মাগুরা প্রতিনিধি ।।
মাগুরার জগদল গ্রামে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে বিরোধের জেরেই ৪ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনার আগের রাতেই নজরুল মেম্বরের বাড়িতে এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা নেয়া হয়।
সোমবার বিকাল সাড়ে ৩টায় মাগুরা পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার জহিরুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
পুলিশ সুপার জহিরুল ইসলাম জানান, আসামিদের আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ থেকে জানা গেছে হত্যাকাণ্ডের দুই দিন আগে নজরুল মেম্বরের বাড়িতে এই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। সেখানে ঘটনার সময়ে কে কোন ভূমিকায় থাকবে সে সব বিষয়ও নির্দিষ্ট করা হয়। তবে পরিকল্পিত এই হত্যাকাণ্ডে স্থানীয়দের পাশাপাশি পেশাদার একাধিক খুনির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আসামিদের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের পর সেসব বিষয় নিশ্চিত হওয়া যাবে বলেও তিনি জানান।
এর আগে রোববার ভোরে ঢাকার গাবতলি এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় ৪ হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি নজরুল মেম্বরসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আসামিদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রামদা, ছ্যানদা ও সড়কি উদ্ধার করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে আসামিদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ আরও অনেক তথ্য পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গত ১৫ অক্টোবর বিকালে মাগুরায় সদর উপজেলার জগদল গ্রামে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে বিরোধের জেরে প্রকাশ্য দিবালোকে একই পরিবারের কবির মোল্যা, সবুর মোল্যা, রহমান মোল্যা এবং পাশের গ্রামের ইমরান নামে এক যুবক নিহত হয়। এ ঘটনার তিনদিন পর সদর থানায় জগদল ইউনিয়নের বর্তমান মেম্বর নজরুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে নিহতদের অপর ভাই আনোয়ার হোসেন ৬৮ জনের নামে মামলা দায়ের করেন।
এ ঘটনার পর রোববার ভোরে ঢাকার গাবতলি এলাকার মহম্মাদিয়া আবাসিক হোটেল অভিযান চালিয়ে মামলার মূল আসামি নজরুল মেম্বর এবং জালাল শেখ, তুহিন হোসেন, রিয়াজ হোসেন এবং ইয়ামিন হোসেন নামে এজাহার নামিয় আরও ৪ আসামীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পুলিশ সুপারের প্রেস ব্রিফিংয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের পাশাপাশি মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুল হাসান, হত্যা মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা মাগুরা গোয়েন্দা শাখার ওসি জয়নাল আবেদীন মণ্ডলসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।











































