স্টাফ রিপোর্টার।।
রাত পোহালেই বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। সার্বজনীন এই উৎসব ঘিরে দেশের অন্যান্য স্থানের মতো খুলনা অঞ্চলেও চলছে বর্ষবরণের প্রস্তুতি। নগর থেকে গ্রাম- নতুন বছর ঘিরে সর্বত্রই উৎসবের আমেজ।
বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেমন চলছে শোভাযাত্রার প্রস্তুতি, তেমনি চড়ক পূজার বাদ্য বাঁজছে গ্রামাঞ্চলে।
পঞ্জিকার দিন-লগ্ন অনুযায়ী মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) চৈত্র সংক্রান্তি হওয়ায় দাকোপ, বটিয়াঘাটা, ডুমুরিয়া, রূপসা, দিঘলিয়া, ফুলতলাসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় একইসঙ্গে চলছে সংক্রান্তি ও বৈশাখীর আয়োজন। এই সময়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা।
দাকোপের বাসিন্দা অ্যাড. ধীমান মণ্ডল বলেন, ‘বর্ষবরণ বাঙালির প্রাণের উৎসব। এখানে কোনো ধর্ম-বর্ণ নেই। তবে বাংলা বছরের শেষ দিন অর্থাৎ চৈত্র সংক্রান্তিতে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় গাজন পূজা, মেলা এবং বিশেষ পূজা-পার্বণের আয়োজন করছে। পঞ্জিকা অনুযায়ী এ উৎসব অনুষ্ঠিত হওয়ায় আমাদের পয়লা বৈশাখে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন হবে।’
চৈত্র সংক্রান্তি নিয়ে কথা বলেন বটিয়াঘাটা এলাকার পলাশ মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘এই দিনটি উৎসবের। চড়ক পূজা উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে মেলা হবে। খেঁজুর ভাঙা, পিঠে বড়শি ফোঁড়ানো ও পূজা-অর্চনার আয়োজন করা হচ্ছে।’
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর জানিয়েছে, চৈত্র সংক্রান্তি-১৪৩২ ও বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ উপলক্ষে তিন দিনের কর্মসূচি নিয়েছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রথম দিনে আল্পনা উৎসব শেষ হয়েছে। উৎসবে শিক্ষার্থীরা নিজস্ব সৃজনশীলতা দিয়ে বিভিন্ন রং ও নকশায় হাদী চত্বরজুড়ে আল্পনা এঁকে ক্যাম্পাসে মনোরম পরিবেশ সৃষ্টি করে।
এ ছাড়া কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে কেন্দ্রীয় মাঠে ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খেলা ও ঘুড়ি উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। পয়লা বৈশাখের দিন সকাল ৯টায় মেলা উদ্বোধন করা হবে। সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠ থেকে বের হবে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা।
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) ক্যাম্পাসজুড়ে নববর্ষ উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ শাখার তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে শোভাযাত্রা, মেলাসহ বিভিন্ন বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। পয়লা বৈশাখে বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হবে বৈশাখী মেলা।
এছাড়া আয়োজনে থাকছে শতকণ্ঠে বর্ষবরণ, বাউল গান, ম্যাজিক শো, ট্রেজার হান্ট, মোরগ লড়াই, সার্কাস শো, নাগরদোলা প্রভৃতি।
নববর্ষের সকালে নগরীর ফরেস্টঘাটে উদীচী প্রতিবছরের মতো এবার বর্ষবরণের আয়োজন করেছে। সকাল সাড়ে ৬টায় এ অনুষ্ঠান শুরু হবে।
এদিকে, বাংলা নববর্ষকে সামনে রেখে উৎসবের আমেজে জেগে উঠেছে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পালপাড়া। বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় বর্তমানে এখানকার মৃৎশিল্পীদের কর্মব্যস্ততা কয়েকগুণ বেড়েছে। নাওয়া-খাওয়া ভুলে ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাদার মণ্ড আর চাকার ঘূর্ণিতে স্বপ্ন বুনে চলেছেন তারা। তাদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হচ্ছে হাঁড়ি, পাতিল, ফুলের টব, শোপিস, মাটির পুতুল ও নান্দনিক সব গয়না।
মহাদেব পাল, শিব শঙ্কর পালসহ কয়েকজন মৃৎশিল্পী জানান, পহেলা বৈশাখকেন্দ্রিক মেলা ও উৎসবগুলোতে মাটির জিনিসের ব্যাপক চাহিদা থাকে। এখানকার তৈরি পণ্য স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে নড়াইল, যশোর ও বাগেরহাট এবং পাশের জেলার বৈশাখী মেলা ও গ্রামীণ হাটে সরবরাহ করা হচ্ছে। মাটির পণ্যের প্রতি মানুষের আগ্রহ রয়েছে। অনেক শৌখিন মানুষ এসব পণ্য কিনছে। কিন্তু প্লস্টিক, পলিথিন, অ্যালুমুনিয়ামের দাপটে মৃৎশিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।










































