Home আঞ্চলিক বাম গণতান্ত্রিক জোটের উদ্যোগে খুলনার বিশিষ্ট নাগরিকদের সাথে মতবিনিময়

বাম গণতান্ত্রিক জোটের উদ্যোগে খুলনার বিশিষ্ট নাগরিকদের সাথে মতবিনিময়

9

স্টাফ রিপোর্টার:

করোনা ভাইরাস সংক্রমণকালে চলমান পরিস্থিতি বিষয়ে মতবিনিময় এবং সম্মিলিত উদ্যোগ নেয়ার লক্ষ্যে আজ বাম গণতান্ত্রিক জোট খুলনা জেলা শাখার আয়োজনে প্রতিনিধিত্বশীল নাগরিকদের নিয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি খুলনা জেলা কার্যালয়ে শারীরিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন জোটের খুলনা জেলা কমিটির সমন্বয়কারী ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), খুলনা জেলা সমন্বয়কারী কমরেড জনার্দন দত্ত নাণ্টু এবং সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), খুলনা মহানগর সাধারণ সম্পাদক কমরেড এড. মোঃ বাবুল হাওলাদার।

উপস্থিত ছিলেন, জেএসডি কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা এড. আ ব ম মহসীন, বিশিষ্ট নাগরিক নেতা এড. কুদরত-ই-খুদা, সিপিবি কেন্দ্রীয় সদস্য ও খুলনা জেলা সভাপতি কমরেড ডাঃ মনোজ দাশ, কেন্দ্রীয় সদস্য কমরেড এস এ রশীদ, জেলা সদস্য কমরেড মিজানুর রহমান বাবু, বিশিষ্ট নাগরিক এড. জাহাঙ্গীর সিদ্দিকী, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ, খুলনা জেলা সম্পাদকম-লীর সদস্য কমরেড মোস্তফা খালিদ খসরু, কমরেড কাজী দেলোয়ার হোসেন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট, খুলনা জেলা সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের জেলা সদস্য আফজাল হোসেন রাজু, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম খুলনা জেলা আহ্বায়ক কোহিনুর আক্তার কণা, রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকল বদলী শ্রমিক সংগঠন, খুলনা-যশোর অঞ্চল কমিটির আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক তালুকদার, বিজ্ঞান আন্দোলন মঞ্চ খুলনা জেলা সদস্য সঙ্গীতা ম-ল প্রমুখ।

মতবিনিময় সভায় বিশিষ্ট নাগরিকরা বলেন, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে ভূমিকা নেয়ার ক্ষেত্রে সরকার শুরুতে গাড়িমসি করেছে। সব ধরনের প্রস্তুতি আছে বললেও প্রয়োজনের সময় প্রস্তুতিতে প্রচ- ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়। দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতা ও অসহায়ত্ব মারাত্মকভাবে দৃশ্যমান, বলা যায় ভেঙ্গে পড়েছে। লকডাউন কার্যকরভাবে মানতে হলে যেমন জনগণের সচেতনতা প্রয়োজন তেমনি সরকারের দিক থেকে তাদের ন্যূনতম খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

কিন্তু ত্রাণ ও রেশন কার্ড বিতরণে দুর্নীতি, দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি, চুরি প্রভৃতি কারণে প্রকৃত শ্রমজীবী মানুষের বেশিরভাগ বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে লকডাউনের মধ্যে পেটের দায়ে শ্রমজীবী মানুষ ঘরের বাইরে বের হতে বাধ্য হচ্ছে। আবার এমন পরিস্থিতিতে গার্মেন্টস-সহ খুলে দেয়ার কারণে সংক্রমণ পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে ধাবিত হচ্ছে। মালিক শ্রেণির কাছে সরকারের অসহায়ত্ব প্রকটভাবে প্রকাশমান। আগামী ১০ মে থেকে মার্কেট দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়হীনতাও স্পষ্ট। আর এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে সংক্রমণ মহামারী আকার ধারণ করলে সরকারের পক্ষে তা সামাল দেয়া সম্ভব হবে না। আর পরবর্তীতে খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ে যে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা দেখা দেবে, তার সম্ভাবনা এখনই দূর করার উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি সামগ্রিকভাবে ভয়াবহ অবস্থার দিকে যাবে। এমতাবস্থায় উপস্থিত নাগরিকবৃন্দ দেশপ্রেমিক সকল রাজনৈতিক দল, বিশিষ্ট ব্যক্তি, পেশাজীবী-সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনকে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ বিনা চলমান পরিস্থিতি মোকাবেলা করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন।

তাঁরা বৈঠক থেকে এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে সরকারের কাছে দাবী জানান। একই সাথে ত্রাণ ও রেশন কার্ড বিতরণে সমন্বয় সাধন করে প্রকৃত প্রয়োজন যাদের তারা যেন পায় তা নিশ্চিত করতে এলাকার জনপ্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় করার বিষয়েও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আগামীতে এ উদ্যোগ আরও বৃহত্তর পরিবেশে গ্রহণ করে একটি সামাজিক শক্তি গড়ে তোলার জন্য নাগরিকবৃন্দ এগিয়ে আসবেন বলে অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন।