নজরুল বর্ষের মাহেন্দ্রক্ষণে ‘কেডিএ এভিনিউ’ ‘বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ’ নামকরণের আবেদন
মহোদয়,
বিদ্রোহী, সাম্য ও মানবধর্মের অমর স্থপতি-আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অমলিন স্মৃতির প্রতি গভীরতম শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করছি। রূপসা, ভৈরব ও ময়ূর নদীর পলিধন্য ঐতিহ্যবাহী খুলনা নগরীর আপামর সাহিত্যপ্রেমী, গুণীজন ও সচেতন নাগরিকদের পক্ষ থেকে এই খোলা চিঠি আপনাদের সমীপে পেশ করছি।
বাংলাদেশ বর্তমানে অত্যন্ত গর্ব ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালন করছে ‘নজরুল বর্ষ’। এই বিশেষ বর্ষ কেবল বর্ষপঞ্জির পাতা উল্টানো বা আনুষ্ঠানিক আলোচনা সভা ও মঞ্চের উদ্যাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে এর মূল চেতনা অধরা থেকে যায়। নজরুল বর্ষের প্রকৃত যথার্থতা নিহিত রয়েছে জাতীয় কবিকে আমাদের নগরের ধমনীতে, প্রাত্যহিক পথচলায় এবং আধুনিক নগরসংস্কৃতির অংশে পরিণত করার মাধ্যমে। যে কবি আমাদের পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙতে শিখিয়েছেন, যে কবি সাম্যের গান গেয়ে বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্ন দেখিয়েছেন-তাঁর নাম যদি আমাদের শহরের রাজপথে প্রতিধ্বনিত না হয়, তবে নজরুল বর্ষের এই উদ্যাপন অপূর্ণ থেকে যাবে।
মহোদয়গণ, খুলনা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র এবং একটি অতি সমৃদ্ধ কৃষ্টি ও সংস্কৃতির ধারক। অথচ আধুনিক খুলনা নগরীর প্রধানতম ও সুদৃশ্য রাজপথটি আজও পরিচিত কেবল একটি প্রশাসনিক বা প্রাতিষ্ঠানিক নাম-‘কেডিএ এভিনিউ’ হিসেবে। প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় জরুরি, কিন্তু একটি নগরীর আত্মাকে সমৃদ্ধ করতে এবং নগরবাসীকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে উদ্বুদ্ধ করতে রাজপথের নাম হওয়া উচিত জাতীয় ইতিহাস, কৃষ্টি ও দিকপাল ব্যক্তিত্বদের শ্রদ্ধার্ঘ্য জানিয়ে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও সাহিত্যের এক সুগভীর অধ্যায় মিশে আছে এই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পলি ও হাওয়ায়। রূপসা ও ভৈরবের জলধারা, খুলনার মুক্তিকামী মানুষের সংগ্রাম ও ভালোবাসা তাঁকে বারবার এ অঞ্চলে টেনে এনেছে। এখানকার মাটি তাঁর সৃষ্টিশীল মননকে গভীরভাবে ঋদ্ধ করেছিল। তাই রূপসাপারের এই রূপসী খুলনার সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন ও প্রশস্ত সড়ক ‘কেডিএ এভিনিউ’-কে আমাদের জাতীয় কবির নামে উৎসর্গ করার এরচেয়ে উপযুক্ত সময় ও সুযোগ আর হতে পারে না।
চিন্তা করে দেখুন মহোদয়গণ, প্রতিদিন যখন দেশ-বিদেশের হাজার হাজার মানুষ, দূর-দূরান্ত থেকে আসা পথচারী এবং নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা এই প্রশস্ত রাজপথ অতিক্রম করবে, তখন কেবল একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংক্ষেপ রূপ নয়-তাদের মুখে পরম শ্রদ্ধায় উচ্চারিত হবে ‘বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ’। সড়কটির সূচনা ও সমাপ্তি পয়েন্টে কেডিএ ও কেসিসির যৌথ উদ্যোগে যদি একটি নান্দনিক ‘নজরুল স্মারক চত্বর’ কিংবা কবির কালজয়ী কবিতা ও গানের পংক্তি খোদাই করা স্মারকফলক স্থাপন করা হয়, তবে খুলনা নগরীর সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক মর্যাদা এক অনন্য উচ্চতায় উন্নীত হবে। এটি খুলনাকে সমগ্র দেশের সামনে এক আধুনিক ও সংস্কৃতিমনস্ক নগরী হিসেবে পুনপ্রতিষ্ঠিত করবে।
অতএব, নজরুল বর্ষের মহান তাৎপর্য ও ঐতিহাসিক যথার্থতা বিবেচনা করে এবং সচেতন নগরবাসীর দীর্ঘদিনের ব্যাকুল আকুলতাকে সম্মান জানিয়ে ‘কেডিএ এভিনিউ’-কে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ’ হিসেবে পুনর্নামকরণের প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক, আইনি ও নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে আপনাদের বলিষ্ঠ পদক্ষেপ কামনা করছি।
নজরুল বর্ষে কেডিএ ও কেসিসির এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত খুলনার ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ও স্বর্ণোজ্জ্বল মাইলফলক হয়ে থাকবে।
ধন্যবাদান্তে,
নজরুলপ্রেমী ও সচেতন খুলনা নগরবাসীর পক্ষে
মিজানুর রহমান মিলটন
সম্পাদক ও প্রকাশক
দৈনিক খুলনাঞ্চল।










































