Home আঞ্চলিক দাকোপের বাজুয়ায় আজ গনহত্যা দিবস

দাকোপের বাজুয়ায় আজ গনহত্যা দিবস

53

 

মোঃ শামীম হোসেন- বাজুয়া (দাকোপ) ।।

খুলনার দাকোপের বাজুয়ায় ১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে সংগঠিত হয়েছিল এক নৃশংস অমানবিক গনহত্যা। ৩০ লক্ষ শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে দাড়িয়ে আছে যে বাংলাদেশ তারই একটি অংশ বাজুয়ার গনহত্যা। পরাধীনতার লৌহ শৃংখল থেকে মুক্তির স্বপ্ন দ্রস্টা, বাংলাদেশের স্থাপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে পরিচালিত মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরুর অব্যবহিত পরে দক্ষিন খুলনার শিক্ষা সংস্কৃতির পীঠ স্থান শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী বাজুয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে সংগঠিত হয়েছিল এক নৃসংশ অমানবিক গনহত্যা। সাত পুরুষের ভিটেমাটি ছেড়ে রামপাল, মোংলা, মোড়েলগঞ্জ সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বাচার জন্য এক বুক কান্না, আর দীর্ঘশ্বাস নিয়ে ভারত গমনের প্রাক্কালে বাজুয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছিল সহায় সম্বল হীন স্বাধীনতা কামী শত শত শরনার্থীরা।

কিন্তু পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের স্থানীয় দোসর যার অদ্যাক্ষর ল এর নির্দেশনায় বাংলা ১৩৭৮ সালের ২৭শে বৈশাখ, ইং১৯৭১ সনের ১২ ই মে বুধবার আগত শরনার্থীরা দুপুরের পর যখন বাজুয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে রান্না ও খাওয়ার আয়োজন, তখন একটি গানবোটে করে ৮-১০ পাকিস্তানী সেনা ও স্থানীয় দোসর অদ্যাক্ষর ল এর নির্দেশনায় আকস্মিক বুলেটের আঘাতে বর্বরোচিত নির্মম নিম্ঠুর হত্যাকান্ড সংগঠিত করে বাজুয়াকে বিভৎস বধ্যভুমিতে পরিনত করে। শত শত শহীদদের রক্তের বন্যায় ভেসে যায় বাজুয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের শ্রেনী কক্ষ খেলার মাঠও বাজুয়ার শ্যামল মৃত্তিকা। সেই সব গনহত্যা আজ বিস্মৃতির অতল গহবরে বিলিন হলেও স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে একটি কলঙ্ক জনক অধ্যায় হিসাবে আমাদের অন্তরকে আন্দোলিত করে শোক আর বেদনার বিমুর্ত প্রতিক হিসাবে।

তাই তো স্বজন হারানোর বেদনায় আজও আমরা মূহ্যমান। আমাদের চোখের জমাটবাধা শুকানো অশ্রু একাত্তরের সেই ভয়াল দিন রাত্রির কাছে নিয়ে যায় বার বার। তাই তো আমরা কয়েক জনে হৃদয়ের গভীরতম উপলদ্ধি দিয়ে অনুভব করে ছিলাম সেই সকল শহীদদের স্বরনে বাজুয়ায় একটি বধ্যভুমির স্মৃতিসৌধ নির্মানের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যোগ্য উত্তর সুরী, মাননীয় প্রধান মন্ত্রী দেশ রত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের সেই দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পুরন করেছেন বধ্যভুমি নির্মান করে কৃতজ্ঞ চিত্তে ধন্যবাদ জানাই মাননীয় প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে। এই সকল কথা বলেন বধ্যভূমিতে মাল্যদান করতে গিয়ে বাজুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মানস কুমার রায়। বিদ্যালয়ের ছাত্র- ছাত্রীদের সামনে তিনি সেই দিনের সেই ইতিহাস উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন এই স্মৃতি সৌধ কালান্তরের প্রজন্মের কাছে স্বাক্ষ্য দেবে মহান মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীর নির্মম বর্বরতা। সাহস আর প্রেরনা যোগাবে অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতিক হিসাবে। এবং এই স্মৃতিসৌধ ছুয়ে সাহসী যৌবনে আন্দোলনের শফত নিতে পারবে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনা বিরোধী অপতৎপরতার বিরুদ্ধে। তাই আসুন পৃথিবীর এই সংকটময় মুহুর্তে স্বাস্থ্য বিধি মেনে বাজুয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের বধ্যভুমিতে ১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে যারা শহীদ হয়েছিল তাদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্বরন করি।