Home Lead মাদ্রাসায় শিশুদের নিরাপত্তা কোথায়?

মাদ্রাসায় শিশুদের নিরাপত্তা কোথায়?

0


পাবনা, নড়াইল, টঙ্গী ও সাতক্ষীরায় শিক্ষার্থী নিপীড়নের অভিযোগ, গ্রেপ্তার শিক্ষক ও পরিচালক; কোথাও ক্ষুব্ধ জনতার ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ


স্টাফ রিপোর্টার।।


শিক্ষার আলো ছড়ানোর প্রতিষ্ঠান মাদ্রাসা। ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার প্রত্যাশা নিয়ে অভিভাবকেরা সেখানে সন্তানদের পাঠান। কিন্তু সেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই শিশু শিক্ষার্থীদের যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ একের পর এক সামনে আসায় উদ্বেগ বাড়ছে। পাবনা, নড়াইল, গাজীপুরের টঙ্গী ও সাতক্ষীরায় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়ন বা ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শিক্ষক ও পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার এবং পুলিশের তদন্তের ঘটনা ঘটেছে। পাবনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।


শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসব ঘটনার তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগগুলোর ধরন ও প্রেক্ষাপট আলাদা হলেও প্রতিটি ঘটনায় শিশুদের নিরাপত্তা, আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তদারকি এবং অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।


পাবনায় ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, মাদ্রাসায় আগুন: পাবনার সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের ভাউডাঙ্গা কালুরপাড়া এলাকায় অবস্থিত নুরে মদিনা আবাসিক মহিলা মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আবু ইউসুফকে আটক করেছে পুলিশ।


অভিযোগ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ওই ছাত্রীকে নিজের শয়নকক্ষে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন পরিচালক। এ সময় এক সহপাঠী বিষয়টি দেখে চিৎকার করলে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করেন এবং অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নেয়।


শুক্রবার সকালে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মাদ্রাসাটিতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ জানান, ভুক্তভোগী শিশুটির চাচা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।


নড়াইলে ১০ বছরের ছাত্রীর অভিযোগ, তদন্তে পুলিশ: নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় ১০ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে শিক্ষক মুফতি শরীফ শহিদুল্লাহর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুটির নানা কালিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।


অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২০ অক্টোবর দুপুরে পানি আনতে বলার পর ওই ছাত্রীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পর্শ করেন শিক্ষক এবং ধর্ষণের চেষ্টা করেন। ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে বাড়িতে ফিরে শিশুটি তার নানাকে বিষয়টি জানায়।


অভিযোগ অস্বীকার করে শিক্ষক শরীফ শহিদুল্লাহ ঘটনাটিকে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন। কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইদ্রিস আলী জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


টঙ্গীতে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, শিক্ষক কারাগারে: গাজীপুরের টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকায় সাত বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে করিওল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মুসলেউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


পরিবারের অভিযোগ, শিশুটি কয়েক দিন ধরে মাদ্রাসায় যেতে অনীহা প্রকাশ করছিল। কারণ জানতে চাইলে সে শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করে। এরপর শিশুটির বাবা মাদ্রাসায় গিয়ে বিষয়টি জানতে চাইলে স্থানীয়রা জড়ো হন এবং একপর্যায়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করেন। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।


এ ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষও শিশুটির অভিভাবকদের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেছে। টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, যৌন নিপীড়নের মামলায় শিক্ষককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাল্টা মামলার বিষয়টিও আইনগত প্রক্রিয়ায় রয়েছে।


সাতক্ষীরায় ছাত্রকে নিপীড়নের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার: সাতক্ষীরার আশাশুনিতে এক মাদ্রাসাছাত্রকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে সরাপপুর দারুসসুন্নাহ হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার প্রধান শিক্ষক মো. মোখলেছুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পরান্দাহ এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।


মামলার এজাহার অনুযায়ী, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের ছাত্র এবং আবাসিক বোর্ডিংয়ে থাকত। অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষক বিভিন্ন সময়ে তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দিতেন এবং রাজি না হওয়ায় হয়রানি ও মারধর করতেন। সর্বশেষ গত ২১ অক্টোবর সকালে একটি কাজ শেষে ফেরার পথে শিক্ষার্থীকে নিজের কক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়ন করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।


পরে বাড়িতে ফিরে শিক্ষার্থী তার বাবা-মাকে বিষয়টি জানায়। অসুস্থ বোধ করায় তাকে আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর বাবা আশাশুনি থানায় মামলা করেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহিদুর রহমান জানান, মামলার পর অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।