Home আঞ্চলিক খুলনার বাজারে ডিম-মুরগির দাম বেশি, সবজিতে স্বস্তি

খুলনার বাজারে ডিম-মুরগির দাম বেশি, সবজিতে স্বস্তি

16


স্টাফ রিপোর্টার
পবিত্র রমজান ঘিরে খুলনায় নিত্যপণ্যের দামে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে পোলট্রি মুরগি ও ডিমের দাম বেড়েছে। তবে কমেছে বেশ কিছু সবজি, কাঁচা মরিচ ও পেঁয়াজের দাম।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে খুলনার নিরালা, নিউমার্কেট, দৌলতপুর বাজার, খালিশপুর চিত্রালী বাজার, ময়লাপোতার সন্ধ্যা বাজার ঘুরে এই দৃশ্য দেখা গেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে পোলট্রি মুরগির দাম কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতিকেজি বয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা। পাকিস্তানি সোনালি মুরগি ২৭০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা থেকে বেড়ে এখন ৩২০ টাকা থেকে ৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাকিস্তানি হাইব্রিড জাতের মুরগি ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে ৩০০ টাকা থেকে ৩১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া পাকিস্তানি লেয়ার মুরগি ১০ টাকা থেকে ২০ টাকা বেড়ে ২৮০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগির দাম অপরিবর্তিত থেকে কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে।
এদিকে, মুরগির ডিমের দামও কিছুটা বেড়েছে। খুচরা বাজারে পোলট্রি মুরগির ডিমের হালি ৩৪-৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ৩৫ টাকা থেকে ৩৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে জেলা প্রশাসন ও জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উদ্যোগে নির্ধারিত কিছু দোকানে গত সপ্তাহের মতোই প্রতিহালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩২ টাকায়।
দৌলতপুর বাজারের মুরগি বিক্রেতা সাব্বির হোসেন বলেন, রোজার আগে মুরগির বিক্রি কমে গিয়েছিল। এখন আবার চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে। কিন্তু সেই তুলনায় সরবরাহ কিছুটা কম থাকায় দাম বাড়ছে। ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে দাম আরো বাড়তে পারে। অন্যদিকে মাংসের বাজারে তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। নগরীর বাজারে গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৭২০ থেকে ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১১০০ টাকা কেজি দরে।
এদিকে, সবজির বাজারে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। গত সপ্তাহের তুলনায় অধিকাংশ সবজির দাম কমেছে। বিশেষ করে কাঁচামরিচ, পেঁয়াজ, বেগুন, লেবু ও শসার দাম কমে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে ক্রেতাদের মধ্যে।
বর্তমানে খুচরা বাজারে শসা কেজিপ্রতি ৩৫ টাকা থেকে ৪০ টাকা, লেবুর হালি ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকা, চিকন বেগুন ৩৫ টাকা থেকে ৪০ টাকা এবং গোল বেগুন ৪০ টাকা থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচের দামও কমে খুচরা বাজারে ৭০ টাকা থেকে ৮০ টাকা কেজিতে নেমেছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১০০ টাকা থেকে ১১০ টাকা। পেঁয়াজের দাম কমে বর্তমানে ৩০ টাকা থেকে ৩৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া টমেটো ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকা, গাঁজর ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকা, মূলা ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকা, ফুলকপি ৩৫টাকা থেকে ৪০ টাকা এবং বাঁধাকপি প্রতিপিস ১৫ টাকা থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাল কুমড়া আকারভেদে ৪০ টাকা থেকে ৪৫ টাকা, কাঁচকলার হালি ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকা, শিম ৩০ টাকা থেকে ৩৫ টাকা, পেঁপে ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকা এবং লাউ আকারভেদে ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে বরবটি ৮০ টাকা থেকে ৯০ টাকা, ধনে পাতা ৪০ টাকা থেকে ৫০ টাকা, সব ধরনের শাকের আঁটি ১০ টাকা থেকে ১৫ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সজনে কেজিপ্রতি ১৭০ টাকা থেকে ১৮০ টাকা এবং করলার দাম কমে বর্তমানে ৯০ টাকা থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খালিশপুর চিত্রালী বাজারের সবজি বিক্রেতা শরিফুল ইসলাম ও মামুন মিয়া বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় অনেক সবজির দাম কমেছে। দাম কমলে বিক্রিও বাড়ে। এতে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েরই সুবিধা হয়। মসলার বাজারেও তেমন পরিবর্তন নেই। দেশি আদা ১৫০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা, নতুন দেশি রসুন ১০০ টাকা থেকে ১১০ টাকা এবং পুরনো রসুন ১৫০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আমদানি করা রসুন বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকা থেকে ২৪০ টাকা কেজি দরে।
আলুর বাজারও স্থিতিশীল রয়েছে। খুচরা বাজারে কার্ডিনাল আলু ১৬ টাকা থেকে ১৮ টাকা, সাদা আলু ১৮ টাকা থেকে ২০ টাকা, বগুড়ার লাল পাকড়ি আলু ২০ টাকা থেকে ২৫ টাকা, শিল আলু ৩৫ টাকা থেকে ৪০ টাকা এবং ঝাউ আলু ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। প্রকার ভেদে ৮ টাকা থেকে ১০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য পণ্যের মধ্যে বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৯৫ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেল ১৯০ টাকা থেকে ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মসুর ডাল ১৭০ টাকা থেকে ১৮০ টাকা, মাঝারি ডাল ১০০ টাকা থেকে ১১০ টাকা, মুগ ডাল ১৫০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা এবং বুটের ডাল ১১০ টাকা থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খোলা চিনির দাম কিছুটা কমে বর্তমানে ১০০ টাকা ১০৫ টাকায় নেমেছে।
মাছের বাজারেও দাম মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। আকারভেদে রুই মাছ ৩০০ টাকা থেকে ৩৮০ টাকা, টেংরা ৪০০ টাকা থেকে ৫৬০ টাকা, মৃগেল ২২০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা, মিনার কার্প ২৪০ টাকা থেকে ২৮০ টাকা, পাবদা ৩০০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা, পাঙ্গাশ ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা, কাতলা ৩০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা, শিং ৩০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা এবং সিলভার কার্প ১৮০ টাকা থেকে ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
নিউ মার্কেটে বাজার করতে আসা এক ক্রেতা আবিয়া সুলতানা বলেন সবজির দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও মুরগী ও কিছু মাছের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়াও রোজার কিছু পন্যের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। যা সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। আবারো ঈদকে সামনে রেখে আরো একধাপ বৃদ্ধি পেতে পার বলে তিনি আশংকা করছেন।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, রমজান মাসে চাহিদা বাড়ার কারণে কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। তবে প্রশাসনের নজরদারি আরো জোরদার হলে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে বলে আশা করছেন ক্রেতারা।
নিউ মার্কেট বাজারের মুরগি বিক্রেতা জয়নাল মিয়া বলেন, ‘রমজান শুরু হওয়ার পর বাজারে মুরগির চাহিদা ধীরে ধীরে বাড়ছে। কিন্তু সেই তুলনায় সরবরাহ কিছুটা কম থাকায় দাম বাড়তে শুরু করেছে। ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে, চাহিদাও বাড়বে। তখন বাজারে মুরগি ও ডিমের দাম আরো কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।