Home আঞ্চলিক খুলনার চাঞ্চল্যকর তয়ন হত্যা মামলার ৫ আসামিকে কারাগারে প্রেরণ : রায় ৩মার্চ

খুলনার চাঞ্চল্যকর তয়ন হত্যা মামলার ৫ আসামিকে কারাগারে প্রেরণ : রায় ৩মার্চ

6

স্টাফ রিপোর্টার

নগরীর খালিশপুর থানার চাঞ্চল্যকর কাজী তাসফিন হোসেন তয়ন (৩২) হত্যা মামলার আর্গুমেন্ট (যুক্তিতর্ক) শেষ হয়েছে। একই সাথে মামলার রায় আগামি ৩মার্চ ঘোষণার জন্য দিন নির্ধারন করেছে খুলনার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। গত সোমবার থেকে আর্গুমেন্ট অর্থাৎ যুক্তিতর্ক শুরু হয়েছিলো। লোমহর্ষক এ হত্যা মামলার ৫জন আসামি জামিনে ছিলেন। গতকাল বুধবার আদালতে হাজির হলে ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. নজরুল ইসলাম খান তাদেরকে সি-ডব্লিউ মুলে জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন। জেল হাজতে প্রেরণ করা ৫আসামিরা হলেন কাজী ফরহাদ হোসেন, কাজী সাব্বির হোসেন ফাহিম, কাজী রওনাকুল ইসলাম রনো, কাজী মাসুম ও সাইফুল। এছাড়া আসামি কাজী মুরাদ পুর্বে থেকেই জেল হাজতে রয়েছে। চার্জশিটভুক্ত ৭জন আসামির মধ্যে বর্তমানে ৬জনই জেল হাজতে আছেন। আসামি মো. জাকির বাকী পলাতক রয়েছে।

নিহত (ভিকটিম) তয়ন খালিশপুর থানাধীন মুজগুন্নী মেইন রোডস্থ কাজী ফেরদৌস হোসেন তোতার ছেলে। ৩২ বছর বয়সী এই যুবককে ২০১৮ সালের ২৮ আগষ্ট রাতে একটি সংঘবদ্ধ চক্র হত্যা করে একটি ডোবার মধ্যে লাশ চাপা দিয়ে রাখে। পরে মোবাইল ট্রাকিং করে আসামী গ্রেফতারের পর পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। চলতি বছরেই মামলাটি চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক মামলা হিসেবে চিহ্নিত করে দ্রুত বিচারের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মামলাটি খুলনার বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে প্রেরণ করে (দ্রুত মামলা নং-০১/২০২০)।

মামলার বিবরণে জানা যায়, কাজী তাসফিন হোসেন তয়ন(৩২) ২০১৮ সালের ২৮ আগষ্ট বিকেলে নিখোঁজ হলে তার পিতা কাজী ফেরদৌস হোসেন তোতা ওই বছর ৮ সেপ্টেম্বর খালিশপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার পর খালিশপুর থানা পুলিশ মোবাইল ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে সন্দেহজনক আসামী সাইফুল ইসলাম গাজীকে গ্রেফতার করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল স্বীকার করেন যে, তিনিসহ তার সহযোগীরা ২৮ আগষ্ট রাত ৯ থেকে সাড়ে নয়টার মধ্যে তয়নকে হত্যা করে মৃতদেহ বয়রা পুলিশ লাইনের পশ্চিম পাশের মোস্তফা কামালের ডোবা জমির উত্তর পাশের কচুরিপনা ও হোগলা বনের মধ্যে চাপা দিয়ে রেখেছেন। সাইফুলের দেখানো মতে উক্ত ডোবা থেকে পিলার ও বাঁশের সাথে বাধা অবস্থায় তয়নের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে আসামী সাইফুল ও অপর সহযোগী আসামী কাজী মুরাদ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ১৬৪ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দিতে তারা জানান, তারা দু’জনসহ আরও কয়েকজনে মিলে তয়নকে হত্যা করেন। জবানবন্দিতে কাজী ফরহাদ হোসেন, কাজী সাব্বির হোসেন ফাহিম, কাজী রওনাকুল ইসলাম রনো, কাজী মাসুম ও মোঃ জাকিরের নাম উল্লেখ করা হয়। পুলিশ পরে মো. জাকির ছাড়া বাকী আসামীদের গ্রেফতার করেন। এঘটনায় তয়নের বাবা বাদি হয়ে ২০১৮ সালে ৮সেপ্টেম্বর খালিশপুর থানায় মামলা দায়ের করেন যার নং-১২। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. মিজানুর রহমান ৭জনকে অভিযুক্ত করে একই বছরের ১০ডিসেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে উল্লেখিত ২২জন স্বাীর মধ্যে ১৮জনই আদালতে তাদের স্ব্যা প্রদান করেছেন।