেছে।


এক প্রশ্নের উত্তরে সিইসি হাবিবুল আউয়াল বলেন, ৩০ শতাংশ ভোটার উপস্থিতিকে আমি কখনো উৎসাহব্যঞ্জক মনে করি না। কম ভোটার উপস্থিতির একটা বড় কারণ হতে পারে একটা বড় রাজনৈতিক দল প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে ভোট বর্জন করেছে এবং জনগণকে ভোটদানে নিরুৎসাহিত করেছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এই ধরনের পক্ষ-বিপক্ষ থাকতে পারে। তবে ভোট নিয়ে কোনো সংকট নেই। সংকটটা রাজনীতিতে। আমি মনে করি রাজনীতিতে যে সংকটটা রয়েছে, অবশ্যই একটা সময় কাটিয়ে ওঠা যাবে। সুস্থ ধারায় সামগ্রিক রাজনীতি প্রবাহিত হবে, ভোটাররা উৎসাহিত হবে।

এর আগে গত ৮ই মে ১৩৯ উপজেলায় প্রথম ধাপের ভোটে চেয়ারম্যান পদে ভোট পড়ে ৩৬ দশমিক ১ শতাংশ, যা উপজেলা নির্বাচনের ইতিহাসে সবচেয়ে কম ভোট পড়ার রেকর্ড। গতকাল অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রথম ধাপের চেয়ে কম ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নির্বাচন কমিশনের কয়েকজন কর্মকর্তা। তারা বলছে, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী এই ধাপে সর্বোচ্চ ৩২ থেকে ৩৩ শতাংশ ভোট কাস্ট হতে পারে।

এবার দেশের ৪৯৫টি উপজেলায় চার ধাপে ভোট হচ্ছে। ২৯শে মে তৃতীয় ধাপে ১১২ উপজেলায় এবং ৫ই জুন চতুর্থ ধাপে ৫৫ উপজেলায় ভোট হওয়ার কথা আছে।