Home আন্তর্জাতিক ১১ হাজার ক্যারেট রুবি মিলল মিয়ানমারের মোগোকে

১১ হাজার ক্যারেট রুবি মিলল মিয়ানমারের মোগোকে

5

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।

মিয়ানমারে খনিশ্রমিকরা একটি বিশাল আকারের বিরল রুবি পাথর খুঁজে পেয়েছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ‘গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমার’ শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে। এটি ওজনের দিক থেকে মিয়ানমারে পাওয়া দ্বিতীয় বৃহত্তম রুবি হিসেবে ধরা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১১ হাজার ক্যারেটের এই রুবি পাথরটির ওজন প্রায় ২.২ কেজি বা ৪.৮ পাউন্ড।

এটি পাওয়া গেছে মান্দালয় অঞ্চলের উত্তর দিকে অবস্থিত মোগোক শহরের কাছাকাছি একটি খনি এলাকা থেকে। মোগোক এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই মূল্যবান রত্নপাথরের জন্য পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির গৃহযুদ্ধের কারণে সেখানে সংঘাতও বেড়েছে।

প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়, নতুন এই অপরিশোধিত রুবিটি এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে পাওয়া যায়। তখন মিয়ানমারে ঐতিহ্যবাহী নববর্ষ উৎসব চলছিল।

এবিসি নিউজ জানায়, এর আগে ১৯৯৬ সালে মিয়ানমারে ২১ হাজার ৪৫০ ক্যারেটের একটি রুবি পাওয়া গিয়েছিল। সেটি ছিল এখন পর্যন্ত পাওয়া সবচেয়ে বড় রুবি, যার ওজন ছিল প্রায় ৪.২৯ কেজি বা ৯.৪৫ পাউন্ড। নতুন রুবিটি তার চেয়ে ছোট হলেও এর মান ও রঙের কারণে এটিকে অত্যন্ত মূল্যবান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

রুবিটির রঙ লালচে বেগুনি, যেখানে হালকা হলুদ আভাও রয়েছে। এর স্বচ্ছতা মাঝারি এবং পৃষ্ঠ বেশ উজ্জ্বল ও চকচকে।
বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ রুবি মিয়ানমারে উৎপাদিত হয়। এর প্রধান উৎস মোগোক ও মং সু এলাকা। এসব রত্ন বৈধ ও অবৈধ- দুই পথেই বাণিজ্য হয় এবং এটি দেশটির অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, এই রত্ন ব্যবসা মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর জন্য বড় আয়ের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ব্রিটেনভিত্তিক সংগঠন গ্লোবাল উইটনেসও বারবার আন্তর্জাতিক গয়না ব্যবসায়ীদের মিয়ানমারের রত্ন না কেনার আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে দেশটিতে রাজনৈতিক পরিস্থিতিও জটিল। চলতি বছর একটি নতুন বেসামরিক সরকার গঠনের ঘোষণা দেওয়া হলেও মানবাধিকার সংগঠন ও বিরোধী দলগুলো এটিকে গ্রহণ করেনি এবং নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলেছে। একই সময়ে সামরিক নেতা মিন অং হ্লাইং আবারও ক্ষমতায় আছেন বলে জানা গেছে। তিনি ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। সম্প্রতি তিনি ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা রাজধানী নেপিডোতে বিশাল এই রুবিটি পরিদর্শন করেন।

খনি অঞ্চলগুলোতে নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক স্বার্থ নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চলছে। রত্ন খনি থেকে পাওয়া আয় বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর অর্থের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যারা স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে লড়াই করছে। এর ফলে কয়েক দশক ধরে দেশটিতে সহিংসতা চলমান রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরো অস্থিতিশীল হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে মোগোক শহরের নিয়ন্ত্রণ নেয় তাআং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ), যা পালাউং জাতিগোষ্ঠীর একটি সশস্ত্র সংগঠন। পরে তারা খনিগুলোর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। তবে গত বছরের শেষ দিকে চীনের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে এসব খনির নিয়ন্ত্রণ আবার মিয়ানমার সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।