স্টাফ রিপোর্টার।।
বারবার প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি এবং দীর্ঘসূত্রিতার প্রবণতায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন না দিয়ে একনেক সভা থেকে ফেরত পাঠানো হয়।
মঙ্গলবার (৯ জুন) অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হলে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতি ও বারবার সময় বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, অযৌক্তিকভাবে প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি ও ব্যয় বাড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সভা সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে নির্দেশ দেন-যেসব কর্মকর্তা অবহেলা, গাফিলতি বা দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে প্রকল্পের মেয়াদ বারবার বাড়াচ্ছেন, তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
একনেক সভায় আরও বলা হয়, দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে সময়মতো কাজ শেষ না হওয়া এবং ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরে চলছে। এ অবস্থায় প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর অবস্থান নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি সব ধরনের প্রকল্পে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি বিভিন্ন দপ্তরের পৃথক রেট সিডিউলের কারণে প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এ ক্ষেত্রে দ্রুত একটি অভিন্ন রেট সিডিউল কাঠামো প্রণয়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
একনেক সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রকল্পের বারবার সংশোধনী ও সময় বৃদ্ধি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন উঠছে। সর্বশেষ সংশোধনী প্রস্তাবেও সন্তুষ্ট না হয়ে প্রধানমন্ত্রী তা ফেরত পাঠান।
এদিকে প্রকল্পটি ফের আলোচনায় আসায় সংশ্লিষ্ট মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।











































