Home আঞ্চলিক চায়ের দোকান করেও জিপিএ-৫ পেল ফরিদপুরের স্মৃতি

চায়ের দোকান করেও জিপিএ-৫ পেল ফরিদপুরের স্মৃতি

40

 

খুলনাঞ্চল রিপোর্ট।।

সংসার চালাতে চায়ের দোকানে কাজ করার পাশাপাশি এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ ফাইভ পেয়েছেন স্মৃতি আক্তার নামে এক ছাত্রী। তিনি ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ময়না ইউনিয়নের ময়না গ্রামের বাসিন্দা। এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় বোয়ালমারীর কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজের মানবিক বিভাগ থেকে অংশ নিয়ে এ ফলাফল অর্জন করে সে।

স্মৃতি আক্তার সাংবাদিকদের জানান, পরিবারের আয়ের সংস্থানের পাশাপাশি পড়াশোনার খরচ জোগানোর জন্য তারা দুই বোন বাড়ির পাশের মুদি দোকানে চা বিক্রি করেন। প্রথমে একটু সমস্যা হলেও এখন অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। সারাদিন চা বিক্রির পাশাপাশি সময় পেলেই পড়াশোনার কাজ সেরে নেন। পাশাপাশি রাতে যেটুকু সময় পান তা কাজে লাগান। এভাবেই তারা দুই বোন পড়াশোনা করে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার পথ বেছে নিয়েছেন। তবে মেডিক্যালে পড়ার ইচ্ছে থাকলেও অর্থের অভাবে কাঙ্ক্ষিত বিষয়ে পড়াতে পারছেন না স্মৃতি।

বড় বোন মনিকা আক্তার দারিদ্রতার সঙ্গে সংগ্রামের পাশাপাশি ফরিদপুরের সারদা সুন্দরী কলেজ থেকে অনার্স পাশ করেন।

স্মৃতির মা আসমা আক্তার বলেন, ‘তার শ্বশুর প্রায় ৩০বছর আগে বাড়ির পাশেই একটি মুদি দোকান করেন। তিনি মারা যাওয়ার পরে তার স্বামী হারুন শেখ এই দোকানের দ্বায়িত্ব নেন। ছোটবেলা থেকে বাবাকে সহায়তা করতো তার মেয়েরা। তবে আয় উপার্জন তেমন না হওয়ায় এ দোকান ছেড়ে তিনি তালগাছ বেচাকেনার ব্যবসা শুরু করেন। এরপর পরিবারের অভাব ঘোঁচাতে বাবার বদলে দুই মেয়ে দোকানের দেখাশোনা শুরু করেন।

তাদের বাবা হারুন শেখ বলেন, ‘মেয়েদের এ সাফল্যে আমরা খুবই আনন্দিত। এর আগে তার আরেক মেয়ে মনিকা অনার্স পাশ করায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাকে ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেন। এই টাকা কাজে লাগে তাদের পড়াশোনায়। মেয়েদের উচ্চশিক্ষা লাভে বড় বাধা আর্থিক সংকট। এই বাধা না থাকলে তারা আরও ভালো ফলাফল করতে পারত।’

স্থানীয় ইউপি মেম্বার মো. বাচ্চু শেখ বলেন, ‘মনিকা ও স্মৃতির এই সাফল্যের খবর জেনে তিনি তাদের বাড়িতে গিয়ে অভিনন্দন জানান। সারা গ্রামের মানুষ এ খবরে আনন্দিত। তারা ভবিষ্যতে পড়াশোনা করে আরও বড় হোক এই কামনা পুরো গ্রামবাসীর।’