Home আঞ্চলিক স্কুলে ছাত্রী ও যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতন, অপমানে ছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা

স্কুলে ছাত্রী ও যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতন, অপমানে ছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা

0

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি।।

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় স্কুলছাত্রী ও এক যুবককে প্রকাশ্যে গাছের সঙ্গে বেঁধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের সেই দৃশ্য ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার পর অষ্টম শ্রেণির ওই ছাত্রী অপমান ও লোকলজ্জায় বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত ২৮ জুলাই (সোমবার) দুপুরে উপজেলার হাতিয়াড়া ইউনিয়নের রাহুথড় উদয়ন বিদ্যাপীঠ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা ভয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রকাশ্যে এ ঘটনার তিনদিন পার হলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর নাম রিংকি বাড়ৈ (১৩), সে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বরইভিটা গ্রামের অমৃত বাড়ৈ এর মেয়ে এবং রাহুথড় উদয়ন বিদ্যাপীঠের অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। পার্শ্ববর্তী মুকসুদপুর উপজেলার ধর্মরায়ের বাড়ি গ্রামে তার নানা স্বপন মজুমদারের বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করত।

অপর ভুক্তভোগী যুবকের নাম সূর্য বাড়ৈ। সে উপজেলার রাহুথড় গ্রামের শিবনাথ বাড়ৈ এর ছেলে। ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ জুলাই স্কুল চলাকালে রিংকিকে রাহুথড় বড় ব্রিজ থেকে ধরে ও সূর্যকে বাড়ি থেকে ডেকে এনে বিদ্যালয় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি দেবদারু গাছের সঙ্গে তাদের দুজনকে গামছা দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। এসময় উপস্থিত কয়েকজন পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।

নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর চরম লোকলজ্জা ও মানসিক যন্ত্রণায় রিংকি বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। ঘটনার পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে রাহুথড় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।

হাতিয়াড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নয়ন গোলদারের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, তাদের আপত্তিকর অবস্থায় ধরার পর এলাকার যুবকরা আমার বাড়ির ওপর দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। আমি তাদের দুইজনকে স্কুলে নিয়ে অভিভাবকদের হাতে তুলে দেই।

তবে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তারা সঠিক কাজ করেনি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রজিত সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমি ঘটনার দিন স্কুলে ছিলাম না। পরে ঘটনাটি শুনেছি। স্কুলের সভাপতিও ঢাকায় ছিলেন। তিনি বাড়িতে আসছেন। তার সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সভাপতি স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা সাগর মজুমদার বলেন, যারা ঘটনা ঘটিয়েছে তারা অত্যন্ত গর্হিত কাজ করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে সঠিক বিচার করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমি পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।