পাইকগাছা প্রতিনিধি
দুর্বিষহ দিন কাটছে বিরল রোগে আক্রান্ত খুলনার পাইকগাছা উপজেলার সেই ‘বৃক্ষমানব’ আবুল বাজনদারের (৩২)। তার হাত-পায়ে আবারও শিকড় বেরিয়েছে। বর্তমানে শারীরিক যন্ত্রণার পাশাপাশি হাত দিয়ে তিনি কোনো কাজ করতে পারেন না। এতে অর্থ সংকটে পড়েছে তার পরিবার। করোনা পরিস্থিতিতে তার চিকিৎসাও হচ্ছে না।
পাইকগাছার সরল এলাকার আবুল বাজনদারের হাত-পায়ে ১৩ বছর আগে শিকড় গজায়। ২০১৬ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে অপারেশনের মাধ্যমে সেগুলো কেটে ফেলা হয়। কিন্তু অপারেশনের আগের তুলনায় এখন শিকড়গুলো বেড়ে গেছে। যন্ত্রণায় বর্তমানে দুর্বিষহ দিন কাটছে তার।
আবুল বাজনদার জানান, হাতে সারাক্ষণ অসহনীয় জ্বালা-যন্ত্রণা হয়। ব্যথার ওষুধ খাওয়ার পরও রাতে ঘুমাতে পারেন না তিনি। করোনা পরিস্থিতির কারণে ঢাকায় চিকিৎসা করাতে যেতে পারেননি। তিনি জানান, বর্তমানে অর্থাভাবে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে দিন পার করছেন তিনি। নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজগুলোও তাকে করে দেন তার স্ত্রী। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এ রোগ পুরোপুরি ভালো হবে না। মাঝে মাঝে অপারেশনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
আবুলের স্ত্রী হালিমা বেগম জানান, তার বড় মেয়ে তাহিরার বয়স সাড়ে সাত বছর, আর ছোট মেয়ে সাহেরার বয়স ১০ মাস। স্বামীর কোনো আয় না থাকায় তাদের সংসার খুবই কষ্টে চলে। এ সময় তার স্বামীর চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আর্থিক সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
খুলনার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. সাইদুল ইসলাম জানান, খুলনার কোনো হাসপাতালে এই রোগের চিকিৎসা নেই। সে কারণে আবুলকে আবারও ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। এ ব্যাপারে আবুল জানান, ঢাকার চিকিৎসকদের সঙ্গে সম্প্রতি যোগাযোগ করেছেন তিনি। তারা তাকে একা ঢাকায় হাসপাতালে যেতে বলেছেন। কিন্তু তিনি নিজের কাজ নিজে করতে না পারায় তার সঙ্গে স্ত্রী ও মেয়েদের নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে ইতিবাচক ফলাফল এলে তিনি ঢাকায় যাবেন।











































