স্পোর্টস ডেস্ক।।
হালের ফুটবলে খেলোয়াড়দের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুরত্ব দেয়া হয়। এতে খেলোয়াড়দের চোটপ্রবণতা যেমন কমেছে, তেমনি তাদের কার্যকারিতাও অতীতের তুলনায় বেড়েছে। অতীত ও বর্তমানের এই তুলনা টানতে গিয়ে ডিয়েগো ম্যারাডোনা ও লিওনেল মেসির মধ্যকার তুলনাও সামনে এনেছেন সাবেক ইতালিয়ান মিডফিল্ডার দিনো ব্যাজিও।
১৯৯৪ বিশ্বকাপে রানার্সআপ হওয়া ইতালি দলের সদস্য ছিলেন দিনো। সেবারই সর্বশেষ বিশ্বকাপ খেলেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা। যদিও ডোপ টেস্টে ব্যর্থ হয়ে গ্রুপ পর্বের দুই ম্যাচ শেষে নিষিদ্ধ হন আর্জেন্টিনার তখনকার অধিনায়ক। দীর্ঘ ক্লাব ক্যারিয়ারে জুভেন্টাস, পার্মা এবং লাৎসিওর মতো বড় ক্লাবে খেলেছেন দিনো ব্যাজিও।
১৯৯২-৯৩ মৌসুমে জুভেন্টাসের হয়ে তিনি জেতেন উয়েফা কাপ। ইতালিয়ান লীগে খেলার সময় ম্যারাডোনাকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন দিনো ব্যাজিও। নাপোলির জার্সি গায়ে দুর্দান্ত ক্যাারিয়ার কাটিয়েছিলেন প্রয়াত ফুটবল জাদুকর। অসাধারণ স্কিলের অধিকারী ম্যারাডোনাকে নিজের সময়ে খেলার মাঠে ভয়ংকর সব ফাউলের শিকার হতে হয়েছিল। ম্যারাডোনা যদি এই সময়ের ফুটবলে খেলতেন তবে এমন ফাউলের শিকার হতে হতো না তাকে।
ফলে ম্যারাডোনা এক মৌসুমে হাজার গোলও করতে পারতেন। আর এ কারণেই মেসিকে নয়, সর্বকালের সেরা হিসেবে ম্যারাডোনাকে বেছে নিয়েছেন দিনো ব্যাজিও।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এএস’কে দেয়া সাক্ষাৎকারে নিজের মন্তব্যের ব্যাখ্যায় প্রথমে দুটি ভিন্ন সময়ের তুলনা টানেন ইতালির সাবেক এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার। ৫৪ বছর বয়সী দিনো ব্যাজিও বলেন, ‘আমাদের সময়ে খেলোয়াড়দের এখনকার মতো সুরক্ষা দেয়া হতো না। তখন অনেক ডিফেন্ডার ইচ্ছা করেই স্টাডস (বুটের নিচের কাঁটা, যা মাঠে খেলোয়াড়দের গ্রিপ বা নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে সাহায্য করে) তুলে পায়ের পেছনে আঘাত করতো। কারণ, তারা তা বিনা বাধায় করতে পারতো। সময়টা ছিল খুবই কঠিন। বলে লাগলো নাকি গোড়ালি, সেটা নিয়ে কারো মাথাব্যথা ছিল না। এখনকার ফুটবল অনেক সহজ হয়ে গেছে।’
এ সময় ব্যাজিওর কাছে জানতে চাওয়া হয় তিনি ডিফেন্ডার বলতে চিরো ফেরেরা, ফার্নান্দো কোটো, জিউসেপ্পে বেরগোমি, রিকার্ডো ফেরি এবং পিয়েত্রো ভিয়েরখোভোদের মতো আগ্রাসী ডিফেন্ডারদের প্রতি ইঙ্গিত করছেন কি না?
জবাবে ব্যাজিও বলেন, ‘হ্যাঁ, এরা তো ছিল। তবে আরও অনেকের নাম বলা যায়, যেমন মিহাইলোভিচ। তখনকার ফুটবলে এ বিষয়গুলোয় অনেক বেশি ছাড় দেয়া হতো। আর এই খেলোয়াড়েরা প্রতিটি ম্যাচেই নিজেদের ছাপ রেখে যেতো। আর এখন তো প্রায় ছোঁয়ার আগেই ফাউল ধরা হয়।’
এরপরই ম্যারাডোনার দৃষ্টান্ত সামনে আনেন ব্যাজিও। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৯ পর্যন্ত ইতালির জার্সি গায়ে ৬০ ম্যাচে ৭ গোল পাওয়া দিনো ব্যাজিও বলেন, ‘আজকের সময়ে ডিয়েগো ম্যারাডোনা খেললে মৌসুমে হাজার গোল করতো। নাপোলিতে থাকার সময় তাকে কতটা বাজেভাবে ফাউল করা হতো, তা কল্পনাও করতে পারবে না। আর তখনকার সময়ে মেসি খেললে, সে হয়তো সমান উজ্জ্বলই থাকতো, কিন্তু তাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়া হতো। এ কারণেই আমি বলি, ডিয়েগোই সেরা। বিশ্ব ফুটবলের ঈশ্বর।’
১৯২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ইতালির বন্দর নগরী নেপলসের ক্লাবটি ইতিহাসে প্রথমবার দেশটির শীর্ষ লীগে (সিরি আ) শিরোপার স্বাদ পায় ১৯৮৬-৮৭ মৌসুমে ম্যারাডোনারই জাদুকরী ছোঁয়ায়। পরে ১৯৮৯-৯০ মৌসুমেও নাপোলিকে এ শিরোপা এনে দেন ম্যারাডোনা। অনেকটা একক ক্যারিশমায় আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ শিরোপা (১৯৮৬) এনে দেয়া ম্যারাডোনা পরে ‘কালো মানিক’ খ্যাত ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলের সঙ্গে যৌথভাবে ফিফা’র বিংশ শতাব্দীর সেরা খেলোয়াড়ের খেতাবে ভূষিত হন।
মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর ২০২০ সালের নভেম্বরে ম্যারাডোনা আর্জেন্টিনায় নিজ বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।










































