স্টাফ রিপোর্টার
করোনাভাইরাসে আক্রান্তের দিক থেকে প্রতিদিনই নতুন নতুন রেকর্ড গড়ে চলেছে খুলনা। খুলনাবাসীর অনিয়ন্ত্রিত চলাফেরাকে এজন্য দায়ী করেছেন চিকিৎসকরা। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাফেরা না করায় প্রতিদিনই করোনা আক্রান্তের সংখ্য বেড়ে চলছে বলেও জানান তারা।
এ অবস্থায় গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনায় আরও ১৭২ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে খুলনায় মোট করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১ হাজার ৩৭৮ জনে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় খুলনা মেডিকেল কলেজের (খুমেক) পিসিআর ল্যাব ও সিভিল সার্জনের দফতর থেকে এ তথ্য জানা যায়।
খুমেকের উপাধ্যক্ষ ডা. মেহেদী নেওয়াজ বলেন, বুধবার খুমেকের পিসিআর ল্যাবে ৩৭৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে খুলনার নমুনা ছিল ৩৫০টি। এর মধ্যে ১৭২টির রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। যার মধ্যে ১৬৪ জনই খুলনার বাসিন্দা। পাশাপাশি যশোরের তিনজন, নড়াইলের একজন, বাগেরহাটের চারজনের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে।
খুলনার সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমেদ বলেন, বুধবার দুপুর পর্যন্ত খুলনায় করোনা রোগীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ২০৬ জন। সন্ধ্যায় খুমেকের ল্যাবে আরও ১৭২ জনের করোনা শনাক্ত হয়। এ নিয়ে খুলনায় মোট করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১৩৭৮ জন। তিনি বলেন, গত ২৫ মার্চ থেকে করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য খুলনাবাসীকে আহ্বান জানানো হয়েছে। কিন্তু কেউ তা মেনে চলছে না। দোকানপাট বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলার কথা থাকলেও তা মানছেন না ব্যবসায়ীরা। ফলে প্রতিদিনই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।
খুমেকে করোনায় চিকিৎসকসহ ৪জনের মৃত্যু
স্টাফ রিপোর্টার
খুমেকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসকসহ আরও চার জনের মৃত্যু হয়েছে।
গতকাল বুধবার খুলনা করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।
মৃত. ব্যক্তিরা হলেন নগরীর দৌলতপুরের কবির বটতলা এলাকার মৃত. আব্দুর রহমানের ছেলে নেছারউদ্দিন (৫৬), নগরীর টুটপাড়ার দিলখোলা রোডের মৃত. আফসার উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ ওমর ফারুক (৫৪), বাগেরহাট ফকিরহাটের ডা. উপেন্দ্রনাথ এবং নগরীর শেখপাড়া এলাকার জালাল উদ্দিন (৭২)।
খুলনা করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। ডা. ফরিদ উদ্দিন জানান করোনা আক্রান্ত হয়ে নেছারউদ্দিন গত ২০জুন করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় তার মৃত্যু হয়। অপরদিকে, মোহাম্মদ ওমর ফারুক করোনা আক্রান্ত হয়ে একই দিন করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে ভর্তি হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার বেলা ১১টায় তার মৃত্যু হয়।
তিনি আরও জানান, এর আগে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টায় বাগেরহাটের ফকিরহাটের ডা. উপেন্দ্রনাথ এবং বুধবার সকাল সাড়ে ৬টায় নগরীর শেখপাড়া এলাকার জালাল উদ্দিন (৭২) নামে দুই রোগীর মৃত্যু হয়। খুলনায় করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এ পর্যন্ত ১৮জনের মৃত্যু হলো।
অপরদিকে খুমেকের আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকাল পার্সন ডা. মিজানুর রহমান জানান, জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে গত ২৩ জুন হাসপাতালে ভর্তি হন জেলার কয়রা উপজেলার বাগালী ইউনিয়নের ঘুগরাকাঠি এলাকার সোহেল উদ্দিন সানার ছেলে আব্দুল কাদের সানা। রাত সোয়া একটার দিকে তার মৃত্যু হয়।
ডা. মিজানুর রহমান আরও জানান, খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার মৃত. আমির হোসেনের ছেলে মো. রফিকুল ইসলাম (৫০) গত ২৩ জুন হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনিও জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। রাত দেড়টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তাদের দু’জনেরই নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।









































