Home আলোচিত সংবাদ থানায় এমপি রুমিন ফারহানা-ওসির বাগবিতণ্ডা

থানায় এমপি রুমিন ফারহানা-ওসির বাগবিতণ্ডা

1


খুলনাঞ্চল রিপোর্ট।।

দুর্গাপূজায় সরাইল থানা পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কিংবা সৌজন্যমূলক আচরণ না পেয়ে এবং আরও কিছু অভিযোগে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কক্ষে বসেই ক্ষোভ প্রকাশসহ ওসির সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন স্থানীয় স্বতন্ত্র এমপি ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। বৃহস্পতিবার রাতে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়ার কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। রুমিন ফারহানা ওসির বিরুদ্ধে ঘুষ-দুনীর্তি, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়িতে দাওয়াত খাওয়াসহ নানা অভিযোগ আনেন।

তবে ওসি মঞ্জুর কাদের ভূইয়া তার বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা এমপির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের শেল্টার দেওয়ার অভিযোগ আনেন। এ সময় থানা প্রাঙ্গণে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

রুমিন ফারহানা থানায় বসে ওসির উদ্দেশ্যে বলেন, ‘কতবার রিকোয়েস্ট করেছি যে, নিরাপত্তা দেওয়া হোক। আমাকে বিজয়নগরে নিরাপত্তা দিয়েছে, আশুগঞ্জে নিরাপত্তা দিয়েছে। আইনে আছে যে, নির্বাচিত এমপি নিরাপত্তা চইলে লোকাল এরিয়াতে নিরাপত্তা দিতে হবে। গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগের সময় একজন এমপি গুলিবিদ্ধ এবং মারা যাওয়ার পর এই আইনটা হয়। উনি ফোনই ধরেন না এবং বলেন, উনি নির্বাচিত এমপি, উনার নিরাপত্তা মানুষ দেবে।’

তিনি বলেন, ‘এজন্যই দেখতেছেন, বাইরে আরও ৫-১০ হাজার মানুষ আছে। ওরা আমার নিরাপত্তা দিচ্ছে। আমার তো নিরাপত্তা লাগবে, তাই না? তাই মানুষ আমার নিরাপত্তা দিচ্ছে।’

ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে তিনি বলেন, ‘উনার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, মাটি কাটা থেকে পয়সা নেওয়া, বালু,ইটের ভাটার পয়সা নেওয়া ইত্যাদি বিস্তর অভিযোগ। কোনো ঘটনা ঘটলে আপনারা জানেন যে, এলাকাটা দাঙ্গাপ্রবণ। দাঙ্গা হওয়ার পরে যখন সব শান্ত হয় তখন উনারা ধীরেসুস্থে যান। এই বিষয়গুলো আজকে জানতে এসেছিলাম। উনি যে ব্যবহার আমার সঙ্গে করেছেন, সেটা একজন নির্বাচিত এমপির সাথে আসলে করা যায় না।’

এদিকে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া জানান, সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা এসেছিলেন। উনি এক-দেড়শ লোক নিয়ে থানার মধ্যে হৈচৈ করে একটি অস্থিরতা তৈরি করেন। আমার অফিস কক্ষের মধ্যে কয়েকশ লোক ঢুকে এখানে একটা বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন। উনি কিছু লোককে শিখিয়ে এনেছেন যে, আমার বিরুদ্ধে আজেবাজে কথাবার্তা বলবে, যা আমি প্র্যাকটিস করি না। উনি বলেছেন, আমি নাকি কোনো এক আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে গিয়ে ভাত খেয়ে আসছি। আমি কখনও কারও দাওয়াতেই যাই না। বিয়ের দাওয়াতেও যাই না। রাষ্ট্রীয় প্রোগাম ছাড়া কোনো খাবারে যোগ দিই না। শুধু সরকারি প্রোগাম যেখানে ইউএনও থাকেন, ম্যাজিস্টেট থাকেন, তখন আমি যাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘উনি লোক সাজিয়ে নিয়ে এসেছেন। সেই লোক বলেন, আমাকে নাকি মামলার আসামি ছাড়ার ব্যাপারে ৩০ হাজার টাকা দিয়েছেন। লোকটাকে আমি কোনোদিন দেখেছি বলে আমার মনে পড়ে না। আসামিরা আসে, অফিসাররা ধরে হাজতে পাঠায়। আবার কোর্টে চলে যায়। আমার সাথে কোনো প্রয়োজনই হয় না। সেই লোক নাকি আমাকে ৩০ হাজার টাকা দিয়েছে। এটা তো উনার শেখানো বিষয়।’

ওসি বলেন, ‘উনি বলেছেন যে, ব্রিকফিল্ড থেকে টাকা নিই। ব্রিকফিল্ড এখানে কই? হাওড় অঞ্চল, সবগুলো পানির নিচে। উনি এই অভিযোগটা কোত্থেকে আনলেন? আমি এতে খুব দুঃখ পেয়েছি। পূজার মধ্যে আমাদের কঠিন প্রোগাম ছিল। আমরা সামগ্রিকভাবে পুরো থানা এলাকার পূজামণ্ডপকে নিরাপদে রেখেছি।’

ওসি আরও বলেন, ‘উনি বলেছেন রেকর্ড আছে। উনি তো রেকর্ড দেখাইতে পারেন নাই। আমি নিরাপত্তা দিই ,অস্বীকার করবো কেন? এই থানা এলাকায় প্রত্যেকটা পূজামণ্ডপে আমরা সামগ্রিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছি।’

তিনি বলেন, এখন উনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় গানম্যান চাইতে হবে, সেটা আলাদা বিষয়। উনি এসপির কাছে চাইবেন, গানম্যান ইস্যু হলে গানম্যান থাকবে। কিন্তু একটা টিম উনার সাথে ওইভাবে এনগেজ রাখা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না।

তিনি বলেন, এর মধে উনি লোকজন নিয়ে, উনার অনুসারীদের নিয়ে আমার কক্ষে এসে অবরুদ্ধ করেছেন, মব করেছেন। থানার বাইরে মিছিল করেছেন। আমি জানি না, এখানে আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো লোকজন ছিল কিনা। কারণ তিনি ওদের না ধরার জন্য আমাকে সবসময় প্রেশারাইজড করেন। এই যে আজকে যেগুলো আসছে, আমি চিনিও না ওদের সবাইকে। হয়তো পরবর্তীতে জানা যাবে। উনারা থানার মধ্যে খুব বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন। আমি নোট ডাউন করে রেখেছি। এ সময় ওসির কক্ষে রুমিন ফারহানার সমর্থকরা ওসির সাথে তর্কে লিপ্ত হয়। তাদের ভিডিও ধারণ করার জন্যও সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা থানায় অবস্থানের সময় তার সমর্থক কয়েকশ নেতাকর্মী থানার বাইরে রুমিন ফারহানার পক্ষে এবং ওসির বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় থানা এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।