Home Lead ধ্বংসস্তূপে পরিণত খুলনার ‘শেখ বাড়ি’, পোকামাকড়ের বসতি

ধ্বংসস্তূপে পরিণত খুলনার ‘শেখ বাড়ি’, পোকামাকড়ের বসতি

1

স্টাফ রিপোর্টার।।

খুলনা নগরের প্রাণকেন্দ্র শের-ই-বাংলা রোডে অবস্থিত সেই ছোট ‘প্রাসাদোপম’ বাড়িটি স্থানীয়দের কাছে ‘শেখ বাড়ি’ নামেই পরিচিত। বিগত প্রায় ১৬ বছর ধরে এই বাড়িটি থেকেই নিয়ন্ত্রিত হতো সমগ্র খুলনার রাজনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, ঠিকাদারি, নিয়োগ, বদলি কিংবা রাজনৈতিক আধিপত্য। এটি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচা প্রয়াত শেখ আবু নাসেরের বাসভবন। তবে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের ঝড়ে সেই প্রতাপশালী ‘শেখ বাড়ি’ এখন রূপ নিয়েছে এক ভুতুড়ে ধ্বংসস্তূপে; যেখানে এখন মানুষের বদলে স্থান করে নিয়েছে সাপ, কুকুর, বিড়াল ও পোকামাকড়।

বাড়িটির আঙিনা বর্তমানে ব্যবহৃত হচ্ছে পিকআপ ও প্রাইভেট কারের অস্থায়ী স্ট্যান্ড হিসেবে। সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাড়িটির এক পাশে ফার্নিচার তৈরির কাঠ শুকানো হচ্ছে, আর অন্য পাশে বসানো হয়েছে একটি অস্থায়ী চায়ের স্টল। পুরো ভবনজুড়ে লতাপাতায় ঘিরে তৈরি হয়েছে এক ভৌতিক পরিবেশ। গণ-অভ্যুত্থানের ঠিক পরপর ধ্বংসস্তূপের চিত্র দেখতে যে উৎসুক জনতার ঢল নেমেছিল, এখন তা সম্পূর্ণ ফাঁকা। এমনকি আশপাশের বাসিন্দারাও সাধারণত এখন আর এই পথ মাড়ান না।

স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. হৃদয় জানান, ২০২৪ সালের ৪ ও ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিক্ষোভে শেখ বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। বড় বড় হাতুড়ি ও শাবল দিয়ে তিনতলা ভবনটি ভেঙে তছনছ করার পাশাপাশি বস্তাভর্তি টাকা প্রকাশ্যে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এ সময় সুযোগসন্ধানীরা টাকাভর্তি সিন্দুক, অলংকার ও মূল্যবান আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আবারও ক্ষোভ ছড়ালে বুলডোজার এনে বাড়িটির বড় অংশ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

জানা গেছে, আগস্টের চূড়ান্ত বিজয়ের আগেই শেখ পরিবারের সকল সদস্য আত্মগোপনে চলে যান। এরপর থেকে বাড়ির কেয়ারটেকার বা নিরাপত্তাকর্মীদেরও আর দেখা মেলেনি। তবে তিন মাস আগে শেখ হেলাল উদ্দিনের ছেলে ও বাগেরহাট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ তন্ময়ের ঘনিষ্ঠ রাফসান নামের এক যুবক কয়েক দিন এসে ভবনের আঙিনায় পথচারীদের মলমূত্র ত্যাগ না করার অনুরোধ জানান। এরপর আর কাউকেই এই বাড়ির খোঁজখবর নিতে দেখা যায়নি।

দীর্ঘ ৫৯ বছর ধরে ওই এলাকায় ব্যবসা করা শেখ মো. মহসীন নামে এক প্রবীণ দোকানদার বাড়ির এক কোণে অস্থায়ী চায়ের স্টল দিয়েছেন। তিনি জানান, বর্তমানে এই বাড়িতে শেখ পরিবারের কেউ আসেন না এবং এটি সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

এ বিষয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শেখ পরিবারের একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) মামলা দায়ের হয়েছে। এসব মামলায় তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান ও চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।